দায়িত্বশীলতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং গভীর মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন ৩৬তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের চৌকস কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে বিদায়ী ইউএনও কাজী নাহিদ ইভা নতুন ইউএনওর নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত থেকে নতুন বিদায়ী ও নবনিযুক্ত ইউএনওকে শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা জানান।
দায়িত্ব গ্রহণকালীন এক আবেগঘন ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন প্রশাসনিক সেবার মূল দর্শন তুলে ধরে বলেন, “এটা স্কুল নয়, শাস্তিও নয়। জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের ভয় বা দ্বিধা ছাড়া প্রশাসনিক সেবা পেতে পারেন, সে পরিবেশ বজায় রাখা হবে।”
মেধাবী ও প্রজ্ঞাবান কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন দেশের অন্যতম শীর্ষবিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিষয়ে কৃতিত্বের সাথে স্নাতকোত্তর (এমএসসি) ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ৩৩তম বিসিএসে নন-ক্যাডার হিসেবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পদে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ৩৪তম বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি কলেজের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর ৩৬তম বিসিএসের মাধ্যমে তিনি প্রশাসন ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হন। প্রশাসন ক্যাডারে তাঁর কর্মজীবন অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তিনি কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ভূমি সেবা প্রদান করেছেন। পরবর্তীতে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং একই সাথে কেশবপুর পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে মেধা ও যোগ্যতার সাক্ষর রাখেন।
কেশবপুরে কর্মকালীন সময়ে তিনি কেবল প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং তাঁর বৈচিত্র্যময় সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নেয়। অনাথ শিশুদের মাঝে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজ হাতে খাবার পরিবেশন, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও অসহায় নারীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ, বিনামূল্যে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা এবং তীব্র শীতে অসহায়দের মাঝে উষ্ণ কম্বল বিতরণের মাধ্যমে তিনি সর্বমহলে ‘মানবিক ইউএনও’ হিসেবে সর্বজনীন স্বীকৃতি ও সুনাম অর্জন করেন। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং সামাজিক সচেতনতামূলক নানা কর্মকাণ্ডে তিনি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। সম্প্রতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত কিশোরগঞ্জের এই ঐতিহ্যবাহী হোসেনপুর উপজেলায় বদলি করা হয়।
একজন নিবেদিতপ্রাণ ও জনবান্ধব কর্মকর্তা হোসেনপুরের প্রশাসনিক অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় স্থানীয় সুশীল সমাজ, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ- উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। নতুন কর্মস্থলে তাঁর যোগদানের ফলে উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক কার্যক্রমে অধিকতর গতিশীলতা আসবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমুলক সেবা নিশ্চিত হবে বলে প্রত্যাশা করছেন হোসেনপুরবাসী। যোগদানের পরপরই উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে নবনিযুক্ত এই প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬
দায়িত্বশীলতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং গভীর মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন ৩৬তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের চৌকস কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে বিদায়ী ইউএনও কাজী নাহিদ ইভা নতুন ইউএনওর নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত থেকে নতুন বিদায়ী ও নবনিযুক্ত ইউএনওকে শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা জানান।
দায়িত্ব গ্রহণকালীন এক আবেগঘন ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন প্রশাসনিক সেবার মূল দর্শন তুলে ধরে বলেন, “এটা স্কুল নয়, শাস্তিও নয়। জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের ভয় বা দ্বিধা ছাড়া প্রশাসনিক সেবা পেতে পারেন, সে পরিবেশ বজায় রাখা হবে।”
মেধাবী ও প্রজ্ঞাবান কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন দেশের অন্যতম শীর্ষবিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিষয়ে কৃতিত্বের সাথে স্নাতকোত্তর (এমএসসি) ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ৩৩তম বিসিএসে নন-ক্যাডার হিসেবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পদে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ৩৪তম বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি কলেজের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর ৩৬তম বিসিএসের মাধ্যমে তিনি প্রশাসন ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হন। প্রশাসন ক্যাডারে তাঁর কর্মজীবন অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তিনি কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ভূমি সেবা প্রদান করেছেন। পরবর্তীতে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং একই সাথে কেশবপুর পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে মেধা ও যোগ্যতার সাক্ষর রাখেন।
কেশবপুরে কর্মকালীন সময়ে তিনি কেবল প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং তাঁর বৈচিত্র্যময় সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নেয়। অনাথ শিশুদের মাঝে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজ হাতে খাবার পরিবেশন, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও অসহায় নারীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ, বিনামূল্যে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা এবং তীব্র শীতে অসহায়দের মাঝে উষ্ণ কম্বল বিতরণের মাধ্যমে তিনি সর্বমহলে ‘মানবিক ইউএনও’ হিসেবে সর্বজনীন স্বীকৃতি ও সুনাম অর্জন করেন। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং সামাজিক সচেতনতামূলক নানা কর্মকাণ্ডে তিনি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। সম্প্রতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত কিশোরগঞ্জের এই ঐতিহ্যবাহী হোসেনপুর উপজেলায় বদলি করা হয়।
একজন নিবেদিতপ্রাণ ও জনবান্ধব কর্মকর্তা হোসেনপুরের প্রশাসনিক অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় স্থানীয় সুশীল সমাজ, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ- উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। নতুন কর্মস্থলে তাঁর যোগদানের ফলে উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক কার্যক্রমে অধিকতর গতিশীলতা আসবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমুলক সেবা নিশ্চিত হবে বলে প্রত্যাশা করছেন হোসেনপুরবাসী। যোগদানের পরপরই উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে নবনিযুক্ত এই প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন