ঢাকা    রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

পঞ্চগড়ে ভাতা পাওয়ার কথা বিধবার, টাকা গেল ইউপি সদস্যের মোবাইলে—তদন্তের নির্দেশ



পঞ্চগড়ে ভাতা পাওয়ার কথা বিধবার, টাকা গেল ইউপি সদস্যের মোবাইলে—তদন্তের নির্দেশ
অপরাধ দূর্নীতি

দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি:

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক বিধবা নারীর ভাতার টাকা নিজের মোবাইল নম্বরে নেওয়ার অভিযোগে ইউপি সদস্য আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীত সাহা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, ইউপি সদস্য আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে বিধবা ভাতার টাকা উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত আব্দুল খালেক দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। এছাড়া তিনি টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সর্বশেষ ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এর আগে জানা যায়, টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের বানেশ্বরপাড়া এলাকার মোছাঃ রহিমা বেগম ২০২০ সালের জুলাই মাসে সর্বশেষ বিধবা ভাতার টাকা উত্তোলন করেন। এরপর থেকে তিনি আর কোনো ভাতার টাকা পাননি।

পরে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করে তিনি জানতে পারেন, ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তার নামে বরাদ্দকৃত বিধবা ভাতার টাকা ০১৯১৭-৩৬৭৪৯২ নম্বরে পাঠানো হয়েছে। অনুসন্ধানে ওই নম্বরে ইউপি সদস্য আব্দুল খালেকের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে নগদ অ্যাকাউন্ট খোলার তথ্য পাওয়া যায়।

অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ছয় বছরে রহিমা বেগমের নামে বরাদ্দকৃত প্রায় ৪০ হাজার টাকা ওই নম্বরে পাঠানো ও উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে রোববার দুপুরে ভুক্তভোগী রহিমা বেগমের পক্ষে তার ছেলে মোঃ জহুরউদ্দীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে ভাতার টাকা উদ্ধার করে তার মাকে ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীত সাহা বলেন, ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বিধবা ভাতার টাকা উত্তোলনের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদটি প্রশাসনের নজরে এসেছে। এছাড়া ভুক্তভোগীর ছেলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্ত প্রতিবেদনেই মিলবে অভিযোগের সত্যতা—নাকি বেরিয়ে আসবে ভিন্ন কোনো তথ্য, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


পঞ্চগড়ে ভাতা পাওয়ার কথা বিধবার, টাকা গেল ইউপি সদস্যের মোবাইলে—তদন্তের নির্দেশ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি:

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক বিধবা নারীর ভাতার টাকা নিজের মোবাইল নম্বরে নেওয়ার অভিযোগে ইউপি সদস্য আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।


রোববার (৩০ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীত সাহা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।


অফিস আদেশে বলা হয়, ইউপি সদস্য আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে বিধবা ভাতার টাকা উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


অভিযুক্ত আব্দুল খালেক দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। এছাড়া তিনি টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সর্বশেষ ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


এর আগে জানা যায়, টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের বানেশ্বরপাড়া এলাকার মোছাঃ রহিমা বেগম ২০২০ সালের জুলাই মাসে সর্বশেষ বিধবা ভাতার টাকা উত্তোলন করেন। এরপর থেকে তিনি আর কোনো ভাতার টাকা পাননি।


পরে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করে তিনি জানতে পারেন, ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তার নামে বরাদ্দকৃত বিধবা ভাতার টাকা ০১৯১৭-৩৬৭৪৯২ নম্বরে পাঠানো হয়েছে। অনুসন্ধানে ওই নম্বরে ইউপি সদস্য আব্দুল খালেকের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে নগদ অ্যাকাউন্ট খোলার তথ্য পাওয়া যায়।


অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ছয় বছরে রহিমা বেগমের নামে বরাদ্দকৃত প্রায় ৪০ হাজার টাকা ওই নম্বরে পাঠানো ও উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


এদিকে রোববার দুপুরে ভুক্তভোগী রহিমা বেগমের পক্ষে তার ছেলে মোঃ জহুরউদ্দীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে ভাতার টাকা উদ্ধার করে তার মাকে ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।


এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীত সাহা বলেন, ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বিধবা ভাতার টাকা উত্তোলনের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদটি প্রশাসনের নজরে এসেছে। এছাড়া ভুক্তভোগীর ছেলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


তদন্ত প্রতিবেদনেই মিলবে অভিযোগের সত্যতা—নাকি বেরিয়ে আসবে ভিন্ন কোনো তথ্য, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ