কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাত্র এক কিলোমিটার অংশের খানাখন্দে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও চালকেরা। ময়নামতি সেনানিবাসসংলগ্ন আমতলী এলাকার ভাঙাচোরা সড়কের কারণে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। এর প্রভাব পড়ছে মহাসড়কের প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায়।
গত ১৫ দিন ধরে এই অংশে যানজট নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল থেকে আমতলী এলাকাকে কেন্দ্র করে প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয় দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আমতলী এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। ভারি বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। সংস্কারকাজের জন্য তৈরি বিকল্প লেনের অবস্থাও করুণ। সেখানে পানি ও কাদায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ঢাকামুখী লেনে তৈরি হওয়া যানজট কুমিল্লার আলেখারচর থেকে শুরু হয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর কয়েকজন চালক উল্টো পথে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করলে যানজট আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
যাত্রী ও চালকদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তাদের দাবি, সংস্কারকাজে নিম্নমানের ইট, বালু ও বিটুমিন ব্যবহারের কারণেই অল্প সময়ের মধ্যে সড়ক আবারও নষ্ট হয়ে যায়।
যানজটে আটকে থাকা এশিয়া লাইন বাসের চালক আবুল কালাম বলেন, ‘প্রতি বছরই সড়ক সংস্কারের নামে কাজ করা হয়। কিন্তু বৃষ্টি হলেই আবার গর্ত তৈরি হয়। আমতলী এলাকায় গাড়ি ধীরগতিতে চলায় এর প্রভাব পুরো মহাসড়কে পড়ছে।’
লরি চালক আবু রায়হান বলেন, ‘তিন মাস ধরে আমতলী এলাকার এই অংশে ভোগান্তি পোহাচ্ছি। এক কিলোমিটার রাস্তা পার হতে গিয়ে ২০ কিলোমিটার যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে। মালামালবোঝাই ট্রাক নিয়ে গর্তে নামা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বাধ্য হয়ে ধীরে চলতে হয়।’
ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বলেন, সড়ক বিভাগ গত তিন মাস ধরে আমতলী অংশে সংস্কারকাজ চালাচ্ছে। এতে যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে। যানবাহনের চাপ সামলাতে হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা গত কয়েক দিন ধরে দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে দ্রুত সড়ক মেরামত না হলে শুধু পুলিশ দিয়ে এই ভোগান্তি কমানো সম্ভব নয়।
কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, ভারি বর্ষণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মহাসড়ক সচল রাখতে নিয়মিত ইটের খোয়া ফেলা হচ্ছে। তবে আমতলী অংশের সংস্কারকাজ কবে শেষ হবে, তা এখনই সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।
সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে কুমিল্লা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, আমতলী এলাকায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো ড্রেন নেই। ফলে প্রতিবছর বর্ষায় সেখানে পানি জমে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই এলাকায় টেকসইভাবে সড়ক মেরামতের পাশাপাশি ড্রেন নির্মাণের চেষ্টা চলছে।
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম বলেন, আমতলী এলাকায় বড় বড় গর্তের কারণে যানবাহনের গতি থেমে যায়। বিষয়টি সড়ক ও জনপথ বিভাগকে বারবার জানানো হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা না নিলে এই দুর্ভোগ অব্যাহত থাকবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। কুমিল্লা অংশে প্রায় ১০৫ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। মহাসড়কের একটি ছোট অংশের দুরবস্থার কারণে এত দীর্ঘ এলাকায় যানজট তৈরি হওয়ায় প্রতিদিনই দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রী, চালক ও পণ্য পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬
কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাত্র এক কিলোমিটার অংশের খানাখন্দে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও চালকেরা। ময়নামতি সেনানিবাসসংলগ্ন আমতলী এলাকার ভাঙাচোরা সড়কের কারণে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। এর প্রভাব পড়ছে মহাসড়কের প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায়।
গত ১৫ দিন ধরে এই অংশে যানজট নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল থেকে আমতলী এলাকাকে কেন্দ্র করে প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয় দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আমতলী এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। ভারি বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। সংস্কারকাজের জন্য তৈরি বিকল্প লেনের অবস্থাও করুণ। সেখানে পানি ও কাদায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ঢাকামুখী লেনে তৈরি হওয়া যানজট কুমিল্লার আলেখারচর থেকে শুরু হয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর কয়েকজন চালক উল্টো পথে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করলে যানজট আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
যাত্রী ও চালকদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তাদের দাবি, সংস্কারকাজে নিম্নমানের ইট, বালু ও বিটুমিন ব্যবহারের কারণেই অল্প সময়ের মধ্যে সড়ক আবারও নষ্ট হয়ে যায়।
যানজটে আটকে থাকা এশিয়া লাইন বাসের চালক আবুল কালাম বলেন, ‘প্রতি বছরই সড়ক সংস্কারের নামে কাজ করা হয়। কিন্তু বৃষ্টি হলেই আবার গর্ত তৈরি হয়। আমতলী এলাকায় গাড়ি ধীরগতিতে চলায় এর প্রভাব পুরো মহাসড়কে পড়ছে।’
লরি চালক আবু রায়হান বলেন, ‘তিন মাস ধরে আমতলী এলাকার এই অংশে ভোগান্তি পোহাচ্ছি। এক কিলোমিটার রাস্তা পার হতে গিয়ে ২০ কিলোমিটার যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে। মালামালবোঝাই ট্রাক নিয়ে গর্তে নামা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বাধ্য হয়ে ধীরে চলতে হয়।’
ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বলেন, সড়ক বিভাগ গত তিন মাস ধরে আমতলী অংশে সংস্কারকাজ চালাচ্ছে। এতে যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে। যানবাহনের চাপ সামলাতে হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা গত কয়েক দিন ধরে দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে দ্রুত সড়ক মেরামত না হলে শুধু পুলিশ দিয়ে এই ভোগান্তি কমানো সম্ভব নয়।
কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, ভারি বর্ষণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মহাসড়ক সচল রাখতে নিয়মিত ইটের খোয়া ফেলা হচ্ছে। তবে আমতলী অংশের সংস্কারকাজ কবে শেষ হবে, তা এখনই সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।
সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে কুমিল্লা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, আমতলী এলাকায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো ড্রেন নেই। ফলে প্রতিবছর বর্ষায় সেখানে পানি জমে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই এলাকায় টেকসইভাবে সড়ক মেরামতের পাশাপাশি ড্রেন নির্মাণের চেষ্টা চলছে।
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম বলেন, আমতলী এলাকায় বড় বড় গর্তের কারণে যানবাহনের গতি থেমে যায়। বিষয়টি সড়ক ও জনপথ বিভাগকে বারবার জানানো হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা না নিলে এই দুর্ভোগ অব্যাহত থাকবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। কুমিল্লা অংশে প্রায় ১০৫ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। মহাসড়কের একটি ছোট অংশের দুরবস্থার কারণে এত দীর্ঘ এলাকায় যানজট তৈরি হওয়ায় প্রতিদিনই দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রী, চালক ও পণ্য পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন