ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মানি লন্ডারিং মামলায় অভিযুক্ত গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার রামচন্দ্রপুরের রাধা গোবিন্দ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হরিদাস চন্দ্র দাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার (১৩ জুলাই) গাইবান্ধার পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রোববার রাতে মন্দিরসংলগ্ন একটি রিসোর্ট থেকে গাইবান্ধা পুলিশের সহযোগিতায় সিআইডির একটি দল হরিদাস চন্দ্র দাসকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, বৈধ আয়ের কোনো উৎস না থাকা সত্ত্বেও তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। একই পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে।
সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা হরিদাস চন্দ্র দাস ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন।
তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের দাবি, তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিয়ে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়া, বদলি, হুন্ডি এবং সংঘবদ্ধ প্রতারণাসহ নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদিত (এডিট করা) ছবি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে সংরক্ষিত ভুয়া ফোনকলও দেখাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য ব্যক্তি তার ব্যাংক ও এমএফএস হিসাবে অর্থ জমা দিয়েছেন। তবে ওই অর্থের উৎস ও তার পেশাগত পরিচয়ের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া তদন্তে উঠে এসেছে, হরিদাস চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে এর আগেও রাজধানীর বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে একটি মামলা রয়েছে।
এসব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধে সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫)-এর ৪(২) ধারায় তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, অভিযুক্তের ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে হওয়া সব সন্দেহজনক লেনদেনের উৎস ও সংশ্লিষ্টদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এস.আর

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬
ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মানি লন্ডারিং মামলায় অভিযুক্ত গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার রামচন্দ্রপুরের রাধা গোবিন্দ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হরিদাস চন্দ্র দাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার (১৩ জুলাই) গাইবান্ধার পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রোববার রাতে মন্দিরসংলগ্ন একটি রিসোর্ট থেকে গাইবান্ধা পুলিশের সহযোগিতায় সিআইডির একটি দল হরিদাস চন্দ্র দাসকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, বৈধ আয়ের কোনো উৎস না থাকা সত্ত্বেও তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। একই পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে।
সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা হরিদাস চন্দ্র দাস ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন।
তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের দাবি, তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিয়ে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়া, বদলি, হুন্ডি এবং সংঘবদ্ধ প্রতারণাসহ নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদিত (এডিট করা) ছবি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে সংরক্ষিত ভুয়া ফোনকলও দেখাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য ব্যক্তি তার ব্যাংক ও এমএফএস হিসাবে অর্থ জমা দিয়েছেন। তবে ওই অর্থের উৎস ও তার পেশাগত পরিচয়ের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া তদন্তে উঠে এসেছে, হরিদাস চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে এর আগেও রাজধানীর বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে একটি মামলা রয়েছে।
এসব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধে সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫)-এর ৪(২) ধারায় তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, অভিযুক্তের ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে হওয়া সব সন্দেহজনক লেনদেনের উৎস ও সংশ্লিষ্টদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এস.আর

আপনার মতামত লিখুন