ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার



স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত । প্রতীকী

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের কলাতলা মালিগ্রামে স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের পর লামিয়া বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে নিজ ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ভাঙ্গা থানা পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তার স্বামী জাবেদ বেপারী পলাতক রয়েছেন।

নিহত লামিয়া বেগম জাবেদ বেপারীর স্ত্রী। তাদের সংসারে তিন বছর বয়সী আবু তুহার নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। পরে বাড়ির প্রধান দরজা খোলা দেখে পরিবারের সদস্যরা ঘরে প্রবেশ করলে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় লামিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে অবহিত করেন।

স্থানীয়দের দাবি, পুলিশ ও সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই জাবেদ বেপারী এলাকা ছেড়ে চলে যান। সংবাদ লেখা পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিহতের বড় ভাই বলেন, "খবর পেয়ে দ্রুত বোনের বাড়িতে ছুটে আসি। এসে দেখি ঘরের দরজা খোলা, আর বোন ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানাই।"

নিহতের বাবা জানান, "সকাল প্রায় ১১টার দিকে মেয়ের সঙ্গে শেষবার কথা বলেছি। তখন সে স্বাভাবিক ছিল। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন মর্মান্তিক খবর পাব, তা কখনো ভাবিনি। আমার মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।"

খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেলিম হোসেন বলেন, "মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।"

দ্রষ্টব্য: মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এটিকে আত্মহত্যা বা হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা সমীচীন নয়। তাই প্রতিবেদনে "রহস্যজনক মৃত্যু" ও "ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার" শব্দবন্ধ ব্যবহার করাই সাংবাদিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে অধিক উপযুক্ত।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের কলাতলা মালিগ্রামে স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের পর লামিয়া বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে নিজ ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ভাঙ্গা থানা পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তার স্বামী জাবেদ বেপারী পলাতক রয়েছেন।

নিহত লামিয়া বেগম জাবেদ বেপারীর স্ত্রী। তাদের সংসারে তিন বছর বয়সী আবু তুহার নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। পরে বাড়ির প্রধান দরজা খোলা দেখে পরিবারের সদস্যরা ঘরে প্রবেশ করলে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় লামিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে অবহিত করেন।

স্থানীয়দের দাবি, পুলিশ ও সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই জাবেদ বেপারী এলাকা ছেড়ে চলে যান। সংবাদ লেখা পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিহতের বড় ভাই বলেন, "খবর পেয়ে দ্রুত বোনের বাড়িতে ছুটে আসি। এসে দেখি ঘরের দরজা খোলা, আর বোন ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানাই।"

নিহতের বাবা জানান, "সকাল প্রায় ১১টার দিকে মেয়ের সঙ্গে শেষবার কথা বলেছি। তখন সে স্বাভাবিক ছিল। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন মর্মান্তিক খবর পাব, তা কখনো ভাবিনি। আমার মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।"

খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেলিম হোসেন বলেন, "মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।"

দ্রষ্টব্য: মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এটিকে আত্মহত্যা বা হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা সমীচীন নয়। তাই প্রতিবেদনে "রহস্যজনক মৃত্যু" ও "ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার" শব্দবন্ধ ব্যবহার করাই সাংবাদিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে অধিক উপযুক্ত।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ