শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত প্রদর্শনী ও প্যানেল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আন্তর্জাতিক গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ দিবস উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা বা রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনা ঘটেনি। তবে বাহিনীর কার্যক্রমে ‘দু-একটি ব্যত্যয়’ ঘটেছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
তার ভাষ্য, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একটি ‘ভঙ্গুর’ অবস্থায় পেয়েছিল। গত ছয় মাসে বাহিনীর সদস্যদের নৈতিকতা, মনোবল ও পেশাদারত্ব বাড়াতে কাজ করা হয়েছে। ভালো কাজের জন্য পুরস্কার এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নিজের গুম হওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, তিনি নিজেও ৬১ দিন গুমের শিকার ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কারণে দেশে শক্তিশালী গুম প্রতিরোধ আইন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তিনি ব্যক্তিগতভাবেও উপলব্ধি করেন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কেউ গুমের শিকার হোক—এটি তিনি চান না বলেও জানান।
গুমের শিকার ব্যক্তি ও তার পরিবার যেন সরাসরি আদালতে গিয়ে বিচার ও প্রতিকার চাইতে পারে, সে লক্ষ্যেই ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রস্তাবিত আইনে গুমের সংজ্ঞা, অপরাধের ধরন, শাস্তি, তদন্তপদ্ধতি এবং ভুক্তভোগীদের অধিকার নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, গুমের শিকার কোনো ব্যক্তিকে ফিরে পাওয়া না গেলে তার উত্তরাধিকারীরা যেন সম্পত্তির অধিকার পান এবং পরিবার পরিচালনা করতে পারেন, সে ব্যবস্থাও আইনে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের বিধান রাখা হয়েছে। দায়ী ব্যক্তির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় সম্ভব না হলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থার প্রস্তাবও রয়েছে।
র্যাব প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাহিনীটির বর্তমান নাম বিলুপ্ত করার জন্য আইন আনা হয়েছে এবং সেটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় গোয়েন্দা সহায়তা, সাইবার ইন্টেলিজেন্স ও বিশ্লেষণ সক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তবে অনুষ্ঠানে গুমসংক্রান্ত সাবেক তদন্ত কমিশনের সদস্য ও মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বাগেরহাটের মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেন। তিনি স্বাধীন তদন্তের দাবি জানান। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় কোনো সরকারি বাহিনীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে; প্রয়োজন হলে সরকার স্বাধীন তদন্তের ব্যবস্থায়ও প্রস্তুত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সবসময় ক্ষমতায় থাকবে না, কিন্তু গুম প্রতিরোধের আইনটি থাকবে। তাই ভবিষ্যতে যে-ই গুমের শিকার হোক না কেন, তার বিচার পাওয়ার আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত প্রদর্শনী ও প্যানেল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আন্তর্জাতিক গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ দিবস উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা বা রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনা ঘটেনি। তবে বাহিনীর কার্যক্রমে ‘দু-একটি ব্যত্যয়’ ঘটেছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
তার ভাষ্য, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একটি ‘ভঙ্গুর’ অবস্থায় পেয়েছিল। গত ছয় মাসে বাহিনীর সদস্যদের নৈতিকতা, মনোবল ও পেশাদারত্ব বাড়াতে কাজ করা হয়েছে। ভালো কাজের জন্য পুরস্কার এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নিজের গুম হওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, তিনি নিজেও ৬১ দিন গুমের শিকার ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কারণে দেশে শক্তিশালী গুম প্রতিরোধ আইন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তিনি ব্যক্তিগতভাবেও উপলব্ধি করেন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কেউ গুমের শিকার হোক—এটি তিনি চান না বলেও জানান।
গুমের শিকার ব্যক্তি ও তার পরিবার যেন সরাসরি আদালতে গিয়ে বিচার ও প্রতিকার চাইতে পারে, সে লক্ষ্যেই ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রস্তাবিত আইনে গুমের সংজ্ঞা, অপরাধের ধরন, শাস্তি, তদন্তপদ্ধতি এবং ভুক্তভোগীদের অধিকার নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, গুমের শিকার কোনো ব্যক্তিকে ফিরে পাওয়া না গেলে তার উত্তরাধিকারীরা যেন সম্পত্তির অধিকার পান এবং পরিবার পরিচালনা করতে পারেন, সে ব্যবস্থাও আইনে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের বিধান রাখা হয়েছে। দায়ী ব্যক্তির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় সম্ভব না হলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থার প্রস্তাবও রয়েছে।
র্যাব প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাহিনীটির বর্তমান নাম বিলুপ্ত করার জন্য আইন আনা হয়েছে এবং সেটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় গোয়েন্দা সহায়তা, সাইবার ইন্টেলিজেন্স ও বিশ্লেষণ সক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তবে অনুষ্ঠানে গুমসংক্রান্ত সাবেক তদন্ত কমিশনের সদস্য ও মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বাগেরহাটের মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেন। তিনি স্বাধীন তদন্তের দাবি জানান। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় কোনো সরকারি বাহিনীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে; প্রয়োজন হলে সরকার স্বাধীন তদন্তের ব্যবস্থায়ও প্রস্তুত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সবসময় ক্ষমতায় থাকবে না, কিন্তু গুম প্রতিরোধের আইনটি থাকবে। তাই ভবিষ্যতে যে-ই গুমের শিকার হোক না কেন, তার বিচার পাওয়ার আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

আপনার মতামত লিখুন