মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। পশ্চিমা ও ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশ্লেষণে আশঙ্কা করা হচ্ছে, সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করে সুযোগ বুঝে আকস্মিক হামলার পথ বেছে নিতে পারে তেহরান। তবে ‘আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যেই হামলা হবে’—এমন নির্দিষ্ট সময়সীমা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত গোয়েন্দা তথ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাতে দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পরও ইরানের হাতে উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনা রয়ে গেছে। ফলে আবার বড় সংঘাত শুরু হলে তেহরান পাল্টা আঘাত চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি প্রচলিত যুদ্ধের পাশাপাশি ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি তার অসম যুদ্ধকৌশল। ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, নৌমাইন, সাইবার অভিযান এবং মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে তেহরান প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।
ইরানের সামরিক মহড়াকেও ঘিরে এর আগে এমন উদ্বেগ দেখা গেছে। গত ডিসেম্বরে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা আশঙ্কা করেছিলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর মহড়া ও সেনা চলাচল সম্ভাব্য আকস্মিক হামলার প্রস্তুতি আড়াল করার কৌশল হতে পারে। তবে সে সময় মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে ইরানের আসন্ন হামলার কোনো নিশ্চিত তথ্য ছিল না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আশঙ্কা আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। চলতি সপ্তাহেই ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার দাবি করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান এবং ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী ও স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করার কথা জানিয়েছে তেহরান।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় ইরানের কয়েকজন সামরিক সদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফলে কয়েক মাসের সংঘাত ও বিরতির পরও দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি আঘাত পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অবশ্য বর্তমান পরিস্থিতিকে পূর্ণমাত্রার সক্রিয় যুদ্ধ হিসেবে বর্ণনা করতে চাননি। ৩ সেপ্টেম্বর তিনি বলেন, এই মুহূর্তে ধারাবাহিক গোলাগুলি চলছে না, যদিও বিভিন্ন জায়গায় মাঝেমধ্যে সংঘর্ষ আবার ছড়িয়ে পড়ছে। সংঘাত কখন পুরোপুরি শেষ হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমাও দিতে পারেননি তিনি।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গাগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের উল্লেখযোগ্য অংশ এই জলপথের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেখানে ইরান নতুন করে সামরিক চাপ বাড়ালে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক সংঘাত ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে প্রভাব ফেলেছে। হরমুজ ঘিরে নতুন মার্কিন-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার খবর এসেছে।
ফলে ইরান কখন এবং কীভাবে পরবর্তী বড় সামরিক পদক্ষেপ নেবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে দেশটির অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, সাইবার ও অসম যুদ্ধের সক্ষমতার কারণে আকস্মিক পাল্টা হামলার ঝুঁকি উড়িয়ে দিচ্ছেন না নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।
তবে ‘ছয় সপ্তাহের মধ্যে ইরান হামলা চালাবে’—এই নির্দিষ্ট সময়সীমাকে এখনই নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন না করে সম্ভাব্য ঝুঁকি বা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা হিসেবে উল্লেখ করাই যথাযথ।

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। পশ্চিমা ও ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশ্লেষণে আশঙ্কা করা হচ্ছে, সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করে সুযোগ বুঝে আকস্মিক হামলার পথ বেছে নিতে পারে তেহরান। তবে ‘আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যেই হামলা হবে’—এমন নির্দিষ্ট সময়সীমা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত গোয়েন্দা তথ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাতে দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পরও ইরানের হাতে উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনা রয়ে গেছে। ফলে আবার বড় সংঘাত শুরু হলে তেহরান পাল্টা আঘাত চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি প্রচলিত যুদ্ধের পাশাপাশি ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি তার অসম যুদ্ধকৌশল। ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, নৌমাইন, সাইবার অভিযান এবং মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে তেহরান প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।
ইরানের সামরিক মহড়াকেও ঘিরে এর আগে এমন উদ্বেগ দেখা গেছে। গত ডিসেম্বরে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা আশঙ্কা করেছিলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর মহড়া ও সেনা চলাচল সম্ভাব্য আকস্মিক হামলার প্রস্তুতি আড়াল করার কৌশল হতে পারে। তবে সে সময় মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে ইরানের আসন্ন হামলার কোনো নিশ্চিত তথ্য ছিল না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আশঙ্কা আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। চলতি সপ্তাহেই ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার দাবি করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান এবং ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী ও স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করার কথা জানিয়েছে তেহরান।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় ইরানের কয়েকজন সামরিক সদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফলে কয়েক মাসের সংঘাত ও বিরতির পরও দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি আঘাত পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অবশ্য বর্তমান পরিস্থিতিকে পূর্ণমাত্রার সক্রিয় যুদ্ধ হিসেবে বর্ণনা করতে চাননি। ৩ সেপ্টেম্বর তিনি বলেন, এই মুহূর্তে ধারাবাহিক গোলাগুলি চলছে না, যদিও বিভিন্ন জায়গায় মাঝেমধ্যে সংঘর্ষ আবার ছড়িয়ে পড়ছে। সংঘাত কখন পুরোপুরি শেষ হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমাও দিতে পারেননি তিনি।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গাগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের উল্লেখযোগ্য অংশ এই জলপথের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেখানে ইরান নতুন করে সামরিক চাপ বাড়ালে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক সংঘাত ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে প্রভাব ফেলেছে। হরমুজ ঘিরে নতুন মার্কিন-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার খবর এসেছে।
ফলে ইরান কখন এবং কীভাবে পরবর্তী বড় সামরিক পদক্ষেপ নেবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে দেশটির অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, সাইবার ও অসম যুদ্ধের সক্ষমতার কারণে আকস্মিক পাল্টা হামলার ঝুঁকি উড়িয়ে দিচ্ছেন না নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।
তবে ‘ছয় সপ্তাহের মধ্যে ইরান হামলা চালাবে’—এই নির্দিষ্ট সময়সীমাকে এখনই নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন না করে সম্ভাব্য ঝুঁকি বা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা হিসেবে উল্লেখ করাই যথাযথ।

আপনার মতামত লিখুন