ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বরগুনায় ৫৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক



বরগুনায় ৫৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

বরগুনার তালতলী উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার মোট ৭৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৩টিতেই কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। শুধু তাই নয়, সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে ৩৭টি। দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি থাকায় বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক পাঠদান প্রক্রিয়া যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি ভেঙে পড়েছে প্রশাসনিক চেইন অফ কমান্ড। দ্রুত এই সংকট নিরসনের দাবিতে শিক্ষক, অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা সোচ্চার হয়ে উঠেছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, তালতলী উপজেলার ৭৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ১১ হাজার ১০৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৩৯০টি সহকারী শিক্ষক পদের মধ্যে ৩৭টি বর্তমানে শূন্য। তবে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে প্রধান শিক্ষকের পদের ক্ষেত্রে, যেখানে অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে কোনোমতে কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হলেও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষক জানান, পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় একটি শ্রেণিকক্ষ থেকে অন্য শ্রেণিকক্ষে দৌড়াদৌড়ি করে পাঠদান সামলাতে হচ্ছে। এতে শিক্ষকদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়ছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষার গুণগত মানের ওপর। প্রধান শিক্ষক না থাকায় দাপ্তরিক কাজ এবং সরকারি বিভিন্ন সভা-সেমিনারে অংশ নিতে গিয়ে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক অনুপস্থিত থাকছে। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অভিভাবকরাও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

এই সংকট নিরসনে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল বাশার জানান, শূন্য পদের বিস্তারিত তালিকা ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। নিয়োগ বা পদায়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সমস্যা সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে, নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এই সংকট দ্রুত নিরসনের জন্য জোরালো সুপারিশনামা পাঠানো হবে এবং খুব শীঘ্রই বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ ফিরে আসবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বরগুনায় ৫৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

প্রকাশের তারিখ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

বরগুনার তালতলী উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার মোট ৭৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৩টিতেই কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। শুধু তাই নয়, সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে ৩৭টি। দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি থাকায় বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক পাঠদান প্রক্রিয়া যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি ভেঙে পড়েছে প্রশাসনিক চেইন অফ কমান্ড। দ্রুত এই সংকট নিরসনের দাবিতে শিক্ষক, অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা সোচ্চার হয়ে উঠেছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, তালতলী উপজেলার ৭৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ১১ হাজার ১০৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৩৯০টি সহকারী শিক্ষক পদের মধ্যে ৩৭টি বর্তমানে শূন্য। তবে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে প্রধান শিক্ষকের পদের ক্ষেত্রে, যেখানে অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে কোনোমতে কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হলেও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষক জানান, পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় একটি শ্রেণিকক্ষ থেকে অন্য শ্রেণিকক্ষে দৌড়াদৌড়ি করে পাঠদান সামলাতে হচ্ছে। এতে শিক্ষকদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়ছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষার গুণগত মানের ওপর। প্রধান শিক্ষক না থাকায় দাপ্তরিক কাজ এবং সরকারি বিভিন্ন সভা-সেমিনারে অংশ নিতে গিয়ে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক অনুপস্থিত থাকছে। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অভিভাবকরাও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

এই সংকট নিরসনে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল বাশার জানান, শূন্য পদের বিস্তারিত তালিকা ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। নিয়োগ বা পদায়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সমস্যা সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে, নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এই সংকট দ্রুত নিরসনের জন্য জোরালো সুপারিশনামা পাঠানো হবে এবং খুব শীঘ্রই বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ ফিরে আসবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ