ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

স্বপ্নের সীমানা পেরিয়ে: কিশোরগঞ্জে জ্বলছে উচ্চশিক্ষার নতুন বাতিঘর, ১০৩ একর জমি অনুমোদন



স্বপ্নের সীমানা পেরিয়ে: কিশোরগঞ্জে জ্বলছে উচ্চশিক্ষার নতুন বাতিঘর, ১০৩ একর জমি অনুমোদন

কিশোরগঞ্জবাসীর বহুদিনের লালিত স্বপ্ন, উচ্চশিক্ষার এক অনন্য বাতিঘর ‘কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার পথে আরও একধাপ অগ্রগতি হলো। অবসান ঘটল দীর্ঘ প্রতীক্ষার। অবশেষে এই কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ১০৩.৭৩ একর জমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটি।


​কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার পাটধা ও রঘুনন্দনপুর মৌজায় গড়ে উঠবে উচ্চশিক্ষার এই স্বপ্নের ক্যাম্পাস।

​আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই ) ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির ১৫৬ তম সভায় এই ঐতিহাসিক অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির সুচিন্তিত সুপারিশের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন জেলার ৫০ বিঘার বেশি জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয় এই সভায়। যার মধ্যে কিশোরগঞ্জবাসীর জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দের বার্তা হয়ে আসে এই ১০৩.৭৩ একর জমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত ঘোষণাটি।


​উচ্চপর্যায়ের এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


​ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই চূড়ান্ত অনুমোদনের ফলে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কেটে গেল। এখন ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে। এর মাধ্যমে জেলার উচ্চশিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের কার্যক্রম আরও বেগবান ও গতিশীল হবে।


​কিশোরগঞ্জ শুধু ইতিহাস আর ঐতিহ্যের জনপদই নয়, এটি বহু গুণী ও কীর্তিমান মানুষের চারণভূমি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় না থাকায় উচ্চশিক্ষার জন্য এই অঞ্চলের তরুণ-তরুণীদের পাড়ি জমাতে হতো রাজধানী কিংবা অন্য দূরবর্তী জেলাগুলোতে। এই অনুমোদনের মধ্য দিয়ে কিশোরগঞ্জের বুকে এক টুকরো আলো জ্বলে উঠল, যা ভবিষ্যতে পুরো হাওরাঞ্চল তথা দেশের শিক্ষা মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

​এই খবর কিশোরগঞ্জে পৌঁছানোর পর থেকেই পুরো জেলায় আনন্দের সুবাতাস বইছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ, শিক্ষক, সমাজকর্মী এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা গেছে বিপুল উচ্ছ্বাস। সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন একটাই কথা—"আমাদের সন্তানেরা এবার নিজেদের মাটিতেই উচ্চশিক্ষায় দীক্ষিত হয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।"


​সবুজ শ্যামল পাটধা ও রঘুনন্দনপুরের বিস্তীর্ণ মাঠে শীঘ্রই মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিদ্যাপীঠ শুধু ইট-পাথরের দেয়াল হবে না, বরং তা হবে হাজারো তরুণের স্বপ্ন ছোঁয়ার আঙিনা—এমনটাই প্রত্যাশা এই অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


স্বপ্নের সীমানা পেরিয়ে: কিশোরগঞ্জে জ্বলছে উচ্চশিক্ষার নতুন বাতিঘর, ১০৩ একর জমি অনুমোদন

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জবাসীর বহুদিনের লালিত স্বপ্ন, উচ্চশিক্ষার এক অনন্য বাতিঘর ‘কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার পথে আরও একধাপ অগ্রগতি হলো। অবসান ঘটল দীর্ঘ প্রতীক্ষার। অবশেষে এই কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ১০৩.৭৩ একর জমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটি।


​কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার পাটধা ও রঘুনন্দনপুর মৌজায় গড়ে উঠবে উচ্চশিক্ষার এই স্বপ্নের ক্যাম্পাস।

​আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই ) ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির ১৫৬ তম সভায় এই ঐতিহাসিক অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির সুচিন্তিত সুপারিশের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন জেলার ৫০ বিঘার বেশি জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয় এই সভায়। যার মধ্যে কিশোরগঞ্জবাসীর জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দের বার্তা হয়ে আসে এই ১০৩.৭৩ একর জমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত ঘোষণাটি।


​উচ্চপর্যায়ের এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


​ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই চূড়ান্ত অনুমোদনের ফলে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কেটে গেল। এখন ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে। এর মাধ্যমে জেলার উচ্চশিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের কার্যক্রম আরও বেগবান ও গতিশীল হবে।


​কিশোরগঞ্জ শুধু ইতিহাস আর ঐতিহ্যের জনপদই নয়, এটি বহু গুণী ও কীর্তিমান মানুষের চারণভূমি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় না থাকায় উচ্চশিক্ষার জন্য এই অঞ্চলের তরুণ-তরুণীদের পাড়ি জমাতে হতো রাজধানী কিংবা অন্য দূরবর্তী জেলাগুলোতে। এই অনুমোদনের মধ্য দিয়ে কিশোরগঞ্জের বুকে এক টুকরো আলো জ্বলে উঠল, যা ভবিষ্যতে পুরো হাওরাঞ্চল তথা দেশের শিক্ষা মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

​এই খবর কিশোরগঞ্জে পৌঁছানোর পর থেকেই পুরো জেলায় আনন্দের সুবাতাস বইছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ, শিক্ষক, সমাজকর্মী এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা গেছে বিপুল উচ্ছ্বাস। সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন একটাই কথা—"আমাদের সন্তানেরা এবার নিজেদের মাটিতেই উচ্চশিক্ষায় দীক্ষিত হয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।"


​সবুজ শ্যামল পাটধা ও রঘুনন্দনপুরের বিস্তীর্ণ মাঠে শীঘ্রই মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিদ্যাপীঠ শুধু ইট-পাথরের দেয়াল হবে না, বরং তা হবে হাজারো তরুণের স্বপ্ন ছোঁয়ার আঙিনা—এমনটাই প্রত্যাশা এই অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ