শীতের সময় ঠান্ডা পানি পান করা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে নানা ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকে মনে করেন ঠান্ডা পানি পান করলে সর্দি-কাশি বাড়তে পারে, আবার অনেকে অভ্যাসবশত শীতেও ঠান্ডা পানি পান করে স্বস্তি পান। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত বলছে—শীতে ঠান্ডা পানি পান করা সরাসরি ক্ষতিকর নয়, বরং বিষয়টি মূলত ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থা ও স্বস্তির ওপর নির্ভরশীল।
চিকিৎসকদের মতে, শীতকালে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম থাকে। এই সময়ে ঠান্ডা পানি পাকস্থলীতে পৌঁছালে হজমক্রিয়া সাময়িকভাবে ধীর হতে পারে। বিশেষ করে যাদের সাইনাসের সমস্যা, গলায় প্রদাহ বা গলা ব্যথা রয়েছে—তাদের ক্ষেত্রে ঠান্ডা পানীয় অস্বস্তি বাড়াতে পারে। পুষ্টিবিদরা সতর্ক করে বলেন, ঠান্ডা পানি সরাসরি সর্দি-কাশি সৃষ্টি না করলেও—বিদ্যমান উপসর্গগুলোকে বাড়িয়ে দিতে পারে।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে ঠান্ডা পানি পান করলে ওজন বাড়ে—এমন ধারণাকে ভ্রান্ত বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ওজন বাড়া বা কমা নির্ভর করে খাবারের ক্যালরি, শারীরিক কার্যক্রম ও বিপাকক্রিয়ার ওপর; পানির তাপমাত্রা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নয়। শীতকালে তৃষ্ণা কম অনুভূত হওয়ায় মানুষ অনেকে পানি কম পান করে, যার ফলে শরীর অজান্তেই ডিহাইড্রেটেড হতে পারে। তাই এই সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান করার ওপর জোর দেন চিকিৎসকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের দাঁতে সংবেদনশীলতা, হাঁপানি, গলা খারাপ বা হৃদরোগ রয়েছে—তাদের ঠান্ডা পানি পান করলে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এই ধরনের শারীরিক অবস্থা থাকলে গরম বা কুসুম গরম পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে যাদের এসব সমস্যা নেই, তারা শীতেও ঠান্ডা পানি পান করতে পারেন, এতে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই।
সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য—শীতে ঠান্ডা পানি পান করাটা বিপজ্জনক নয়। ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, আরামবোধ এবং অভ্যাস অনুযায়ী পানির তাপমাত্রা বেছে নেওয়াই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত। তবে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—শীতেও পর্যাপ্ত পানি পান করে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
শীতের সময় ঠান্ডা পানি পান করা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে নানা ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকে মনে করেন ঠান্ডা পানি পান করলে সর্দি-কাশি বাড়তে পারে, আবার অনেকে অভ্যাসবশত শীতেও ঠান্ডা পানি পান করে স্বস্তি পান। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত বলছে—শীতে ঠান্ডা পানি পান করা সরাসরি ক্ষতিকর নয়, বরং বিষয়টি মূলত ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থা ও স্বস্তির ওপর নির্ভরশীল।
চিকিৎসকদের মতে, শীতকালে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম থাকে। এই সময়ে ঠান্ডা পানি পাকস্থলীতে পৌঁছালে হজমক্রিয়া সাময়িকভাবে ধীর হতে পারে। বিশেষ করে যাদের সাইনাসের সমস্যা, গলায় প্রদাহ বা গলা ব্যথা রয়েছে—তাদের ক্ষেত্রে ঠান্ডা পানীয় অস্বস্তি বাড়াতে পারে। পুষ্টিবিদরা সতর্ক করে বলেন, ঠান্ডা পানি সরাসরি সর্দি-কাশি সৃষ্টি না করলেও—বিদ্যমান উপসর্গগুলোকে বাড়িয়ে দিতে পারে।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে ঠান্ডা পানি পান করলে ওজন বাড়ে—এমন ধারণাকে ভ্রান্ত বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ওজন বাড়া বা কমা নির্ভর করে খাবারের ক্যালরি, শারীরিক কার্যক্রম ও বিপাকক্রিয়ার ওপর; পানির তাপমাত্রা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নয়। শীতকালে তৃষ্ণা কম অনুভূত হওয়ায় মানুষ অনেকে পানি কম পান করে, যার ফলে শরীর অজান্তেই ডিহাইড্রেটেড হতে পারে। তাই এই সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান করার ওপর জোর দেন চিকিৎসকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের দাঁতে সংবেদনশীলতা, হাঁপানি, গলা খারাপ বা হৃদরোগ রয়েছে—তাদের ঠান্ডা পানি পান করলে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এই ধরনের শারীরিক অবস্থা থাকলে গরম বা কুসুম গরম পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে যাদের এসব সমস্যা নেই, তারা শীতেও ঠান্ডা পানি পান করতে পারেন, এতে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই।
সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য—শীতে ঠান্ডা পানি পান করাটা বিপজ্জনক নয়। ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, আরামবোধ এবং অভ্যাস অনুযায়ী পানির তাপমাত্রা বেছে নেওয়াই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত। তবে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—শীতেও পর্যাপ্ত পানি পান করে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা।

আপনার মতামত লিখুন