নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বালুভরা–বিলাসবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরকারি কোনো নিয়োগ ছাড়াই এক বহিরাগত যুবকের নিয়মিত দাপ্তরিক কাজে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ওই যুবককে সরকারি ল্যাপটপ ব্যবহার করে হোল্ডিং ট্যাক্সসহ বিভিন্ন ভূমি-সংক্রান্ত কাজ করতে দেখা যায়। পরে তিনি নিজেই স্বীকার করেন, তিনি সরকারি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জানান, অফিসের কাজের সুবিধার্থে তিনি ওই যুবককে 'হেল্পিং হ্যান্ড' হিসেবে কাজে রেখেছেন। রবিবার (১৯ জুলাই) তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সাংবাদিকরা বালুভরা–বিলাসবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে কর্মকর্তার কক্ষে রোহান নামে এক যুবককে সরকারি ল্যাপটপে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ করতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনেই তিনি হোল্ডিং ট্যাক্সসহ ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যের কাজ পরিচালনা করছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রোহান বলেন, তিনি সরকারি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন এবং তার নামে কোনো সরকারি নিয়োগও নেই। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিয়মিত অফিসে এসে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করে আসছেন বলে জানান। এ সময় অফিসে উপস্থিত হন বালুভরা–বিলাসবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জাকির হোসেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তার ভাষ্য, "রোহান আমার হেল্পিং হ্যান্ড হিসেবে কাজ করে। অফিসের কাজের সহযোগিতার জন্য তাকে রেখেছি।" ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি নিয়োগ ছাড়া একজন ব্যক্তি কীভাবে নিয়মিত সরকারি অফিসে অবস্থান করছেন, সরকারি ল্যাপটপ ব্যবহার করছেন এবং দাপ্তরিক কাজে অংশ নিচ্ছেন, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ভূমি অফিসের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে নাগরিকদের জমি, খতিয়ান, নামজারি, হোল্ডিং ট্যাক্সসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষিত থাকে। ফলে এমন প্রতিষ্ঠানে অননুমোদিত ব্যক্তির সম্পৃক্ততা তথ্যের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি দ্রুত ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।" স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে। পাশাপাশি সরকারি বিধি-বিধানের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে সরকারি অফিসে অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশ ও দাপ্তরিক কাজে সম্পৃক্ততা ঠেকাতে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বালুভরা–বিলাসবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরকারি কোনো নিয়োগ ছাড়াই এক বহিরাগত যুবকের নিয়মিত দাপ্তরিক কাজে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ওই যুবককে সরকারি ল্যাপটপ ব্যবহার করে হোল্ডিং ট্যাক্সসহ বিভিন্ন ভূমি-সংক্রান্ত কাজ করতে দেখা যায়। পরে তিনি নিজেই স্বীকার করেন, তিনি সরকারি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জানান, অফিসের কাজের সুবিধার্থে তিনি ওই যুবককে 'হেল্পিং হ্যান্ড' হিসেবে কাজে রেখেছেন। রবিবার (১৯ জুলাই) তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সাংবাদিকরা বালুভরা–বিলাসবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে কর্মকর্তার কক্ষে রোহান নামে এক যুবককে সরকারি ল্যাপটপে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ করতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনেই তিনি হোল্ডিং ট্যাক্সসহ ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যের কাজ পরিচালনা করছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রোহান বলেন, তিনি সরকারি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন এবং তার নামে কোনো সরকারি নিয়োগও নেই। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিয়মিত অফিসে এসে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করে আসছেন বলে জানান। এ সময় অফিসে উপস্থিত হন বালুভরা–বিলাসবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জাকির হোসেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তার ভাষ্য, "রোহান আমার হেল্পিং হ্যান্ড হিসেবে কাজ করে। অফিসের কাজের সহযোগিতার জন্য তাকে রেখেছি।" ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি নিয়োগ ছাড়া একজন ব্যক্তি কীভাবে নিয়মিত সরকারি অফিসে অবস্থান করছেন, সরকারি ল্যাপটপ ব্যবহার করছেন এবং দাপ্তরিক কাজে অংশ নিচ্ছেন, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ভূমি অফিসের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে নাগরিকদের জমি, খতিয়ান, নামজারি, হোল্ডিং ট্যাক্সসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষিত থাকে। ফলে এমন প্রতিষ্ঠানে অননুমোদিত ব্যক্তির সম্পৃক্ততা তথ্যের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি দ্রুত ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।" স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে। পাশাপাশি সরকারি বিধি-বিধানের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে সরকারি অফিসে অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশ ও দাপ্তরিক কাজে সম্পৃক্ততা ঠেকাতে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন