ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

২২০ কোটি টাকা খরচে ‘কুকুর’ হলেন জাপানি যুবক!


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬

২২০ কোটি টাকা খরচে ‘কুকুর’ হলেন জাপানি যুবক!
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছুদিন ধরে একটি দাবি ঘুরে বেড়াচ্ছে। জাপানের ২৬ বছর বয়সী এক যুবক নাকি নিজেকে কুকুরের মতো দেখতে করতে অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। শুধু তাই নয়, মানুষের অবয়ব থেকে কুকুরে রূপ নিতে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ২২০ কোটি টাকা—এমন দাবিও ছড়িয়ে পড়ে অনলাইনে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভাইরাল এই দাবির সঙ্গে বাস্তব ঘটনার বেশ বড় পার্থক্য রয়েছে। কোনো অস্ত্রোপচার করে কুকুরে রূপান্তরিত হননি ওই যুবক। বিশেষভাবে তৈরি একটি কস্টিউম পরে তিনি কুকুরের মতো সেজেছিলেন।

জাপানি ওই যুবকের নাম টোকো। ছোটবেলা থেকেই বর্ডার কলি প্রজাতির কুকুরের প্রতি তাঁর আলাদা আকর্ষণ ছিল। একসময় নিজের চেহারাকেও ওই প্রজাতির কুকুরের মতো করার ইচ্ছা জাগে তাঁর। সেই ইচ্ছা থেকেই বিশেষ ধরনের কস্টিউম তৈরির উদ্যোগ নেন তিনি।

টোকো এ জন্য যোগাযোগ করেন জাপানের কস্টিউম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেপেটের সঙ্গে। সিনেমা, বিজ্ঞাপন ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের জন্য বাস্তবসম্মত পোশাক ও কস্টিউম তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ দক্ষতা রয়েছে।

টোকোর জন্য তৈরি করা কস্টিউমটি ছিল বেশ বাস্তবসম্মত। বর্ডার কলির শারীরিক গঠন, লোম, মুখের আকৃতি ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য যতটা সম্ভব নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। ফলে কস্টিউমটি পরে টোকোকে দূর থেকে দেখলে সত্যিকারের কুকুর বলেই মনে হতে পারে।

কস্টিউমটি তৈরি করতে জেপেটের প্রায় ৪০ দিন সময় লাগে। এর পেছনে টোকোর খরচ হয় প্রায় ২০ লাখ জাপানি ইয়েন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ আনুমানিক ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা।

অর্থাৎ, টোকো কুকুরে রূপান্তরিত হতে ২২০ কোটি টাকা খরচ করেছেন কিংবা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর শরীরের পরিবর্তন করা হয়েছে, এমন দাবির কোনো ভিত্তি নেই।

বিশেষ কস্টিউম পরে টোকোর হাঁটাচলা ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই তাঁকে ঘিরে নানা ধরনের চমকপ্রদ দাবি তৈরি হয়। অনেকেই ভিডিও দেখে বিষয়টি যাচাই না করেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মানুষ থেকে কুকুর হওয়ার ঘটনা হিসেবে প্রচার করতে থাকেন।

বাস্তবে টোকো একজন মানুষই। নিজের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ করতে তিনি শুধু একটি বিশেষভাবে তৈরি কস্টিউম পরেছেন। আর সেই কস্টিউমের বাস্তবসম্মত চেহারাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি করেছে নানা বিভ্রান্তি।

টোকোর ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ছবি বা ভিডিও যতই চমকপ্রদ হোক, সেটি দেখে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাস করা ঠিক নয়। কোনো দাবি ছড়িয়ে পড়ার আগে এর উৎস ও সত্যতা যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


২২০ কোটি টাকা খরচে ‘কুকুর’ হলেন জাপানি যুবক!

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছুদিন ধরে একটি দাবি ঘুরে বেড়াচ্ছে। জাপানের ২৬ বছর বয়সী এক যুবক নাকি নিজেকে কুকুরের মতো দেখতে করতে অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। শুধু তাই নয়, মানুষের অবয়ব থেকে কুকুরে রূপ নিতে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ২২০ কোটি টাকা—এমন দাবিও ছড়িয়ে পড়ে অনলাইনে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভাইরাল এই দাবির সঙ্গে বাস্তব ঘটনার বেশ বড় পার্থক্য রয়েছে। কোনো অস্ত্রোপচার করে কুকুরে রূপান্তরিত হননি ওই যুবক। বিশেষভাবে তৈরি একটি কস্টিউম পরে তিনি কুকুরের মতো সেজেছিলেন।

জাপানি ওই যুবকের নাম টোকো। ছোটবেলা থেকেই বর্ডার কলি প্রজাতির কুকুরের প্রতি তাঁর আলাদা আকর্ষণ ছিল। একসময় নিজের চেহারাকেও ওই প্রজাতির কুকুরের মতো করার ইচ্ছা জাগে তাঁর। সেই ইচ্ছা থেকেই বিশেষ ধরনের কস্টিউম তৈরির উদ্যোগ নেন তিনি।

টোকো এ জন্য যোগাযোগ করেন জাপানের কস্টিউম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেপেটের সঙ্গে। সিনেমা, বিজ্ঞাপন ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের জন্য বাস্তবসম্মত পোশাক ও কস্টিউম তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ দক্ষতা রয়েছে।

টোকোর জন্য তৈরি করা কস্টিউমটি ছিল বেশ বাস্তবসম্মত। বর্ডার কলির শারীরিক গঠন, লোম, মুখের আকৃতি ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য যতটা সম্ভব নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। ফলে কস্টিউমটি পরে টোকোকে দূর থেকে দেখলে সত্যিকারের কুকুর বলেই মনে হতে পারে।

কস্টিউমটি তৈরি করতে জেপেটের প্রায় ৪০ দিন সময় লাগে। এর পেছনে টোকোর খরচ হয় প্রায় ২০ লাখ জাপানি ইয়েন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ আনুমানিক ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা।

অর্থাৎ, টোকো কুকুরে রূপান্তরিত হতে ২২০ কোটি টাকা খরচ করেছেন কিংবা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর শরীরের পরিবর্তন করা হয়েছে, এমন দাবির কোনো ভিত্তি নেই।

বিশেষ কস্টিউম পরে টোকোর হাঁটাচলা ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই তাঁকে ঘিরে নানা ধরনের চমকপ্রদ দাবি তৈরি হয়। অনেকেই ভিডিও দেখে বিষয়টি যাচাই না করেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মানুষ থেকে কুকুর হওয়ার ঘটনা হিসেবে প্রচার করতে থাকেন।

বাস্তবে টোকো একজন মানুষই। নিজের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ করতে তিনি শুধু একটি বিশেষভাবে তৈরি কস্টিউম পরেছেন। আর সেই কস্টিউমের বাস্তবসম্মত চেহারাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি করেছে নানা বিভ্রান্তি।

টোকোর ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ছবি বা ভিডিও যতই চমকপ্রদ হোক, সেটি দেখে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাস করা ঠিক নয়। কোনো দাবি ছড়িয়ে পড়ার আগে এর উৎস ও সত্যতা যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ