টানা কয়েকদিনের অবিরাম ও ভয়াবহ ভারী বর্ষণ এবং তৎসংলগ্ন পাহাড়ি ঢলের তোড়ে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার সামগ্রিক পরিস্থিতি চরম বিপর্যয়কর রূপ ধারণ করেছে| আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক পরিবার সম্পূর্ণরূপ পানির নিচে তলিয়ে গেছে| গৃহহারা ও জলবন্দী এই বিপুলসংখ্যক মানুষ বর্তমানে চরম খাদ্য, পানীয় ও আশ্রয়ের সংকটে ভুগে সম্পূর্ণ মানবেতর জীবনযাপন করছেন| সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের প্রলয়ঙ্কারী প্রভাবে উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে| বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষিখাতে অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে| এছাড়া গ্রামীণ সড়ক ও বিভিন্ন অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে| বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটায় উপদ্রুত এলাকায় সাধারণ যানচলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে| স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীলদের সূত্রে জানা গেছে, ভয়াবহ বন্যায় সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে ১নং রোয়াংছড়ি ইউনিয়নের রোয়াংছড়ি নতুন পাড়া, জাদি পাড়া এবং তাইম্রং ছড়া পাড়া| এছাড়া ৩নং আলেক্ষ্যং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ওয়াগয় পাড়া ও ৮নং ওয়ার্ডের বটতলি পাড়া এবং ২নং তারাছা ইউনিয়নের বেতছরাসহ ৪নং নোয়াপতং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল ও আবাসিক ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে| দুর্ভোগের মাত্রা আরও তীব্রতর করে তুলেছে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎহীনতা ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা| বিগত সাত দিন ধরে সমগ্র রোয়াংছড়ি উপজেলা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে| একই সাথে রবি, এয়ারটেল, গ্রামীণফোন ও টেলিটকসহ সকল প্রকার সেলুলার নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ায় বহির্বিশ্ব ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সাথে উপদ্রুত এলাকার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে| ফলে উদ্ধার তৎপরতা ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য প্রাপ্তি চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে| ১নং রোয়াংছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহ্লাঅং মারমা বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবল¤^ন করা হচ্ছে| ইতিমধ্যে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হচ্ছে| তিনি সর্বসাধারণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন| এদিকে বন্যার পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় উপদ্রুত এলাকার আর্তনাদ বাড়ছে| দুর্গত মানুষের তাৎক্ষণিক বাঁচার তাগিদে জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণ সামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ নিশ্চিত করার জন্য জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল| এই চরম মানবিক সংকটে বান্দরবান জেলা প্রশাসনসহ দেশের বিত্তবান ও বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিরন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিনীত ও জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে|

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬
টানা কয়েকদিনের অবিরাম ও ভয়াবহ ভারী বর্ষণ এবং তৎসংলগ্ন পাহাড়ি ঢলের তোড়ে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার সামগ্রিক পরিস্থিতি চরম বিপর্যয়কর রূপ ধারণ করেছে| আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক পরিবার সম্পূর্ণরূপ পানির নিচে তলিয়ে গেছে| গৃহহারা ও জলবন্দী এই বিপুলসংখ্যক মানুষ বর্তমানে চরম খাদ্য, পানীয় ও আশ্রয়ের সংকটে ভুগে সম্পূর্ণ মানবেতর জীবনযাপন করছেন| সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের প্রলয়ঙ্কারী প্রভাবে উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে| বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষিখাতে অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে| এছাড়া গ্রামীণ সড়ক ও বিভিন্ন অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে| বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটায় উপদ্রুত এলাকায় সাধারণ যানচলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে| স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীলদের সূত্রে জানা গেছে, ভয়াবহ বন্যায় সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে ১নং রোয়াংছড়ি ইউনিয়নের রোয়াংছড়ি নতুন পাড়া, জাদি পাড়া এবং তাইম্রং ছড়া পাড়া| এছাড়া ৩নং আলেক্ষ্যং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ওয়াগয় পাড়া ও ৮নং ওয়ার্ডের বটতলি পাড়া এবং ২নং তারাছা ইউনিয়নের বেতছরাসহ ৪নং নোয়াপতং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল ও আবাসিক ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে| দুর্ভোগের মাত্রা আরও তীব্রতর করে তুলেছে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎহীনতা ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা| বিগত সাত দিন ধরে সমগ্র রোয়াংছড়ি উপজেলা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে| একই সাথে রবি, এয়ারটেল, গ্রামীণফোন ও টেলিটকসহ সকল প্রকার সেলুলার নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ায় বহির্বিশ্ব ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সাথে উপদ্রুত এলাকার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে| ফলে উদ্ধার তৎপরতা ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য প্রাপ্তি চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে| ১নং রোয়াংছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহ্লাঅং মারমা বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবল¤^ন করা হচ্ছে| ইতিমধ্যে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হচ্ছে| তিনি সর্বসাধারণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন| এদিকে বন্যার পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় উপদ্রুত এলাকার আর্তনাদ বাড়ছে| দুর্গত মানুষের তাৎক্ষণিক বাঁচার তাগিদে জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণ সামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ নিশ্চিত করার জন্য জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল| এই চরম মানবিক সংকটে বান্দরবান জেলা প্রশাসনসহ দেশের বিত্তবান ও বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিরন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিনীত ও জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে|

আপনার মতামত লিখুন