এর আগে গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও বর্ধিত মূল বেতন একবারে দেওয়া হবে না। আর্থিক চাপ ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনায় এটি তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
নতুন বেতন কাঠামোতেও বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল থাকছে। সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে প্রথম গ্রেডে মূল বেতন বাড়ছে ১০০ শতাংশ এবং ২০তম গ্রেডে বৃদ্ধির হার প্রায় ১৪২ শতাংশ।
নতুন পে স্কেলের পূর্ণ মূল বেতন একবারে হাতে পাবেন না চাকরিজীবীরা। প্রথম ধাপ কার্যকর ধরা হয়েছে ১ জুলাই ২০২৬, দ্বিতীয় ধাপ ১ জানুয়ারি ২০২৭ এবং তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপ ১ জুলাই ২০২৭। অর্থাৎ এক বছরের মধ্যে তিন ধাপে নতুন মূল বেতন পুরোপুরি কার্যকর হবে।
প্রথম থেকে নবম গ্রেড পর্যন্ত চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বর্তমান ও নতুন মূল বেতনের মধ্যকার বর্ধিত অংশের ৪০ শতাংশ প্রথম ধাপে, আরও ৩০ শতাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ তৃতীয় ধাপে যোগ হবে।
উদাহরণ হিসেবে নবম গ্রেডের বর্তমান প্রারম্ভিক মূল বেতন ২২ হাজার টাকা। নতুন স্কেলে সেটি হবে ৪৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ বর্ধিত অংশ ২২ হাজার টাকা। প্রথম ধাপে এর ৪০ শতাংশ বা ৮ হাজার ৮০০ টাকা যোগ হয়ে মূল বেতন হবে ৩০ হাজার ৮০০ টাকা। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে আরও ৬ হাজার ৬০০ টাকা যোগ হয়ে হবে ৩৭ হাজার ৪০০ টাকা। আর জুলাইয়ে বাকি ৬ হাজার ৬০০ টাকা যোগ হওয়ার পর পূর্ণ মূল বেতন দাঁড়াবে ৪৪ হাজার টাকা।
নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০তম গ্রেডে বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকার মূল বেতন নতুন কাঠামোয় হবে ২০ হাজার টাকা। এই গ্রেডে বর্ধিত অংশের অর্ধেক প্রথম ধাপেই যোগ হবে। ফলে প্রথম ধাপে মূল বেতন দাঁড়াবে ১৪ হাজার ১২৫ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে তা প্রায় ১৭ হাজার ৬৩ টাকা এবং তৃতীয় ধাপে পূর্ণ ২০ হাজার টাকা হবে।
নতুন বেতন কাঠামোয় প্রথম গ্রেডে ১ লাখ ৫৬ হাজার, দ্বিতীয় গ্রেডে ১ লাখ ৩২ হাজার, তৃতীয় গ্রেডে ১ লাখ ১৩ হাজার, চতুর্থ গ্রেডে ১ লাখ, পঞ্চম গ্রেডে ৮৬ হাজার, ষষ্ঠ গ্রেডে ৭১ হাজার, সপ্তম গ্রেডে ৫৮ হাজার, অষ্টম গ্রেডে ৪৬ হাজার, নবম গ্রেডে ৪৪ হাজার এবং দশম গ্রেডে মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ হাজার টাকা।
এ ছাড়া ১১তম গ্রেডে ২৫ হাজার, ১২তম গ্রেডে ২৪ হাজার ৩০০, ১৩তম গ্রেডে ২৪ হাজার, ১৪তম গ্রেডে ২৩ হাজার ৫০০, ১৫তম গ্রেডে ২২ হাজার ৮০০, ১৬তম গ্রেডে ২১ হাজার ৯০০, ১৭তম গ্রেডে ২১ হাজার ৪০০, ১৮তম গ্রেডে ২১ হাজার, ১৯তম গ্রেডে ২০ হাজার ৫০০ এবং ২০তম গ্রেডে মূল বেতন হবে ২০ হাজার টাকা।
মূল বেতন তিন ধাপে বাড়লেও বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ নতুন স্কেলের বিভিন্ন ভাতা এখনই পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন হারের ভাতাগুলো ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর হবে।
পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ধাপভিত্তিক ব্যবস্থা অনুসরণ করে নিট পেনশন বাড়ানো হবে। পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত রয়েছে।
নতুন পে স্কেল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাতেও প্রভাব ফেলবে।
২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলের পর দীর্ঘ সময় ধরে নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় ছিলেন সরকারি চাকরিজীবীরা। এবার প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়ে নবম জাতীয় বেতন স্কেল আনুষ্ঠানিক রূপ পেতে যাচ্ছে। তবে পূর্ণ মূল বেতন ও নতুন হারের সব ভাতা পেতে চাকরিজীবীদের ধাপভিত্তিক বাস্তবায়নসূচি অনুযায়ী অপেক্ষা করতে হবে।

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এর আগে গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও বর্ধিত মূল বেতন একবারে দেওয়া হবে না। আর্থিক চাপ ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনায় এটি তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
নতুন বেতন কাঠামোতেও বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল থাকছে। সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে প্রথম গ্রেডে মূল বেতন বাড়ছে ১০০ শতাংশ এবং ২০তম গ্রেডে বৃদ্ধির হার প্রায় ১৪২ শতাংশ।
নতুন পে স্কেলের পূর্ণ মূল বেতন একবারে হাতে পাবেন না চাকরিজীবীরা। প্রথম ধাপ কার্যকর ধরা হয়েছে ১ জুলাই ২০২৬, দ্বিতীয় ধাপ ১ জানুয়ারি ২০২৭ এবং তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপ ১ জুলাই ২০২৭। অর্থাৎ এক বছরের মধ্যে তিন ধাপে নতুন মূল বেতন পুরোপুরি কার্যকর হবে।
প্রথম থেকে নবম গ্রেড পর্যন্ত চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বর্তমান ও নতুন মূল বেতনের মধ্যকার বর্ধিত অংশের ৪০ শতাংশ প্রথম ধাপে, আরও ৩০ শতাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ তৃতীয় ধাপে যোগ হবে।
উদাহরণ হিসেবে নবম গ্রেডের বর্তমান প্রারম্ভিক মূল বেতন ২২ হাজার টাকা। নতুন স্কেলে সেটি হবে ৪৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ বর্ধিত অংশ ২২ হাজার টাকা। প্রথম ধাপে এর ৪০ শতাংশ বা ৮ হাজার ৮০০ টাকা যোগ হয়ে মূল বেতন হবে ৩০ হাজার ৮০০ টাকা। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে আরও ৬ হাজার ৬০০ টাকা যোগ হয়ে হবে ৩৭ হাজার ৪০০ টাকা। আর জুলাইয়ে বাকি ৬ হাজার ৬০০ টাকা যোগ হওয়ার পর পূর্ণ মূল বেতন দাঁড়াবে ৪৪ হাজার টাকা।
নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০তম গ্রেডে বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকার মূল বেতন নতুন কাঠামোয় হবে ২০ হাজার টাকা। এই গ্রেডে বর্ধিত অংশের অর্ধেক প্রথম ধাপেই যোগ হবে। ফলে প্রথম ধাপে মূল বেতন দাঁড়াবে ১৪ হাজার ১২৫ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে তা প্রায় ১৭ হাজার ৬৩ টাকা এবং তৃতীয় ধাপে পূর্ণ ২০ হাজার টাকা হবে।
নতুন বেতন কাঠামোয় প্রথম গ্রেডে ১ লাখ ৫৬ হাজার, দ্বিতীয় গ্রেডে ১ লাখ ৩২ হাজার, তৃতীয় গ্রেডে ১ লাখ ১৩ হাজার, চতুর্থ গ্রেডে ১ লাখ, পঞ্চম গ্রেডে ৮৬ হাজার, ষষ্ঠ গ্রেডে ৭১ হাজার, সপ্তম গ্রেডে ৫৮ হাজার, অষ্টম গ্রেডে ৪৬ হাজার, নবম গ্রেডে ৪৪ হাজার এবং দশম গ্রেডে মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ হাজার টাকা।
এ ছাড়া ১১তম গ্রেডে ২৫ হাজার, ১২তম গ্রেডে ২৪ হাজার ৩০০, ১৩তম গ্রেডে ২৪ হাজার, ১৪তম গ্রেডে ২৩ হাজার ৫০০, ১৫তম গ্রেডে ২২ হাজার ৮০০, ১৬তম গ্রেডে ২১ হাজার ৯০০, ১৭তম গ্রেডে ২১ হাজার ৪০০, ১৮তম গ্রেডে ২১ হাজার, ১৯তম গ্রেডে ২০ হাজার ৫০০ এবং ২০তম গ্রেডে মূল বেতন হবে ২০ হাজার টাকা।
মূল বেতন তিন ধাপে বাড়লেও বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ নতুন স্কেলের বিভিন্ন ভাতা এখনই পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন হারের ভাতাগুলো ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর হবে।
পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ধাপভিত্তিক ব্যবস্থা অনুসরণ করে নিট পেনশন বাড়ানো হবে। পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত রয়েছে।
নতুন পে স্কেল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাতেও প্রভাব ফেলবে।
২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলের পর দীর্ঘ সময় ধরে নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় ছিলেন সরকারি চাকরিজীবীরা। এবার প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়ে নবম জাতীয় বেতন স্কেল আনুষ্ঠানিক রূপ পেতে যাচ্ছে। তবে পূর্ণ মূল বেতন ও নতুন হারের সব ভাতা পেতে চাকরিজীবীদের ধাপভিত্তিক বাস্তবায়নসূচি অনুযায়ী অপেক্ষা করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন