বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় ও বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ের পৃথক অভিযানে ৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রি, অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করাসহ বিভিন্ন অপরাধে এসব জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। রোববার (৩০ আগস্ট) খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় অধিদপ্তরের সাতটি টিম এ তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, চাল, ভোজ্যতেল, গ্যাস, ওষুধ, ডায়াগনস্টিক সেবা, আলু, দেশি পেঁয়াজ, সবজি, মুরগি ও ডিমের বাজারদর পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার যাচাই এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়। খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার বাসস্ট্যান্ড মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির অপরাধে রাব্বি এন সি লেকার সেন্টারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিবের নেতৃত্বে সোনাডাঙ্গা থানার দারুস সালাম মহল্লা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনের অপরাধে শরিফ ফুড প্রোডাক্টকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সজল আহম্মেদের নেতৃত্বে সদর উপজেলার সাচানী রাউতারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স ড্রিম টাচ বেকারিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন ও পণ্যের মোড়ক যথাযথভাবে ব্যবহার না করার অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে এ জরিমানা করা হয়। কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাসুম আলীর নেতৃত্বে দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া বাজারে অভিযান চালানো হয়। সেখানে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন ও খাদ্যে নিষিদ্ধ পণ্য মেশানোর অপরাধে ইব্রাহিম মিষ্টান্ন অ্যান্ড দধি ভান্ডারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নড়াইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শামীম হাসানের নেতৃত্বে লোহাগড়া বাজারে অভিযান চালিয়ে মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে মেসার্স আল্লাহর দান ডিপার্টমেন্টাল স্টোরকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ঝিনাইদহ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহেরের নেতৃত্বে সদর উপজেলার আরাপপুর বাজারে অভিযান চালানো হয়। পণ্যের মোড়ক যথাযথভাবে ব্যবহার না করা এবং অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনের অপরাধে কেক পার্লারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে আলমডাঙ্গা উপজেলার বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করার অপরাধে নাহিদ কসমেটিকস কর্ণারকে ৫ হাজার টাকা, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করায় রুবেল ফল ভান্ডারকে ৩ হাজার টাকা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির অপরাধে ইসহাক বীজ ভান্ডারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সব মিলিয়ে সাতটি তদারকি টিমের অভিযানে ৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদের ভোক্তা-অধিকার আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে সচেতন করা হয়। একই সঙ্গে দৃশ্যমান স্থানে বাধ্যতামূলকভাবে মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় ও বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ের পৃথক অভিযানে ৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রি, অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করাসহ বিভিন্ন অপরাধে এসব জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। রোববার (৩০ আগস্ট) খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় অধিদপ্তরের সাতটি টিম এ তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, চাল, ভোজ্যতেল, গ্যাস, ওষুধ, ডায়াগনস্টিক সেবা, আলু, দেশি পেঁয়াজ, সবজি, মুরগি ও ডিমের বাজারদর পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার যাচাই এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়। খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার বাসস্ট্যান্ড মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির অপরাধে রাব্বি এন সি লেকার সেন্টারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিবের নেতৃত্বে সোনাডাঙ্গা থানার দারুস সালাম মহল্লা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনের অপরাধে শরিফ ফুড প্রোডাক্টকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সজল আহম্মেদের নেতৃত্বে সদর উপজেলার সাচানী রাউতারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স ড্রিম টাচ বেকারিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন ও পণ্যের মোড়ক যথাযথভাবে ব্যবহার না করার অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে এ জরিমানা করা হয়। কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাসুম আলীর নেতৃত্বে দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া বাজারে অভিযান চালানো হয়। সেখানে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন ও খাদ্যে নিষিদ্ধ পণ্য মেশানোর অপরাধে ইব্রাহিম মিষ্টান্ন অ্যান্ড দধি ভান্ডারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নড়াইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শামীম হাসানের নেতৃত্বে লোহাগড়া বাজারে অভিযান চালিয়ে মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে মেসার্স আল্লাহর দান ডিপার্টমেন্টাল স্টোরকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ঝিনাইদহ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহেরের নেতৃত্বে সদর উপজেলার আরাপপুর বাজারে অভিযান চালানো হয়। পণ্যের মোড়ক যথাযথভাবে ব্যবহার না করা এবং অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনের অপরাধে কেক পার্লারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে আলমডাঙ্গা উপজেলার বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করার অপরাধে নাহিদ কসমেটিকস কর্ণারকে ৫ হাজার টাকা, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করায় রুবেল ফল ভান্ডারকে ৩ হাজার টাকা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির অপরাধে ইসহাক বীজ ভান্ডারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সব মিলিয়ে সাতটি তদারকি টিমের অভিযানে ৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদের ভোক্তা-অধিকার আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে সচেতন করা হয়। একই সঙ্গে দৃশ্যমান স্থানে বাধ্যতামূলকভাবে মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

আপনার মতামত লিখুন