ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না, জুনেই নিহত ৪৬৩ জন


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬

সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না, জুনেই নিহত ৪৬৩ জন
ছবি: সংগৃহীত

দেশে গত জুন মাসে সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট ৫৯০টি দুর্ঘটনায় ৫১৩ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩৩৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু সড়কেই ৫৩২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৬৩ জন, আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৩২৩ জন

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন মাসে রেলপথে ৫৩টি দুর্ঘটনায় ৪৫ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে নৌপথে ৫টি দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছেন।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই সবচেয়ে বেশি

জুন মাসে ১৭২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৩ জন নিহত এবং ১৩২ জন আহত হয়েছেন। মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩২ দশমিক ৩৩ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট। নিহতের প্রায় ৩৭ শতাংশ এবং আহতের প্রায় ১০ শতাংশ এ ধরনের দুর্ঘটনার শিকার।

কোন বিভাগে কত দুর্ঘটনা

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২৬ জন নিহত ও ৩৭৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ময়মনসিংহ বিভাগে সবচেয়ে কম ২৫টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছেন।

নিহত-আহতদের পরিচয়

সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, চালক, পথচারী, পরিবহন শ্রমিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ২ জন পুলিশ সদস্য, ১ জন সেনাসদস্য, ১১১ জন চালক, ৭১ জন পথচারী, ৪৫ জন নারী, ৪৭ জন শিশু, ৬০ জন শিক্ষার্থী, ১১ জন পরিবহন শ্রমিক, ১০ জন শিক্ষক, ১ জন প্রকৌশলী এবং ৯ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

দুর্ঘটনায় জড়িয়েছে যেসব যানবাহন

জুন মাসে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ৭৯৫টি যানবাহনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ছিল মোটরসাইকেল। এছাড়া ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান, লরি, বাস, ব্যাটারিচালিত রিকশা-ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, নছিমন-করিমন, ট্রাক্টর, লেগুনা, কার, জিপ ও মাইক্রোবাসও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় দুর্ঘটনায় জড়িয়েছে।

দুর্ঘটনার প্রধান কারণ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট দুর্ঘটনার মধ্যে:

  • ৪৩.২৩ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ,
  • ২৭.৬৩ শতাংশ গাড়ির চাপা বা ধাক্কা,
  • ২০.৬৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে,
  • ৭.১৪ শতাংশ অন্যান্য কারণে,
  • ১.১২ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষ এবং
  • ০.১৮ শতাংশ ওড়না চাকায় পেঁচিয়ে সংঘটিত হয়েছে।

কোথায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা

দুর্ঘটনার স্থান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪৪.৭৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে। এছাড়া ২৮.৩৮ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২০.৬৭ শতাংশ ফিডার সড়কে ঘটেছে। ঢাকা মহানগরীতে ঘটেছে ৪.১৩ শতাংশ, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ০.৯৩ শতাংশ এবং রেলক্রসিংয়ে ১.১২ শতাংশ দুর্ঘটনা।

বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানের দাবি

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সড়কে প্রাণহানি কমাতে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএকে দেশি-বিদেশি পরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও ই-প্রসিকিউশন ব্যবস্থা চালু এবং যাত্রীদের সচেতন করতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, এই পরিসংখ্যান গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। ফলে সংবাদমাধ্যমে স্থান না পাওয়া অনেক দুর্ঘটনা এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। বাস্তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না, জুনেই নিহত ৪৬৩ জন

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

দেশে গত জুন মাসে সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট ৫৯০টি দুর্ঘটনায় ৫১৩ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩৩৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু সড়কেই ৫৩২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৬৩ জন, আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৩২৩ জন

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন মাসে রেলপথে ৫৩টি দুর্ঘটনায় ৪৫ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে নৌপথে ৫টি দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছেন।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই সবচেয়ে বেশি

জুন মাসে ১৭২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৩ জন নিহত এবং ১৩২ জন আহত হয়েছেন। মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩২ দশমিক ৩৩ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট। নিহতের প্রায় ৩৭ শতাংশ এবং আহতের প্রায় ১০ শতাংশ এ ধরনের দুর্ঘটনার শিকার।

কোন বিভাগে কত দুর্ঘটনা

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২৬ জন নিহত ও ৩৭৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ময়মনসিংহ বিভাগে সবচেয়ে কম ২৫টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছেন।

নিহত-আহতদের পরিচয়

সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, চালক, পথচারী, পরিবহন শ্রমিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ২ জন পুলিশ সদস্য, ১ জন সেনাসদস্য, ১১১ জন চালক, ৭১ জন পথচারী, ৪৫ জন নারী, ৪৭ জন শিশু, ৬০ জন শিক্ষার্থী, ১১ জন পরিবহন শ্রমিক, ১০ জন শিক্ষক, ১ জন প্রকৌশলী এবং ৯ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

দুর্ঘটনায় জড়িয়েছে যেসব যানবাহন

জুন মাসে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ৭৯৫টি যানবাহনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ছিল মোটরসাইকেল। এছাড়া ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান, লরি, বাস, ব্যাটারিচালিত রিকশা-ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, নছিমন-করিমন, ট্রাক্টর, লেগুনা, কার, জিপ ও মাইক্রোবাসও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় দুর্ঘটনায় জড়িয়েছে।

দুর্ঘটনার প্রধান কারণ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট দুর্ঘটনার মধ্যে:

  • ৪৩.২৩ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ,
  • ২৭.৬৩ শতাংশ গাড়ির চাপা বা ধাক্কা,
  • ২০.৬৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে,
  • ৭.১৪ শতাংশ অন্যান্য কারণে,
  • ১.১২ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষ এবং
  • ০.১৮ শতাংশ ওড়না চাকায় পেঁচিয়ে সংঘটিত হয়েছে।

কোথায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা

দুর্ঘটনার স্থান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪৪.৭৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে। এছাড়া ২৮.৩৮ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২০.৬৭ শতাংশ ফিডার সড়কে ঘটেছে। ঢাকা মহানগরীতে ঘটেছে ৪.১৩ শতাংশ, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ০.৯৩ শতাংশ এবং রেলক্রসিংয়ে ১.১২ শতাংশ দুর্ঘটনা।

বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানের দাবি

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সড়কে প্রাণহানি কমাতে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএকে দেশি-বিদেশি পরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও ই-প্রসিকিউশন ব্যবস্থা চালু এবং যাত্রীদের সচেতন করতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, এই পরিসংখ্যান গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। ফলে সংবাদমাধ্যমে স্থান না পাওয়া অনেক দুর্ঘটনা এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। বাস্তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ