ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

৭ বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে বরখাস্ত এএসপি


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৬

৭ বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে বরখাস্ত এএসপি
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং মৌলিক প্রশিক্ষণে অংশ না নিয়ে পলাতক থাকার অভিযোগে শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আফজালুন নেছাকে সরকারি চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর স্বাক্ষর রয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আফজালুন নেছা (বিপি-৮৬১৪১৭৩৮৩৫) ৩৫তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি ময়মনসিংহে শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তাকে পলাতক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২ মে তিনি ওরিয়েন্টেশন কোর্সে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্থান প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে কোর্স শেষ হওয়ার পর আর মৌলিক প্রশিক্ষণে যোগ দেননি। পরে ২০১৭ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি মঞ্জুর করা হয়, যা ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল শেষ হয়। কিন্তু ছুটি শেষে তিনি কর্মস্থলে যোগদান করেননি।

এরপর ৩৬তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের সঙ্গে ২০১৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া মৌলিক প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও তিনি সেখানে যোগ দেননি। এরপর থেকে তিনি অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘ অনুপস্থিতির ঘটনায় ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে তিনি ওই নোটিশের কোনো জবাব দেননি।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৯ মে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর জমা দেওয়া প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত জানিয়ে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই তিনি জবাব দিলেও তা সন্তোষজনক না হওয়ায় বরখাস্তের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।

পরে বিধি অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামত চাওয়া হলে চলতি বছরের ৮ জুন কমিশনও তাকে বরখাস্তের পক্ষে মত দেয়। সর্বশেষ গত ৬ জুলাই নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি বরখাস্তের আদেশে অনুমোদন দেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আফজালুন নেছাকে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি)সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


৭ বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে বরখাস্ত এএসপি

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিন ধরে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং মৌলিক প্রশিক্ষণে অংশ না নিয়ে পলাতক থাকার অভিযোগে শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আফজালুন নেছাকে সরকারি চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর স্বাক্ষর রয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আফজালুন নেছা (বিপি-৮৬১৪১৭৩৮৩৫) ৩৫তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি ময়মনসিংহে শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তাকে পলাতক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২ মে তিনি ওরিয়েন্টেশন কোর্সে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্থান প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে কোর্স শেষ হওয়ার পর আর মৌলিক প্রশিক্ষণে যোগ দেননি। পরে ২০১৭ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি মঞ্জুর করা হয়, যা ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল শেষ হয়। কিন্তু ছুটি শেষে তিনি কর্মস্থলে যোগদান করেননি।

এরপর ৩৬তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের সঙ্গে ২০১৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া মৌলিক প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও তিনি সেখানে যোগ দেননি। এরপর থেকে তিনি অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘ অনুপস্থিতির ঘটনায় ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে তিনি ওই নোটিশের কোনো জবাব দেননি।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৯ মে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর জমা দেওয়া প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত জানিয়ে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই তিনি জবাব দিলেও তা সন্তোষজনক না হওয়ায় বরখাস্তের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।

পরে বিধি অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামত চাওয়া হলে চলতি বছরের ৮ জুন কমিশনও তাকে বরখাস্তের পক্ষে মত দেয়। সর্বশেষ গত ৬ জুলাই নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি বরখাস্তের আদেশে অনুমোদন দেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আফজালুন নেছাকে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি)সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ