জিম্বাবুয়ের লেক কারিবায় অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ফেরি উল্টে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ৭৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সিভিল প্রোটেকশন ইউনিট।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে ফেরিটি উল্টে যায়। দুর্ঘটনার সময় ফেরিটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সিভিল প্রোটেকশন ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, ফেরিটির ধারণক্ষমতা ছিল ৯০ জন। তবে টিকিট বিক্রির নিবন্ধিত হিসাব অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় এতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া টিকিট কাটার বয়স হয়নি, এমন কতজন শিশু ফেরিটিতে ছিল তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কারিবা শহর থেকে লেকের বিভিন্ন দ্বীপ ও মাছ ধরার ক্যাম্পে যাত্রী পরিবহন করত ফেরিটি। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করে জিম্বাবুয়ের জাতীয় পুলিশ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থা।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডবিসির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, হ্রদে উল্টে থাকা ফেরিটির দিকে কয়েকটি স্পিডবোট এগিয়ে যাচ্ছে। আকাশে একটি হেলিকপ্টারকেও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে দেখা যায়। পানির নিচে নিখোঁজদের সন্ধানে ডুবুরি দলও মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ম্যাক্সটন কানহেমা এএফপিকে জানান, খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেই ফেরিটি যাত্রা শুরু করেছিল। একপর্যায়ে একটি বড় ঢেউ ফেরিটিতে আঘাত করলে এর ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে তিনি ধারণা করেন।
কানহেমা বলেন, পানির মধ্যে থাকা অবস্থায় তারা বিপদের সংকেত দেখতে পান। এরপর আশপাশে থাকা নৌকাগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসে।
তিনি জানান, উদ্ধার অভিযানে মাতুসাডোনা ন্যাশনাল পার্কের একটি হেলিকপ্টার, স্থানীয় বড় নৌযান, ডুবুরি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় নেয়।
কানহেমার ভাষ্য, দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পানিতে অনেক মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। উদ্ধার করা সম্ভব এমন যাত্রীদের দ্রুত নৌযানে তোলা হয়।
জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ার সীমান্তে অবস্থিত লেক কারিবা রাজধানী হারারে থেকে ৩০০ কিলোমিটারের বেশি উত্তর-পূর্বে। আয়তনের দিক থেকে এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম হ্রদ। ১৯৫০-এর দশকের শেষভাগ থেকে ১৯৬০-এর দশকের শুরুর দিকে জাম্বেজি নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে হ্রদটি তৈরি করা হয়।
বর্তমানে লেক কারিবা ২০০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এবং কোনো কোনো এলাকায় এর প্রস্থ প্রায় ৪০ কিলোমিটার। দুর্ঘটনার পরও নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
জিম্বাবুয়ের লেক কারিবায় অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ফেরি উল্টে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ৭৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সিভিল প্রোটেকশন ইউনিট।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে ফেরিটি উল্টে যায়। দুর্ঘটনার সময় ফেরিটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সিভিল প্রোটেকশন ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, ফেরিটির ধারণক্ষমতা ছিল ৯০ জন। তবে টিকিট বিক্রির নিবন্ধিত হিসাব অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় এতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া টিকিট কাটার বয়স হয়নি, এমন কতজন শিশু ফেরিটিতে ছিল তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কারিবা শহর থেকে লেকের বিভিন্ন দ্বীপ ও মাছ ধরার ক্যাম্পে যাত্রী পরিবহন করত ফেরিটি। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করে জিম্বাবুয়ের জাতীয় পুলিশ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থা।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডবিসির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, হ্রদে উল্টে থাকা ফেরিটির দিকে কয়েকটি স্পিডবোট এগিয়ে যাচ্ছে। আকাশে একটি হেলিকপ্টারকেও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে দেখা যায়। পানির নিচে নিখোঁজদের সন্ধানে ডুবুরি দলও মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ম্যাক্সটন কানহেমা এএফপিকে জানান, খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেই ফেরিটি যাত্রা শুরু করেছিল। একপর্যায়ে একটি বড় ঢেউ ফেরিটিতে আঘাত করলে এর ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে তিনি ধারণা করেন।
কানহেমা বলেন, পানির মধ্যে থাকা অবস্থায় তারা বিপদের সংকেত দেখতে পান। এরপর আশপাশে থাকা নৌকাগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসে।
তিনি জানান, উদ্ধার অভিযানে মাতুসাডোনা ন্যাশনাল পার্কের একটি হেলিকপ্টার, স্থানীয় বড় নৌযান, ডুবুরি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় নেয়।
কানহেমার ভাষ্য, দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পানিতে অনেক মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। উদ্ধার করা সম্ভব এমন যাত্রীদের দ্রুত নৌযানে তোলা হয়।
জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ার সীমান্তে অবস্থিত লেক কারিবা রাজধানী হারারে থেকে ৩০০ কিলোমিটারের বেশি উত্তর-পূর্বে। আয়তনের দিক থেকে এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম হ্রদ। ১৯৫০-এর দশকের শেষভাগ থেকে ১৯৬০-এর দশকের শুরুর দিকে জাম্বেজি নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে হ্রদটি তৈরি করা হয়।
বর্তমানে লেক কারিবা ২০০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এবং কোনো কোনো এলাকায় এর প্রস্থ প্রায় ৪০ কিলোমিটার। দুর্ঘটনার পরও নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন