ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ধর্ষণের পাঁচ মাস পর অন্তঃসত্ত্বা, সুন্দরগঞ্জে গ্রেফতার ১


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬

ধর্ষণের পাঁচ মাস পর অন্তঃসত্ত্বা, সুন্দরগঞ্জে গ্রেফতার ১
ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এক শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী (৩৬) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ইতোমধ্যে পুলিশ অভিযুক্তদের একজনকে গ্রেফতার করেছে। অপর আসামিকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি পরিবারের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১১ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ির পাশের গোয়ালঘর থেকে ছাই আনতে গেলে একই গ্রামের সবুজ মিয়া ও আবেদ আলী বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন। পরে বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য, অভিযুক্তদের হুমকি, সামাজিক লজ্জা, ভয় এবং নিজের অসহায় অবস্থার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ঘটনাটি গোপন রাখতে বাধ্য হন। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখে স্থানীয় এক কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের সন্দেহ হয়। পরে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে তিনি প্রায় ২১ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি।

মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আবেদ আলীকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। অপর অভিযুক্ত সবুজ মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া আবেদ আলী বর্তমানে কারাগারে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়া পলাতক সবুজ মিয়ার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের কোনো সদস্যকে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযুক্তদের বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ও অসহায় নারীর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এ নৃশংস অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, পলাতক আসামির দ্রুত গ্রেফতার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, মামলা দায়েরের পরপরই একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ধর্ষণের পাঁচ মাস পর অন্তঃসত্ত্বা, সুন্দরগঞ্জে গ্রেফতার ১

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এক শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী (৩৬) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ইতোমধ্যে পুলিশ অভিযুক্তদের একজনকে গ্রেফতার করেছে। অপর আসামিকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি পরিবারের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১১ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ির পাশের গোয়ালঘর থেকে ছাই আনতে গেলে একই গ্রামের সবুজ মিয়া ও আবেদ আলী বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন। পরে বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য, অভিযুক্তদের হুমকি, সামাজিক লজ্জা, ভয় এবং নিজের অসহায় অবস্থার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ঘটনাটি গোপন রাখতে বাধ্য হন। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখে স্থানীয় এক কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের সন্দেহ হয়। পরে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে তিনি প্রায় ২১ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি।

মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আবেদ আলীকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। অপর অভিযুক্ত সবুজ মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া আবেদ আলী বর্তমানে কারাগারে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়া পলাতক সবুজ মিয়ার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের কোনো সদস্যকে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযুক্তদের বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ও অসহায় নারীর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এ নৃশংস অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, পলাতক আসামির দ্রুত গ্রেফতার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, মামলা দায়েরের পরপরই একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ