আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মরক্কো সীমান্তবর্তী স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সিউটায় নজিরবিহীন শরণার্থী অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে স্পেন ও ইতালির মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ন্যাটোর মিত্র দুই দেশের সম্পর্কে এই টানাপোড়েন এখন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের পাল্টাপাল্টি সিদ্ধান্তে গড়িয়েছে।
ইতালি সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপের পর এবার দেশটি থেকে আসা ভ্রমণকারীদের ওপর সাময়িক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ চালুর ঘোষণা দিয়েছে স্পেন।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইতালির দিকে অব্যাহত ‘অনিয়মিত অভিবাসনের চাপ’ বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়া এই সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকার কথা রয়েছে।
গত ৩০ ও ৩১ জুলাই সিউটায় মরক্কো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সাঁতরে ও হেঁটে প্রবেশের চেষ্টা করেন। স্পেনীয় কর্তৃপক্ষের হিসাবে, দুই দিনে প্রায় ৭২ হাজার মানুষ সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় অন্তত ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, মৃতের সংখ্যা ১৪১ জনেরও বেশি হতে পারে।
ঘটনার পরদিন, ৩১ জুলাই ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে স্পেনের সঙ্গে শেনজেনভুক্ত ভিসামুক্ত চলাচল এক মাসের জন্য স্থগিত করে। একই সঙ্গে স্পেন থেকে আকাশ ও সমুদ্রপথে ইতালিতে যাওয়া তৃতীয় দেশের নাগরিকদের ওপর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।
ইতালির এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে স্পেন সরকার। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস বিষয়টিকে ‘ইউরোপীয় ঐক্যের ওপর আঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ইতালিকে রোববারের মধ্যে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের সময়সীমা দেওয়া হয়।
তবে স্পেনের এই আলটিমেটাম সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ইতালির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। তারা জানায়, ১৫ আগস্টের আগে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই। জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইতালি কোনো বিদেশি চাপ মেনে নেবে না বলেও অবস্থান স্পষ্ট করা হয়।
এরপরই পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইতালি থেকে আসা ভ্রমণকারীদের ওপর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপের ঘোষণা দেয় স্পেন।
এদিকে সিউটায় অনুপ্রবেশের ঘটনায় তৈরি হয়েছে গুরুতর মানবিক সংকট। স্পেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করা প্রায় ৭২ হাজার মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে ৭০ হাজারকে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
তবে এখনো সিউটায় শত শত মানুষ অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অভিভাবকহীন শিশুও রয়েছে। অবশিষ্ট এসব মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শরণার্থী সংকটকে ঘিরে দুই মিত্র দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান ইউরোপের অভ্যন্তরীণ সীমান্তনীতি ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মরক্কো সীমান্তবর্তী স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সিউটায় নজিরবিহীন শরণার্থী অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে স্পেন ও ইতালির মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ন্যাটোর মিত্র দুই দেশের সম্পর্কে এই টানাপোড়েন এখন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের পাল্টাপাল্টি সিদ্ধান্তে গড়িয়েছে।
ইতালি সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপের পর এবার দেশটি থেকে আসা ভ্রমণকারীদের ওপর সাময়িক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ চালুর ঘোষণা দিয়েছে স্পেন।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইতালির দিকে অব্যাহত ‘অনিয়মিত অভিবাসনের চাপ’ বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়া এই সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকার কথা রয়েছে।
গত ৩০ ও ৩১ জুলাই সিউটায় মরক্কো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সাঁতরে ও হেঁটে প্রবেশের চেষ্টা করেন। স্পেনীয় কর্তৃপক্ষের হিসাবে, দুই দিনে প্রায় ৭২ হাজার মানুষ সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় অন্তত ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, মৃতের সংখ্যা ১৪১ জনেরও বেশি হতে পারে।
ঘটনার পরদিন, ৩১ জুলাই ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে স্পেনের সঙ্গে শেনজেনভুক্ত ভিসামুক্ত চলাচল এক মাসের জন্য স্থগিত করে। একই সঙ্গে স্পেন থেকে আকাশ ও সমুদ্রপথে ইতালিতে যাওয়া তৃতীয় দেশের নাগরিকদের ওপর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।
ইতালির এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে স্পেন সরকার। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস বিষয়টিকে ‘ইউরোপীয় ঐক্যের ওপর আঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ইতালিকে রোববারের মধ্যে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের সময়সীমা দেওয়া হয়।
তবে স্পেনের এই আলটিমেটাম সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ইতালির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। তারা জানায়, ১৫ আগস্টের আগে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই। জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইতালি কোনো বিদেশি চাপ মেনে নেবে না বলেও অবস্থান স্পষ্ট করা হয়।
এরপরই পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইতালি থেকে আসা ভ্রমণকারীদের ওপর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপের ঘোষণা দেয় স্পেন।
এদিকে সিউটায় অনুপ্রবেশের ঘটনায় তৈরি হয়েছে গুরুতর মানবিক সংকট। স্পেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করা প্রায় ৭২ হাজার মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে ৭০ হাজারকে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
তবে এখনো সিউটায় শত শত মানুষ অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অভিভাবকহীন শিশুও রয়েছে। অবশিষ্ট এসব মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শরণার্থী সংকটকে ঘিরে দুই মিত্র দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান ইউরোপের অভ্যন্তরীণ সীমান্তনীতি ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

আপনার মতামত লিখুন