কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় একের পর এক চুরি, বৈদ্যুতিক তার কেটে নিয়ে যাওয়া এবং মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্যে চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি স্থানীয়দের তৎপরতায় এক কেজিরও বেশি তামার তার উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে স্টেশন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। এ ঘটনায় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যের নামও সামনে এসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার দুপুরে স্টেশনসংলগ্ন রেলওয়ে পুকুরের পাশে কয়েকজন স্থানীয় যুবক শাহীন নামে এক যুবককে একটি ভারী ব্যাগ হাতে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখেন। তার আচরণে সন্দেহ হলে ব্যাগ তল্লাশি করে তারা এক কেজির বেশি তামার তার উদ্ধার করেন। তবে ওই তার কোথা থেকে এসেছে, সে বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি শাহীন। এ সময় ঘটনাস্থলে এসে মোস্তাকিম নামে আরেক যুবক উদ্ধার হওয়া তামার তার নিজের বলে দাবি করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব তারাপাশা এলাকার বাসিন্দা এবং জেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন দুলালের ছেলে। রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে তিনি উদ্ধার হওয়া মালামাল নিজের বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা তার কাছে মালিকানার প্রমাণ চাইলে তিনি বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেন এবং একপর্যায়ে দাবি করেন, স্টেশন এলাকার একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে তারগুলো সংগ্রহ করেছেন। পরে স্থানীয়রা তাকে নিয়ে সেখানে গেলেও কোনো কাটা তার বা চুরির আলামত পাওয়া যায়নি। অভিযোগের মুখে মোস্তাকিম মোবাইলে জরুরি ফোন এসেছে বলে ভিড় থেকে সরে গিয়ে পালিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর সুযোগ বুঝে শাহীনও ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে উদ্ধার হওয়া তামার তার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা একটি দোকানে সংরক্ষণ করে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে জিআরপি থানায় জমা দেন। স্টেশন এলাকার মুদি দোকানি এনামুল হোসেন বলেন, "আমার দোকান থেকেও কয়েকদিন আগে বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়েছে। পরিচিত মুখ হওয়ায় একজনকে ক্ষমা করেছিলাম। কিন্তু বারবার ছাড় পেয়ে চোরদের সাহস বেড়ে গেছে। এখন আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?" ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে স্টেশন এলাকায় চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। শুধু নগদ অর্থ নয়, দোকানের বৈদ্যুতিক সংযোগের তামার তারও কেটে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। এতে পরদিন দোকান খুলে ব্যবসা পরিচালনা করাই কঠিন হয়ে পড়ছে। এক কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, "ব্যবসা করব, নাকি সারারাত দোকান পাহারা দেব? বিদ্যুতের তার কেটে নিয়ে গেলে পুরো দোকান অচল হয়ে যায়। দ্রুত এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।" কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহাউদ্দিন ফারুকী জানান, গত ২৪ জুলাই গভীর রাতে স্টেশন এলাকার তিনটি দোকানে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা ঘটে। একই রাতে আরও একটি দোকানে চুরির চেষ্টা হলেও দোকান মালিকের চিৎকারে পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) ও স্থানীয়দের তৎপরতায় চোরেরা মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, "চুরির ঘটনার পর থেকেই তদন্ত চলছে। স্থানীয়দের তৎপরতায় এক কেজির বেশি তামার তার উদ্ধার হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় সন্দেহভাজনরা চুরির কথা স্বীকার করলেও পুলিশের উপস্থিতির আগেই পালিয়ে যায়।" ওসি আরও জানান, এসআই দীপক উদ্ধার হওয়া আলামত জব্দ করে থানায় নিয়ে এসেছেন। মোস্তাকিম সম্পর্কে তিনি বলেন, "স্থানীয়দের কাছ থেকে জেনেছি, সে নিয়মিত মাদকসেবন করে এবং অতীতেও অপরাধে জড়িত ছিল। সে কার ছেলে, সেটি আইনের কাছে বিবেচ্য নয়। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।" তবে তিনি স্পষ্ট করেন, স্থানীয়রা কাউকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেননি। শুধু উদ্ধার হওয়া তামার তার থানায় জমা দিয়েছেন। এছাড়া এখন পর্যন্ত কোনো ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদকাসক্তির বিস্তার এবং অপরাধীদের প্রভাবশালী পরিচয়ের সুযোগ নেওয়ার প্রবণতা স্টেশন এলাকায় অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ব্যবসায়ীদের দাবি, শাহীন, মোস্তাকিম, মুন্নাসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে চোরচক্রের মূলহোতাদের শনাক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে রাতের বেলায় জিআরপি ও আরএনবির টহল বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন তারা। ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস, দ্রুত তদন্ত, নিয়মিত টহল এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমেই কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬
কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় একের পর এক চুরি, বৈদ্যুতিক তার কেটে নিয়ে যাওয়া এবং মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্যে চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি স্থানীয়দের তৎপরতায় এক কেজিরও বেশি তামার তার উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে স্টেশন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। এ ঘটনায় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যের নামও সামনে এসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার দুপুরে স্টেশনসংলগ্ন রেলওয়ে পুকুরের পাশে কয়েকজন স্থানীয় যুবক শাহীন নামে এক যুবককে একটি ভারী ব্যাগ হাতে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখেন। তার আচরণে সন্দেহ হলে ব্যাগ তল্লাশি করে তারা এক কেজির বেশি তামার তার উদ্ধার করেন। তবে ওই তার কোথা থেকে এসেছে, সে বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি শাহীন। এ সময় ঘটনাস্থলে এসে মোস্তাকিম নামে আরেক যুবক উদ্ধার হওয়া তামার তার নিজের বলে দাবি করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব তারাপাশা এলাকার বাসিন্দা এবং জেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন দুলালের ছেলে। রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে তিনি উদ্ধার হওয়া মালামাল নিজের বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা তার কাছে মালিকানার প্রমাণ চাইলে তিনি বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেন এবং একপর্যায়ে দাবি করেন, স্টেশন এলাকার একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে তারগুলো সংগ্রহ করেছেন। পরে স্থানীয়রা তাকে নিয়ে সেখানে গেলেও কোনো কাটা তার বা চুরির আলামত পাওয়া যায়নি। অভিযোগের মুখে মোস্তাকিম মোবাইলে জরুরি ফোন এসেছে বলে ভিড় থেকে সরে গিয়ে পালিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর সুযোগ বুঝে শাহীনও ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে উদ্ধার হওয়া তামার তার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা একটি দোকানে সংরক্ষণ করে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে জিআরপি থানায় জমা দেন। স্টেশন এলাকার মুদি দোকানি এনামুল হোসেন বলেন, "আমার দোকান থেকেও কয়েকদিন আগে বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়েছে। পরিচিত মুখ হওয়ায় একজনকে ক্ষমা করেছিলাম। কিন্তু বারবার ছাড় পেয়ে চোরদের সাহস বেড়ে গেছে। এখন আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?" ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে স্টেশন এলাকায় চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। শুধু নগদ অর্থ নয়, দোকানের বৈদ্যুতিক সংযোগের তামার তারও কেটে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। এতে পরদিন দোকান খুলে ব্যবসা পরিচালনা করাই কঠিন হয়ে পড়ছে। এক কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, "ব্যবসা করব, নাকি সারারাত দোকান পাহারা দেব? বিদ্যুতের তার কেটে নিয়ে গেলে পুরো দোকান অচল হয়ে যায়। দ্রুত এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।" কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহাউদ্দিন ফারুকী জানান, গত ২৪ জুলাই গভীর রাতে স্টেশন এলাকার তিনটি দোকানে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা ঘটে। একই রাতে আরও একটি দোকানে চুরির চেষ্টা হলেও দোকান মালিকের চিৎকারে পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) ও স্থানীয়দের তৎপরতায় চোরেরা মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, "চুরির ঘটনার পর থেকেই তদন্ত চলছে। স্থানীয়দের তৎপরতায় এক কেজির বেশি তামার তার উদ্ধার হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় সন্দেহভাজনরা চুরির কথা স্বীকার করলেও পুলিশের উপস্থিতির আগেই পালিয়ে যায়।" ওসি আরও জানান, এসআই দীপক উদ্ধার হওয়া আলামত জব্দ করে থানায় নিয়ে এসেছেন। মোস্তাকিম সম্পর্কে তিনি বলেন, "স্থানীয়দের কাছ থেকে জেনেছি, সে নিয়মিত মাদকসেবন করে এবং অতীতেও অপরাধে জড়িত ছিল। সে কার ছেলে, সেটি আইনের কাছে বিবেচ্য নয়। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।" তবে তিনি স্পষ্ট করেন, স্থানীয়রা কাউকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেননি। শুধু উদ্ধার হওয়া তামার তার থানায় জমা দিয়েছেন। এছাড়া এখন পর্যন্ত কোনো ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদকাসক্তির বিস্তার এবং অপরাধীদের প্রভাবশালী পরিচয়ের সুযোগ নেওয়ার প্রবণতা স্টেশন এলাকায় অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ব্যবসায়ীদের দাবি, শাহীন, মোস্তাকিম, মুন্নাসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে চোরচক্রের মূলহোতাদের শনাক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে রাতের বেলায় জিআরপি ও আরএনবির টহল বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন তারা। ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস, দ্রুত তদন্ত, নিয়মিত টহল এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমেই কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন