নেত্রকোনায় ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার (৩০) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলাটি করেন। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
মামলার এজাহারে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ভুক্তভোগী নেত্রকোনা সদরের একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত রিপন মিয়া সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের বাসিন্দা। তবে কয়েক বছর ধরে তিনি পাশের নন্দুরা গ্রামে বাড়ি করে বসবাস করছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, গত শনিবার রাত ৮টার দিকে রিপন মিয়া তাদের বাড়িতে যান। সে সময় শিক্ষার্থীটি বাড়ির উঠানে রান্নার কাজ করছিল এবং তার বাবা-মা বাড়িতে ছিলেন না। এই সুযোগে রিপন জোরপূর্বক তাকে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে মেয়েটির চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান।
পরিবারের দাবি, ভিডিও তৈরির কথা বলে রিপন আগে থেকেই ওই কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করতেন। লোকলজ্জার ভয়ে তারা প্রথমে বিষয়টি প্রকাশ করেননি। পরে এলাকায় ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে রিপন অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চান। পরে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জরিমানার টাকা পাঁচ দিনের মধ্যে পরিশোধের সময়ও নির্ধারণ করা হয়েছিল।
সালিশের কয়েকটি ভিডিও মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রিপন উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চাইছেন এবং নিজের ভুলের কথা উল্লেখ করছেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর ধর্ষণের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ গ্রাম্য সালিশে নিষ্পত্তির চেষ্টা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক (উত্তরাঞ্চল) প্রীতম সোহাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ধর্ষণের মতো অভিযোগের বিচার আইন অনুযায়ী পুলিশ ও আদালতের মাধ্যমে হওয়া উচিত। দলীয় কার্যালয়ে বসে এমন অপরাধের বিচার করার চেষ্টা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার শামিল।
এদিকে অভিযুক্ত রিপন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবার দরিদ্র হওয়ায় তারা স্থানীয়ভাবে বিচার চেয়েছিল। পরে তাদের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে।
অন্যদিকে রিপনের স্ত্রী চম্পা আক্তার দাবি করেছেন, তার স্বামী নিজেকে নির্দোষ বলে জানিয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে তাদের আগে থেকেই পরিচিতি ছিল।
ভুক্তভোগীর মা জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন এবং মেয়ের কাছ থেকে পুরো ঘটনা শুনে আইনের আশ্রয় নেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬
নেত্রকোনায় ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার (৩০) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলাটি করেন। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
মামলার এজাহারে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ভুক্তভোগী নেত্রকোনা সদরের একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত রিপন মিয়া সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের বাসিন্দা। তবে কয়েক বছর ধরে তিনি পাশের নন্দুরা গ্রামে বাড়ি করে বসবাস করছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, গত শনিবার রাত ৮টার দিকে রিপন মিয়া তাদের বাড়িতে যান। সে সময় শিক্ষার্থীটি বাড়ির উঠানে রান্নার কাজ করছিল এবং তার বাবা-মা বাড়িতে ছিলেন না। এই সুযোগে রিপন জোরপূর্বক তাকে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে মেয়েটির চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান।
পরিবারের দাবি, ভিডিও তৈরির কথা বলে রিপন আগে থেকেই ওই কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করতেন। লোকলজ্জার ভয়ে তারা প্রথমে বিষয়টি প্রকাশ করেননি। পরে এলাকায় ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে রিপন অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চান। পরে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জরিমানার টাকা পাঁচ দিনের মধ্যে পরিশোধের সময়ও নির্ধারণ করা হয়েছিল।
সালিশের কয়েকটি ভিডিও মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রিপন উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চাইছেন এবং নিজের ভুলের কথা উল্লেখ করছেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর ধর্ষণের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ গ্রাম্য সালিশে নিষ্পত্তির চেষ্টা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক (উত্তরাঞ্চল) প্রীতম সোহাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ধর্ষণের মতো অভিযোগের বিচার আইন অনুযায়ী পুলিশ ও আদালতের মাধ্যমে হওয়া উচিত। দলীয় কার্যালয়ে বসে এমন অপরাধের বিচার করার চেষ্টা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার শামিল।
এদিকে অভিযুক্ত রিপন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবার দরিদ্র হওয়ায় তারা স্থানীয়ভাবে বিচার চেয়েছিল। পরে তাদের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে।
অন্যদিকে রিপনের স্ত্রী চম্পা আক্তার দাবি করেছেন, তার স্বামী নিজেকে নির্দোষ বলে জানিয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে তাদের আগে থেকেই পরিচিতি ছিল।
ভুক্তভোগীর মা জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন এবং মেয়ের কাছ থেকে পুরো ঘটনা শুনে আইনের আশ্রয় নেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন