ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

জমির বিরোধে ১৫০ গাছ কেটে বেড়া-খুঁটি ভাঙার অভিযোগ



জমির বিরোধে ১৫০ গাছ কেটে বেড়া-খুঁটি ভাঙার অভিযোগ
ছবি: প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রায় দেড় শতাধিক ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে জমির সীমানায় থাকা সিমেন্টের খুঁটি তুলে ফেলা এবং জিআই তারের বেড়া কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সামছুন নাহার।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের সোনাপোতা ঢাকাইয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় মোছা. সামছুন নাহার বাদী হয়ে মো. ইনছান আলীকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে দেবীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে সামছুন নাহারের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে মো. ইনছান আলীর নেতৃত্বে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে সামছুন নাহারের ভোগদখলীয় জমিতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে তারা ওই জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১৫০টি ফলজ ও বনজ গাছ কেটে এবং উপড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন সামছুন নাহার। এতে প্রায় ৩২ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে থানায় দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া জমির সীমানায় থাকা সিমেন্টের খুঁটি তুলে ফেলে প্রায় ২৮ হাজার টাকার ক্ষতি এবং প্রায় ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের জিআই তারের বেড়া কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এর আগে গত ২৪ জুলাই মারধরের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দেবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন সামছুন নাহার। ওই মামলায় আসামিরা জামিনে বের হওয়ার পর জমির বিরোধ মীমাংসার কথা বলে তার কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং মামলা তুলে নিতে চাপ দেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, জমির বিভিন্ন অংশে গাছ কাটা ও উপড়ে ফেলার চিহ্ন রয়েছে। সীমানার বেশ কয়েকটি সিমেন্টের খুঁটি তুলে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি জিআই তারের বেড়াও কাটা অবস্থায় দেখা যায়।

ভুক্তভোগী সামছুন নাহার বলেন, “পৈতৃক সূত্রে প্রায় ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে ৫১ শতাংশ জমি ভোগদখল করে আসছি। প্রায় দুই বছর আগে ৩০ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে ইনছান আলীর সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে একাধিকবার থানায় বসা হয়েছে। তারা কাগজ দেখানোর কথা বলে বারবার সময় নিলেও কাগজ দেখাতে পারেনি। এর আগেও মারধরের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। তারা এখন জামিনে রয়েছে। সোমবার তারাই আমার জমির গাছ কেটে ফেলেছে, সিমেন্টের খুঁটি তুলে ফেলেছে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. ইনছান আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুসা মিয়া বলেন, “অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


জমির বিরোধে ১৫০ গাছ কেটে বেড়া-খুঁটি ভাঙার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রায় দেড় শতাধিক ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে জমির সীমানায় থাকা সিমেন্টের খুঁটি তুলে ফেলা এবং জিআই তারের বেড়া কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সামছুন নাহার।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের সোনাপোতা ঢাকাইয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় মোছা. সামছুন নাহার বাদী হয়ে মো. ইনছান আলীকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে দেবীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে সামছুন নাহারের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে মো. ইনছান আলীর নেতৃত্বে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে সামছুন নাহারের ভোগদখলীয় জমিতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে তারা ওই জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১৫০টি ফলজ ও বনজ গাছ কেটে এবং উপড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন সামছুন নাহার। এতে প্রায় ৩২ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে থানায় দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া জমির সীমানায় থাকা সিমেন্টের খুঁটি তুলে ফেলে প্রায় ২৮ হাজার টাকার ক্ষতি এবং প্রায় ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের জিআই তারের বেড়া কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এর আগে গত ২৪ জুলাই মারধরের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দেবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন সামছুন নাহার। ওই মামলায় আসামিরা জামিনে বের হওয়ার পর জমির বিরোধ মীমাংসার কথা বলে তার কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং মামলা তুলে নিতে চাপ দেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, জমির বিভিন্ন অংশে গাছ কাটা ও উপড়ে ফেলার চিহ্ন রয়েছে। সীমানার বেশ কয়েকটি সিমেন্টের খুঁটি তুলে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি জিআই তারের বেড়াও কাটা অবস্থায় দেখা যায়।

ভুক্তভোগী সামছুন নাহার বলেন, “পৈতৃক সূত্রে প্রায় ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে ৫১ শতাংশ জমি ভোগদখল করে আসছি। প্রায় দুই বছর আগে ৩০ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে ইনছান আলীর সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে একাধিকবার থানায় বসা হয়েছে। তারা কাগজ দেখানোর কথা বলে বারবার সময় নিলেও কাগজ দেখাতে পারেনি। এর আগেও মারধরের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। তারা এখন জামিনে রয়েছে। সোমবার তারাই আমার জমির গাছ কেটে ফেলেছে, সিমেন্টের খুঁটি তুলে ফেলেছে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. ইনছান আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুসা মিয়া বলেন, “অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ