ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

ডার্ক ওয়েবে প্রায় ৬০ লাখ বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীর জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়ার দাবি ঘিরে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ‘ম্যাডারক্স’ নামে পরিচয় দেওয়া একটি হ্যাকার গোষ্ঠী দাবি করেছে, এসব তথ্য বাংলাদেশের চাকরির প্ল্যাটফর্ম বিডিজবসের ডেটাবেজ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে বিডিজবস তাদের সিস্টেম থেকে তথ্য ফাঁসের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) ‘ডার্কফোরামস ডট আরইউ’ নামের একটি ডার্ক ওয়েব ফোরামে এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। হ্যাকার গোষ্ঠীটির দাবি, তাদের কাছে থাকা তথ্যভান্ডারে প্রায় ৬০ লাখ চাকরিপ্রার্থীর নাম, ফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা, বাসার ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত তথ্য রয়েছে।

দাবির প্রমাণ হিসেবে ১৪৮টি সিভির নমুনাও প্রকাশ করেছে গোষ্ঠীটি। প্রকাশিত নমুনাগুলো পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সেগুলোর বড় একটি অংশ পুরোনো এবং অনেক সিভি সর্বশেষ ২০১১ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে হালনাগাদ করা হয়েছিল। নমুনায় থাকা কয়েকজন ব্যক্তি অতীতে বিডিজবসে নিজেদের সিভি আপলোড করার বিষয়টিও সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

হ্যাকাররা পুরো তথ্যভান্ডারের একটি কপির দাম এক হাজার মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছে বলে বিজ্ঞাপনে দাবি করা হয়েছে। সর্বোচ্চ পাঁচজন ক্রেতার কাছে তথ্য বিক্রি করার কথাও সেখানে উল্লেখ রয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, একটি সিভিতে থাকা নাম, ফোন নম্বর, ই-মেইল, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত তথ্য একসঙ্গে অপরাধীদের হাতে গেলে কোনো ব্যক্তির বিস্তারিত ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করা সম্ভব। এসব তথ্য ব্যবহার করে লক্ষ্যভিত্তিক ফিশিং, ভুয়া চাকরির প্রস্তাব, পরিচয় জালিয়াতি, সামাজিক প্রকৌশলভিত্তিক প্রতারণা এবং আর্থিক জালিয়াতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তবে বিডিজবসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এ কে এম ফাহিম মাশরুর প্রতিষ্ঠানটির ডেটাবেজ থেকে তথ্য চুরির দাবি অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করে। নিবন্ধিত নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়োগ কার্যক্রমের প্রয়োজনে চাকরিপ্রার্থীদের তথ্য দেখতে পারে, তবে তা তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করার অনুমতি নেই। এমন অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে বিডিজবস।

হ্যাকার গোষ্ঠীটির দাবির সত্যতা এবং তথ্যগুলো ঠিক কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ঘটনাটিকে নিশ্চিতভাবে বিডিজবসের সার্ভার হ্যাক বা ডেটাবেজ ফাঁস হিসেবে উল্লেখ না করে হ্যাকার গোষ্ঠীর দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে বিপুলসংখ্যক মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির এমন বিজ্ঞাপন দেশের নাগরিকদের ডিজিটাল তথ্য সুরক্ষা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন সামনে এনেছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ডার্ক ওয়েবে প্রায় ৬০ লাখ বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীর জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়ার দাবি ঘিরে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ‘ম্যাডারক্স’ নামে পরিচয় দেওয়া একটি হ্যাকার গোষ্ঠী দাবি করেছে, এসব তথ্য বাংলাদেশের চাকরির প্ল্যাটফর্ম বিডিজবসের ডেটাবেজ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে বিডিজবস তাদের সিস্টেম থেকে তথ্য ফাঁসের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) ‘ডার্কফোরামস ডট আরইউ’ নামের একটি ডার্ক ওয়েব ফোরামে এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। হ্যাকার গোষ্ঠীটির দাবি, তাদের কাছে থাকা তথ্যভান্ডারে প্রায় ৬০ লাখ চাকরিপ্রার্থীর নাম, ফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা, বাসার ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত তথ্য রয়েছে।

দাবির প্রমাণ হিসেবে ১৪৮টি সিভির নমুনাও প্রকাশ করেছে গোষ্ঠীটি। প্রকাশিত নমুনাগুলো পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সেগুলোর বড় একটি অংশ পুরোনো এবং অনেক সিভি সর্বশেষ ২০১১ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে হালনাগাদ করা হয়েছিল। নমুনায় থাকা কয়েকজন ব্যক্তি অতীতে বিডিজবসে নিজেদের সিভি আপলোড করার বিষয়টিও সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

হ্যাকাররা পুরো তথ্যভান্ডারের একটি কপির দাম এক হাজার মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছে বলে বিজ্ঞাপনে দাবি করা হয়েছে। সর্বোচ্চ পাঁচজন ক্রেতার কাছে তথ্য বিক্রি করার কথাও সেখানে উল্লেখ রয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, একটি সিভিতে থাকা নাম, ফোন নম্বর, ই-মেইল, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত তথ্য একসঙ্গে অপরাধীদের হাতে গেলে কোনো ব্যক্তির বিস্তারিত ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করা সম্ভব। এসব তথ্য ব্যবহার করে লক্ষ্যভিত্তিক ফিশিং, ভুয়া চাকরির প্রস্তাব, পরিচয় জালিয়াতি, সামাজিক প্রকৌশলভিত্তিক প্রতারণা এবং আর্থিক জালিয়াতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তবে বিডিজবসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এ কে এম ফাহিম মাশরুর প্রতিষ্ঠানটির ডেটাবেজ থেকে তথ্য চুরির দাবি অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করে। নিবন্ধিত নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়োগ কার্যক্রমের প্রয়োজনে চাকরিপ্রার্থীদের তথ্য দেখতে পারে, তবে তা তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করার অনুমতি নেই। এমন অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে বিডিজবস।

হ্যাকার গোষ্ঠীটির দাবির সত্যতা এবং তথ্যগুলো ঠিক কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ঘটনাটিকে নিশ্চিতভাবে বিডিজবসের সার্ভার হ্যাক বা ডেটাবেজ ফাঁস হিসেবে উল্লেখ না করে হ্যাকার গোষ্ঠীর দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে বিপুলসংখ্যক মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির এমন বিজ্ঞাপন দেশের নাগরিকদের ডিজিটাল তথ্য সুরক্ষা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন সামনে এনেছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ