ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

নাহিদ ইসলামের হলফনামা ঘিরে বিভ্রান্তি: ব্যাখ্যা দিল এনসিপি


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬

নাহিদ ইসলামের হলফনামা ঘিরে বিভ্রান্তি:  ব্যাখ্যা দিল এনসিপি
নাহিদ ইসলাম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। কিন্তু তাঁর নির্বাচনি হলফনামা নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভুল তথ্য ও দাবির ভিত্তিতে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রাধান্য পেয়েছে তাঁর সম্পদ ও বার্ষিক আয়ের প্রকৃতি সংক্রান্ত বিষয়টি। এনসিপি ও সংশ্লিষ্ট সংবাদ সূত্রগুলো থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভুলধারণা কাটিয়ে এই বিতর্কে পরিষ্কার বিবৃতি এসেছে দলটির পক্ষ থেকে। 

হলফনামায় নাহিদ ইসলাম তাঁর মোট সম্পদ ৩২.১৬ লাখ টাকা হিসেবে দেখিয়েছেন, তবে কিছু ভুল স্ট্যাটাস ও পোস্টে বলা হয়েছে যে এটি ঠিকভাবে ব্যাখ্যা হয়নি বা ‘অস্পষ্ট’ উৎস থেকে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে এনসিপি আপন নিজস্ব ব্যাখ্যা ও তথ্য সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরেছে। 

নাহিদ ইসলামের হলফনামায় দেখা যায়, তিনি এখন পেশায় পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন এবং তাঁর বার্ষিক আয় প্রায় ১৬ লাখ টাকা বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। এটি তাঁর হলফনামার তথ্য—যা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিরূপভাবে ব্যাখ্যা হওয়া শুরু হলে দলটি পরিষ্কার করে জানিয়েছে এই আয়ের উৎস পরামর্শদাতা হিসেবে তাঁর পেশাগত কাজ থেকে এসেছে। 

এনসিপির পক্ষ থেকে অনেকেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে নাহিদ ইসলামের সম্পদ ও আয় সম্পর্কিত তথ্য সমন্বিত হিসাব — যেখানে তাঁর ব্যক্তিগত সঞ্চয়, পরামর্শক হিসেবে আয়, মূলত তাঁর রাজনৈতিক ও পেশাগত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ — সব মিলিয়ে এই পরিমাণ দেখানো হয়েছে। দলটি বলেছে, এই তথ্যই তিনি নির্বাচন কমিশনে প্রদান করেছেন এবং কোনো গোপন অর্থ বা ভুল তথ্য এখানে নেই। 

বিশ্লেষক ও সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী নাহিদ ইসলামের সম্পদগুলোতে রয়েছে নগদ, ব্যাংক ব্যালান্স ও অন্যান্য সরঞ্জাম-সম্পদসহ মোট ৩২.১৬ লাখ টাকার হিসাব, এবং তিনি কোনো স্থাবর সম্পদ বা মামলার সত্তা নেই বলে উল্লেখ করেছেন। সেই সঙ্গে তাঁর শীর্ষ আয়ের উৎস পরামর্শক হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে। 

সরকারি নিয়ম অনুসারে নির্বাচনি হলফনামা দাখিলের সময় একজন প্রার্থীকে তাঁর সম্পদ, আয়, পেশা, দায় ও অন্যান্য বৈধ তথ্য স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করতে হয় এবং কেউ যদি ভুল তথ্য প্রদান করেন, তাহলে নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বর্জন বা পদ খালি করতেও পারে। --- এই নিয়ম অনুযায়ী নাহিদ ইসলামের তথ্য আইনি দিক থেকে স্বচ্ছ ও বৈধ বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। 

একই সঙ্গে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো কিছু ভুল দাবির মধ্যে অন্যতম ছিল যে নাহিদ ইসলাম ‘শিক্ষক’ বা অন্য কোনো পেশা থেকে অর্থ উপার্জন করছেন — যা তিনি ও এনসিপি উভয়ই খণ্ডন করেছে, এবং স্পষ্ট বলে এসেছে যে তাঁর পেশা হলো পরামর্শক এবং আয়-সম্পদ হিসাবও সেই ভিত্তিতে উঠে এসেছে। 

এ ব্যাপারে এনসিপি সূত্রগুলো বলছে, এই ধরণের ভুল ব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তি রাজনীতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েছে, তবে প্রার্থী ও দল উভয়ই তাদের তথ্য স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করেছে এবং নির্বাচন কমিশনে তা জমা দিয়েছে। 

 নাহিদ ইসলামের হলফনামায় উল্লেখিত আয়-সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য—যেমন ১৬ লাখ টাকার বার্ষিক আয় ও ৩২ লাখ টাকার মোট সম্পদ—সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বৈধ ভাবে দেখানো হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর দাবি ও ভুল ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে এনসিপি এই তথ্যগুলো পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে। 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


নাহিদ ইসলামের হলফনামা ঘিরে বিভ্রান্তি: ব্যাখ্যা দিল এনসিপি

প্রকাশের তারিখ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। কিন্তু তাঁর নির্বাচনি হলফনামা নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভুল তথ্য ও দাবির ভিত্তিতে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রাধান্য পেয়েছে তাঁর সম্পদ ও বার্ষিক আয়ের প্রকৃতি সংক্রান্ত বিষয়টি। এনসিপি ও সংশ্লিষ্ট সংবাদ সূত্রগুলো থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভুলধারণা কাটিয়ে এই বিতর্কে পরিষ্কার বিবৃতি এসেছে দলটির পক্ষ থেকে। 

হলফনামায় নাহিদ ইসলাম তাঁর মোট সম্পদ ৩২.১৬ লাখ টাকা হিসেবে দেখিয়েছেন, তবে কিছু ভুল স্ট্যাটাস ও পোস্টে বলা হয়েছে যে এটি ঠিকভাবে ব্যাখ্যা হয়নি বা ‘অস্পষ্ট’ উৎস থেকে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে এনসিপি আপন নিজস্ব ব্যাখ্যা ও তথ্য সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরেছে। 

নাহিদ ইসলামের হলফনামায় দেখা যায়, তিনি এখন পেশায় পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন এবং তাঁর বার্ষিক আয় প্রায় ১৬ লাখ টাকা বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। এটি তাঁর হলফনামার তথ্য—যা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিরূপভাবে ব্যাখ্যা হওয়া শুরু হলে দলটি পরিষ্কার করে জানিয়েছে এই আয়ের উৎস পরামর্শদাতা হিসেবে তাঁর পেশাগত কাজ থেকে এসেছে। 

এনসিপির পক্ষ থেকে অনেকেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে নাহিদ ইসলামের সম্পদ ও আয় সম্পর্কিত তথ্য সমন্বিত হিসাব — যেখানে তাঁর ব্যক্তিগত সঞ্চয়, পরামর্শক হিসেবে আয়, মূলত তাঁর রাজনৈতিক ও পেশাগত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ — সব মিলিয়ে এই পরিমাণ দেখানো হয়েছে। দলটি বলেছে, এই তথ্যই তিনি নির্বাচন কমিশনে প্রদান করেছেন এবং কোনো গোপন অর্থ বা ভুল তথ্য এখানে নেই। 

বিশ্লেষক ও সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী নাহিদ ইসলামের সম্পদগুলোতে রয়েছে নগদ, ব্যাংক ব্যালান্স ও অন্যান্য সরঞ্জাম-সম্পদসহ মোট ৩২.১৬ লাখ টাকার হিসাব, এবং তিনি কোনো স্থাবর সম্পদ বা মামলার সত্তা নেই বলে উল্লেখ করেছেন। সেই সঙ্গে তাঁর শীর্ষ আয়ের উৎস পরামর্শক হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে। 

সরকারি নিয়ম অনুসারে নির্বাচনি হলফনামা দাখিলের সময় একজন প্রার্থীকে তাঁর সম্পদ, আয়, পেশা, দায় ও অন্যান্য বৈধ তথ্য স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করতে হয় এবং কেউ যদি ভুল তথ্য প্রদান করেন, তাহলে নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বর্জন বা পদ খালি করতেও পারে। --- এই নিয়ম অনুযায়ী নাহিদ ইসলামের তথ্য আইনি দিক থেকে স্বচ্ছ ও বৈধ বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। 

একই সঙ্গে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো কিছু ভুল দাবির মধ্যে অন্যতম ছিল যে নাহিদ ইসলাম ‘শিক্ষক’ বা অন্য কোনো পেশা থেকে অর্থ উপার্জন করছেন — যা তিনি ও এনসিপি উভয়ই খণ্ডন করেছে, এবং স্পষ্ট বলে এসেছে যে তাঁর পেশা হলো পরামর্শক এবং আয়-সম্পদ হিসাবও সেই ভিত্তিতে উঠে এসেছে। 

এ ব্যাপারে এনসিপি সূত্রগুলো বলছে, এই ধরণের ভুল ব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তি রাজনীতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েছে, তবে প্রার্থী ও দল উভয়ই তাদের তথ্য স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করেছে এবং নির্বাচন কমিশনে তা জমা দিয়েছে। 

 নাহিদ ইসলামের হলফনামায় উল্লেখিত আয়-সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য—যেমন ১৬ লাখ টাকার বার্ষিক আয় ও ৩২ লাখ টাকার মোট সম্পদ—সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বৈধ ভাবে দেখানো হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর দাবি ও ভুল ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে এনসিপি এই তথ্যগুলো পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে। 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ