ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বেতন বৈষম্য নিরসন ও বিভাগীয় স্বীকৃতির দাবিতে লালমনিরহাটে শাখা ডাকঘর কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি


লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬

বেতন বৈষম্য নিরসন ও বিভাগীয় স্বীকৃতির দাবিতে লালমনিরহাটে শাখা ডাকঘর কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

 ​দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, চরম বেতন বৈষম্য নিরসন এবং বিভাগীয় স্বীকৃতির দাবিতে সারাদেশের ন্যায় লালমনিরহাটেও অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করছেন বাংলাদেশ ডাক বিভাগের শাখা ডাকঘর (ইডি) কর্মচারীরা। গত ৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতির ফলে জেলার গ্রামীণ জনপদে ডাক সেবা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

​বাংলাদেশ ডাক কর্মচারী ইউনিয়ন, বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী সমিতি এবং বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যৌথ ব্যানারে আজ সোমবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন আন্দোলনরত কর্মচারীরা।

​স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে বর্তমানে ৯,৯৭৪টি ডাকঘরের মধ্যে ৮,৫৩৪টিই শাখা বা ইডি (অতিরিক্ত বিভাগীয়) ডাকঘর। ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে ২৩,০২১ জন কর্মচারী অত্যন্ত নামমাত্র বেতনে ডাক বিভাগের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। বর্তমানে একজন কর্মচারীর মাসিক বেতন ৪,০০০ থেকে ৫,৮৪১ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা দৈনিক ভিত্তিতে মাত্র ১৩৩ থেকে ১৯৫ টাকার সমান। বর্তমান বাজারের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এই সামান্য অর্থে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

​আন্দোলনরত কর্মচারীরা জানান, গত ৮ বছরে তাদের কোনো প্রকার বেতন ভাতা বৃদ্ধি করা হয়নি। এছাড়া সরকারি অন্যান্য কর্মচারীদের মতো কোনো প্রকার উৎসব ভাতাও তারা পান না।

একই ধরনের কাজ করা সত্ত্বেও বিভাগীয় কর্মচারীদের তুলনায় তারা চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

​লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ মিজানুর আহমেদ বলেন, "দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে আমরা অবহেলার শিকার। গত ২ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে স্মারকলিপি প্রদান, মিটিং, সমাবেশ ও অনশন কর্মসূচি পালন করেও কোনো সুরাহা মেলেনি। বাধ্য হয়ে আমরা এখন অনির্দিষ্টকালের পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করছি। আমাদের দুই দফা দাবি-বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতি-বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।"

এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি হোসাইন মোঃ সেলিম রেজা। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য গোলাম সারওয়ার বুলবুল, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ জাহাঙ্গীর আলম, আশরাফুল আলমসহ আরও অনেকেই।

​আন্দোলনকারীরা দ্রুত সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস ও দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন, অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বেতন বৈষম্য নিরসন ও বিভাগীয় স্বীকৃতির দাবিতে লালমনিরহাটে শাখা ডাকঘর কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

 ​দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, চরম বেতন বৈষম্য নিরসন এবং বিভাগীয় স্বীকৃতির দাবিতে সারাদেশের ন্যায় লালমনিরহাটেও অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করছেন বাংলাদেশ ডাক বিভাগের শাখা ডাকঘর (ইডি) কর্মচারীরা। গত ৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতির ফলে জেলার গ্রামীণ জনপদে ডাক সেবা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

​বাংলাদেশ ডাক কর্মচারী ইউনিয়ন, বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী সমিতি এবং বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যৌথ ব্যানারে আজ সোমবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন আন্দোলনরত কর্মচারীরা।

​স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে বর্তমানে ৯,৯৭৪টি ডাকঘরের মধ্যে ৮,৫৩৪টিই শাখা বা ইডি (অতিরিক্ত বিভাগীয়) ডাকঘর। ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে ২৩,০২১ জন কর্মচারী অত্যন্ত নামমাত্র বেতনে ডাক বিভাগের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। বর্তমানে একজন কর্মচারীর মাসিক বেতন ৪,০০০ থেকে ৫,৮৪১ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা দৈনিক ভিত্তিতে মাত্র ১৩৩ থেকে ১৯৫ টাকার সমান। বর্তমান বাজারের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এই সামান্য অর্থে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

​আন্দোলনরত কর্মচারীরা জানান, গত ৮ বছরে তাদের কোনো প্রকার বেতন ভাতা বৃদ্ধি করা হয়নি। এছাড়া সরকারি অন্যান্য কর্মচারীদের মতো কোনো প্রকার উৎসব ভাতাও তারা পান না।

একই ধরনের কাজ করা সত্ত্বেও বিভাগীয় কর্মচারীদের তুলনায় তারা চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

​লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ মিজানুর আহমেদ বলেন, "দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে আমরা অবহেলার শিকার। গত ২ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে স্মারকলিপি প্রদান, মিটিং, সমাবেশ ও অনশন কর্মসূচি পালন করেও কোনো সুরাহা মেলেনি। বাধ্য হয়ে আমরা এখন অনির্দিষ্টকালের পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করছি। আমাদের দুই দফা দাবি-বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতি-বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।"

এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি হোসাইন মোঃ সেলিম রেজা। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য গোলাম সারওয়ার বুলবুল, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ জাহাঙ্গীর আলম, আশরাফুল আলমসহ আরও অনেকেই।

​আন্দোলনকারীরা দ্রুত সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস ও দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন, অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ