প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান নিজের জীবন ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীন। বাবা-মা সন্তানের অভিভাবক হলেও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তাকে নিজেদের সম্পত্তি হিসেবে দাবি করতে পারেন না। এমনই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন ভারতের বোম্বে হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চ।
পছন্দের মানুষের সঙ্গে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া এক তরুণীর জিম্মা চেয়ে তার মায়ের করা হেবিয়াস কর্পাস আবেদন খারিজ করে আদালত বলেছেন, প্রাপ্তবয়স্ক একজন নারী নিজের ইচ্ছায় জীবনসঙ্গী বেছে নিলে তাকে জোর করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। খবর এনডিটিভির।
মামলার সূত্রপাত নাগপুরে। ১৭ বছর বয়সে ওই তরুণী কোচিং ক্লাসে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। পরে সিসিটিভি ফুটেজে তাকে এক যুবকের সঙ্গে চলে যেতে দেখা যায়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়।
তবে কিছুদিন পর তরুণী আবারও বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এরপর মেয়েকে নিজের জিম্মায় ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন তার মা।
শুনানির সময় আদালত সরাসরি তরুণীর সঙ্গে কথা বলেন। তখন তিনি বিচারকদের জানান, নিজের ইচ্ছাতেই তিনি বাড়ি ছেড়েছেন। বর্তমানে তিনি ওই যুবকের সঙ্গে বসবাস করছেন এবং ভবিষ্যতেও তার সঙ্গেই থাকতে চান।
তরুণীর বক্তব্য শোনার পর আদালত বলেন, তিনি এখন প্রাপ্তবয়স্ক। ফলে নিজের জীবন ও জীবনসঙ্গী সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনগত অধিকার তার রয়েছে।
মায়ের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকার সময় ওই যুবক তরুণীকে বেআইনিভাবে আটকে রেখেছিলেন। তবে আদালত এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাননি। যুবকের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা না হওয়ার বিষয়েও মায়ের অভিযোগ আদালত গ্রহণ করেননি।
এ সময় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন পূর্ববর্তী রায়ের উল্লেখ করে হাইকোর্ট বলেন, সন্তানের জিম্মার মতো বিষয়ে শুধু বাবা-মায়ের অধিকার দেখলেই হবে না। সন্তানের কল্যাণ এবং নিজের ইচ্ছাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
আদালত আরও বলেন, হেবিয়াস কর্পাসের আবেদন সফল করতে হলে কোনো ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে আটক বা জোরপূর্বক আটকে রাখার বিষয়টি প্রমাণ করতে হয়। এই মামলায় এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং তরুণী নিজেই জানিয়েছেন, তিনি স্বেচ্ছায় ওই যুবকের সঙ্গে বসবাস করছেন।
এ কারণে নাগপুর বেঞ্চ মায়ের করা আবেদনটি খারিজ করে দেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান নিজের জীবন ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীন। বাবা-মা সন্তানের অভিভাবক হলেও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তাকে নিজেদের সম্পত্তি হিসেবে দাবি করতে পারেন না। এমনই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন ভারতের বোম্বে হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চ।
পছন্দের মানুষের সঙ্গে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া এক তরুণীর জিম্মা চেয়ে তার মায়ের করা হেবিয়াস কর্পাস আবেদন খারিজ করে আদালত বলেছেন, প্রাপ্তবয়স্ক একজন নারী নিজের ইচ্ছায় জীবনসঙ্গী বেছে নিলে তাকে জোর করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। খবর এনডিটিভির।
মামলার সূত্রপাত নাগপুরে। ১৭ বছর বয়সে ওই তরুণী কোচিং ক্লাসে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। পরে সিসিটিভি ফুটেজে তাকে এক যুবকের সঙ্গে চলে যেতে দেখা যায়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়।
তবে কিছুদিন পর তরুণী আবারও বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এরপর মেয়েকে নিজের জিম্মায় ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন তার মা।
শুনানির সময় আদালত সরাসরি তরুণীর সঙ্গে কথা বলেন। তখন তিনি বিচারকদের জানান, নিজের ইচ্ছাতেই তিনি বাড়ি ছেড়েছেন। বর্তমানে তিনি ওই যুবকের সঙ্গে বসবাস করছেন এবং ভবিষ্যতেও তার সঙ্গেই থাকতে চান।
তরুণীর বক্তব্য শোনার পর আদালত বলেন, তিনি এখন প্রাপ্তবয়স্ক। ফলে নিজের জীবন ও জীবনসঙ্গী সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনগত অধিকার তার রয়েছে।
মায়ের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকার সময় ওই যুবক তরুণীকে বেআইনিভাবে আটকে রেখেছিলেন। তবে আদালত এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাননি। যুবকের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা না হওয়ার বিষয়েও মায়ের অভিযোগ আদালত গ্রহণ করেননি।
এ সময় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন পূর্ববর্তী রায়ের উল্লেখ করে হাইকোর্ট বলেন, সন্তানের জিম্মার মতো বিষয়ে শুধু বাবা-মায়ের অধিকার দেখলেই হবে না। সন্তানের কল্যাণ এবং নিজের ইচ্ছাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
আদালত আরও বলেন, হেবিয়াস কর্পাসের আবেদন সফল করতে হলে কোনো ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে আটক বা জোরপূর্বক আটকে রাখার বিষয়টি প্রমাণ করতে হয়। এই মামলায় এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং তরুণী নিজেই জানিয়েছেন, তিনি স্বেচ্ছায় ওই যুবকের সঙ্গে বসবাস করছেন।
এ কারণে নাগপুর বেঞ্চ মায়ের করা আবেদনটি খারিজ করে দেন।

আপনার মতামত লিখুন