ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ভিনিসিয়ুস কেন রিয়ালের অমূল্য সম্পদ?


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬

ভিনিসিয়ুস কেন রিয়ালের অমূল্য সম্পদ?
ছবি: সংগৃহীত

বল পায়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়ানো ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবার আলোচনায় মাঠের বাইরের এক ভিন্ন কারণে। স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক এএস–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ডের সঙ্গে দ্রুত নতুন চুক্তি করতে আগ্রহী রিয়াল মাদ্রিদ। কারণ, তার বিপণনমূল্য ও ইমেজ রাইটস থেকে ক্লাব যে আয় করছে, তা অনেকটাই তার বেতনের ভার সামলে দিচ্ছে।

২০১৭ সালে ব্রাজিলের ফ্ল্যামেঙ্গো থেকে ৪ কোটি ৫০ লাখ ইউরো খরচ করে ভিনিসিয়ুসকে দলে ভেড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। সে সময় এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সময়ই প্রমাণ করেছে, সেটি ছিল ক্লাবটির অন্যতম সফল বিনিয়োগ।

এ পর্যন্ত রিয়ালের জার্সিতে ৩৭৫ ম্যাচ খেলেছেন ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। করেছেন ১২৮ গোল, সঙ্গে ৮৫টি অ্যাসিস্ট। ক্লাবের সর্বশেষ দুটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয়ের পথেও ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান।


তবে নতুন চুক্তির পেছনে শুধু মাঠের পারফরম্যান্সই নয়, রয়েছে বড় একটি বাণিজ্যিক কারণও। ২০২২ সালে চুক্তি নবায়নের সময় ভিনিসিয়ুসের ইমেজ রাইটসের প্রায় ৫০ শতাংশের মালিকানা নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। ফলে তার নাম, ছবি ও ব্র্যান্ড ব্যবহার করে যে আয় হয়, তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ক্লাবের ঘরেই আসে।

ভিনিসিয়ুসের ক্যারিয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রক নেশন স্পোর্টস ব্রাজিল–এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফ্রেদেরিকো পেনা জানান, বিশ্বজুড়ে বড় বড় ব্র্যান্ডের কাছে ভিনিসিয়ুসের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তার ভাষায়, বিশ্বসেরা ক্লাবের অন্যতম প্রধান খেলোয়াড়, দুইবারের চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী এবং অধ্যবসায়ের প্রতীক হিসেবে ভিনিসিয়ুস এখন অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রথম পছন্দ।

বিপণন অঙ্গনেও তার অবস্থান বেশ শক্ত। সর্বশেষ বিশ্বকাপের সময় ১৬টি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে পৃষ্ঠপোষকতার চুক্তি ছিল তার। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের মধ্যে এ ক্ষেত্রে কেবল নেইমারই এগিয়ে। ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে তার বিভিন্ন বাণিজ্যিক কনটেন্ট বিশ্বজুড়ে ১০০ মিলিয়নেরও বেশি বার দেখা হয়েছে।

আজকের ভিনিসিয়ুস শুধু একজন ফুটবলার নন, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ব্র্যান্ড। তার আর্থিক, প্রশাসনিক, আইনি ও বিপণন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রয়েছে আলাদা পেশাদার টিম, যেখানে একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), অর্থ পরিচালকসহ বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। পাশাপাশি শিশুদের উদ্ভাবনী শিক্ষার জন্য পরিচালিত তার দাতব্য সংস্থাও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত।

মাঠের বাইরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো বর্ণবাদের বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থান। বৈষম্যের বিরুদ্ধে আপসহীন কণ্ঠ হিসেবে ভিনিসিয়ুসের এই ভাবমূর্তি বিশ্বজুড়ে বহু প্রতিষ্ঠানের কাছে তাকে আরও গ্রহণযোগ্য ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এতে তার ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড ভ্যালুর পাশাপাশি রিয়াল মাদ্রিদের বাণিজ্যিক লাভও বেড়েছে।

সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে নতুন চুক্তি এখন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করা হচ্ছে। রিয়াল মাদ্রিদ ভালোভাবেই জানে, তিনি শুধু গোল করে ম্যাচ জেতান না, ক্লাবের বৈশ্বিক ব্র্যান্ড মূল্য ও আর্থিক শক্তিকেও সমানভাবে সমৃদ্ধ করছেন। তাই ভিনিসিয়ুসকে ঘিরে তাদের পরিকল্পনা কেবল ফুটবল নয়, দীর্ঘমেয়াদি এক সফল ব্যবসায়িক কৌশলেরও অংশ।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ভিনিসিয়ুস কেন রিয়ালের অমূল্য সম্পদ?

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

বল পায়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়ানো ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবার আলোচনায় মাঠের বাইরের এক ভিন্ন কারণে। স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক এএস–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ডের সঙ্গে দ্রুত নতুন চুক্তি করতে আগ্রহী রিয়াল মাদ্রিদ। কারণ, তার বিপণনমূল্য ও ইমেজ রাইটস থেকে ক্লাব যে আয় করছে, তা অনেকটাই তার বেতনের ভার সামলে দিচ্ছে।

২০১৭ সালে ব্রাজিলের ফ্ল্যামেঙ্গো থেকে ৪ কোটি ৫০ লাখ ইউরো খরচ করে ভিনিসিয়ুসকে দলে ভেড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। সে সময় এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সময়ই প্রমাণ করেছে, সেটি ছিল ক্লাবটির অন্যতম সফল বিনিয়োগ।

এ পর্যন্ত রিয়ালের জার্সিতে ৩৭৫ ম্যাচ খেলেছেন ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। করেছেন ১২৮ গোল, সঙ্গে ৮৫টি অ্যাসিস্ট। ক্লাবের সর্বশেষ দুটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয়ের পথেও ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান।


তবে নতুন চুক্তির পেছনে শুধু মাঠের পারফরম্যান্সই নয়, রয়েছে বড় একটি বাণিজ্যিক কারণও। ২০২২ সালে চুক্তি নবায়নের সময় ভিনিসিয়ুসের ইমেজ রাইটসের প্রায় ৫০ শতাংশের মালিকানা নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। ফলে তার নাম, ছবি ও ব্র্যান্ড ব্যবহার করে যে আয় হয়, তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ক্লাবের ঘরেই আসে।

ভিনিসিয়ুসের ক্যারিয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রক নেশন স্পোর্টস ব্রাজিল–এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফ্রেদেরিকো পেনা জানান, বিশ্বজুড়ে বড় বড় ব্র্যান্ডের কাছে ভিনিসিয়ুসের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তার ভাষায়, বিশ্বসেরা ক্লাবের অন্যতম প্রধান খেলোয়াড়, দুইবারের চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী এবং অধ্যবসায়ের প্রতীক হিসেবে ভিনিসিয়ুস এখন অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রথম পছন্দ।

বিপণন অঙ্গনেও তার অবস্থান বেশ শক্ত। সর্বশেষ বিশ্বকাপের সময় ১৬টি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে পৃষ্ঠপোষকতার চুক্তি ছিল তার। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের মধ্যে এ ক্ষেত্রে কেবল নেইমারই এগিয়ে। ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে তার বিভিন্ন বাণিজ্যিক কনটেন্ট বিশ্বজুড়ে ১০০ মিলিয়নেরও বেশি বার দেখা হয়েছে।

আজকের ভিনিসিয়ুস শুধু একজন ফুটবলার নন, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ব্র্যান্ড। তার আর্থিক, প্রশাসনিক, আইনি ও বিপণন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রয়েছে আলাদা পেশাদার টিম, যেখানে একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), অর্থ পরিচালকসহ বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। পাশাপাশি শিশুদের উদ্ভাবনী শিক্ষার জন্য পরিচালিত তার দাতব্য সংস্থাও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত।

মাঠের বাইরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো বর্ণবাদের বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থান। বৈষম্যের বিরুদ্ধে আপসহীন কণ্ঠ হিসেবে ভিনিসিয়ুসের এই ভাবমূর্তি বিশ্বজুড়ে বহু প্রতিষ্ঠানের কাছে তাকে আরও গ্রহণযোগ্য ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এতে তার ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড ভ্যালুর পাশাপাশি রিয়াল মাদ্রিদের বাণিজ্যিক লাভও বেড়েছে।

সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে নতুন চুক্তি এখন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করা হচ্ছে। রিয়াল মাদ্রিদ ভালোভাবেই জানে, তিনি শুধু গোল করে ম্যাচ জেতান না, ক্লাবের বৈশ্বিক ব্র্যান্ড মূল্য ও আর্থিক শক্তিকেও সমানভাবে সমৃদ্ধ করছেন। তাই ভিনিসিয়ুসকে ঘিরে তাদের পরিকল্পনা কেবল ফুটবল নয়, দীর্ঘমেয়াদি এক সফল ব্যবসায়িক কৌশলেরও অংশ।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ