ঢাকা    শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’

মোহাম্মদপুরসহ সারা দেশের মাদক অপরাধ দমনে ২২টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করল সরকার


নিজস্ব প্রতিবেদক:
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোহাম্মদপুরসহ সারা দেশের মাদক অপরাধ দমনে ২২টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করল সরকার
সংগৃহীত

মাদকসংক্রান্ত গুরুতর অপরাধের বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগর এলাকায় ২২টি ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করেছে সরকার। এর মধ্যে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার মাদক মামলার বিচারের জন্যও নির্দিষ্ট ট্রাইব্যুনাল রাখা হয়েছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৪৪ক ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে ট্রাইব্যুনালগুলো গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি ট্রাইব্যুনালের স্থানীয় এখতিয়ার ও সীমানাও নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।

মোহাম্মদপুরের মামলা ঢাকা মহানগর-২ ট্রাইব্যুনালে

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা জেলার জন্য একটি এবং ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানার জন্য চারটি পৃথক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

এর মধ্যে ঢাকা মহানগর-২ মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের অধীনে রাখা হয়েছে কলাবাগান, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, আদাবর, কোতোয়ালি, বংশাল, চকবাজার, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর ও মোহাম্মদপুর থানা। ফলে এসব থানায় সংঘটিত নির্ধারিত মাদক অপরাধের মামলা এই ট্রাইব্যুনালে বিচার হবে।

ঢাকা মহানগর-১ ট্রাইব্যুনালের অধীনে রয়েছে পল্লবী, কাফরুল, মিরপুর, শাহআলী, দারুসসালাম, রূপনগর, ভাষানটেক, তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, হাতিরঝিল, শেরেবাংলা নগর, রমনা ও শাহবাগ থানা।

ঢাকা মহানগর-৩ ট্রাইব্যুনালের আওতায় রাখা হয়েছে মতিঝিল, শাহজাহানপুর, পল্টন, সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা, রামপুরা, ডেমরা, শ্যামপুর, সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী ও ওয়ারী থানা।

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর-৪-এর আওতায় রয়েছে উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, উত্তরখান, দক্ষিণখান, বিমানবন্দর, তুরাগ, বাড্ডা, গুলশান, বনানী, ভাটারা, ক্যান্টনমেন্ট ও খিলক্ষেত থানা।

কক্সবাজারে তিনটি ট্রাইব্যুনাল

মাদকপ্রবণ সীমান্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারের জন্য আলাদাভাবে তিনটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

কক্সবাজার-১ ট্রাইব্যুনালের অধীনে রাখা হয়েছে টেকনাফ, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী থানা। কক্সবাজার-২-এর অধীনে উখিয়া, সদর ও ঈদগাঁও এবং কক্সবাজার-৩-এর অধীনে রামু, চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী থানা রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের জন্য দুটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলার জন্য একটি এবং চট্টগ্রাম মহানগরের জন্য তিনটি ট্রাইব্যুনাল থাকবে। কুমিল্লার জন্য দুটি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী জেলা, রাজশাহী মহানগর, বগুড়া, দিনাজপুর ও যশোরের জন্য একটি করে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

৬০ দিনের মধ্যে স্থানান্তর হবে মামলা

প্রজ্ঞাপনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশে বলা হয়েছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর অধীনে ন্যূনতম পাঁচ বছর বা তার বেশি শাস্তিযোগ্য অপরাধের চলমান মামলাগুলো নতুন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হবে।

প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী বর্তমানে বিচারাধীন এসব মামলা সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে পাঠাতে হবে।

তবে মামলা স্থানান্তরের কারণে বিচারপ্রক্রিয়া নতুন করে শুরু হবে না। যে পর্যায়ে থাকা অবস্থায় কোনো মামলা ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হবে, সেই পর্যায় থেকেই পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম চলবে।

আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন গুরুতর মাদক মামলার নিষ্পত্তিতে গতি আনা। বিশেষায়িত ট্রাইব্যুনাল চালু হওয়ায় ঢাকা ও মোহাম্মদপুরসহ মাদক মামলার চাপ বেশি থাকা বিভিন্ন এলাকার বিচার কার্যক্রম আরও দ্রুত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মোহাম্মদপুরসহ সারা দেশের মাদক অপরাধ দমনে ২২টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করল সরকার

প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মাদকসংক্রান্ত গুরুতর অপরাধের বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগর এলাকায় ২২টি ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করেছে সরকার। এর মধ্যে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার মাদক মামলার বিচারের জন্যও নির্দিষ্ট ট্রাইব্যুনাল রাখা হয়েছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৪৪ক ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে ট্রাইব্যুনালগুলো গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি ট্রাইব্যুনালের স্থানীয় এখতিয়ার ও সীমানাও নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।

মোহাম্মদপুরের মামলা ঢাকা মহানগর-২ ট্রাইব্যুনালে

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা জেলার জন্য একটি এবং ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানার জন্য চারটি পৃথক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

এর মধ্যে ঢাকা মহানগর-২ মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের অধীনে রাখা হয়েছে কলাবাগান, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, আদাবর, কোতোয়ালি, বংশাল, চকবাজার, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর ও মোহাম্মদপুর থানা। ফলে এসব থানায় সংঘটিত নির্ধারিত মাদক অপরাধের মামলা এই ট্রাইব্যুনালে বিচার হবে।

ঢাকা মহানগর-১ ট্রাইব্যুনালের অধীনে রয়েছে পল্লবী, কাফরুল, মিরপুর, শাহআলী, দারুসসালাম, রূপনগর, ভাষানটেক, তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, হাতিরঝিল, শেরেবাংলা নগর, রমনা ও শাহবাগ থানা।

ঢাকা মহানগর-৩ ট্রাইব্যুনালের আওতায় রাখা হয়েছে মতিঝিল, শাহজাহানপুর, পল্টন, সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা, রামপুরা, ডেমরা, শ্যামপুর, সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী ও ওয়ারী থানা।

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর-৪-এর আওতায় রয়েছে উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, উত্তরখান, দক্ষিণখান, বিমানবন্দর, তুরাগ, বাড্ডা, গুলশান, বনানী, ভাটারা, ক্যান্টনমেন্ট ও খিলক্ষেত থানা।

কক্সবাজারে তিনটি ট্রাইব্যুনাল

মাদকপ্রবণ সীমান্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারের জন্য আলাদাভাবে তিনটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

কক্সবাজার-১ ট্রাইব্যুনালের অধীনে রাখা হয়েছে টেকনাফ, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী থানা। কক্সবাজার-২-এর অধীনে উখিয়া, সদর ও ঈদগাঁও এবং কক্সবাজার-৩-এর অধীনে রামু, চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী থানা রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের জন্য দুটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলার জন্য একটি এবং চট্টগ্রাম মহানগরের জন্য তিনটি ট্রাইব্যুনাল থাকবে। কুমিল্লার জন্য দুটি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী জেলা, রাজশাহী মহানগর, বগুড়া, দিনাজপুর ও যশোরের জন্য একটি করে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

৬০ দিনের মধ্যে স্থানান্তর হবে মামলা

প্রজ্ঞাপনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশে বলা হয়েছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর অধীনে ন্যূনতম পাঁচ বছর বা তার বেশি শাস্তিযোগ্য অপরাধের চলমান মামলাগুলো নতুন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হবে।

প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী বর্তমানে বিচারাধীন এসব মামলা সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে পাঠাতে হবে।

তবে মামলা স্থানান্তরের কারণে বিচারপ্রক্রিয়া নতুন করে শুরু হবে না। যে পর্যায়ে থাকা অবস্থায় কোনো মামলা ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হবে, সেই পর্যায় থেকেই পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম চলবে।

আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন গুরুতর মাদক মামলার নিষ্পত্তিতে গতি আনা। বিশেষায়িত ট্রাইব্যুনাল চালু হওয়ায় ঢাকা ও মোহাম্মদপুরসহ মাদক মামলার চাপ বেশি থাকা বিভিন্ন এলাকার বিচার কার্যক্রম আরও দ্রুত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ