বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার ইউনিয়নে আপন শ্বশুর কর্তৃক পুত্রবধূকে কু-প্রস্তাব ও জোরপূর্বক ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার ইউনিয়নের চাঁদপাড়া (স্কুল পাড়া) গ্রামে। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করছেন এলাকার প্রভাবশালী মহল।
লম্পট শ্বশুরের এহীন কর্মকাণ্ডে এলাকা জুড়ে চলছে চাঁপাক্ষোভ ও ‘ছি ছি’ রব। গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে পুত্র বধুর নামে জমি লিখে দিয়ে আপোষ মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
সরেজমিনে ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বিহার ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ভাসুবিহার চাঁদপাড়া গ্রামের মৃত আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে আমিনুর ইসলাম সোহেল। তার ছেলে রাকিবুল ইসলাম প্রায় এক বছর আগে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেন একই উপজেলার রায়নগর মধ্যপাড়া গ্রামের আব্দুল বারী মিয়ার কন্যাকে।
অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই পুত্রবধূর উপর কু-নজর পড়ে শ্বশুর সোহেলের। ইতিপূর্বে বাড়িতে একা পেয়ে বেশ কয়েকবার হাত ধরে টানাটানিসহ কু-প্রস্তাব দেয় সে। অসহায় পুত্রবধূ তার স্বামী ও শাশুড়িকে জানালেও কোনো প্রতিকার পায়নি। উল্টো শাশুড়ি তাকে চুপ থাকার পরামর্শ দেন।
সর্বশেষ গত প্রায় ২২দিন আগে, ছেলে রাকিবুল ও তার স্ত্রী বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পরিকল্পিতভাবে লম্পট সোহেল তার স্ত্রীকে বাবার বাড়ি ও ছেলেকে মাঠ থেকে গরুর ঘাস কেটে আনার জন্য পাঠায়। স্বামী বাড়ির বাইরে যাওয়ার সুযোগে পুত্রবধূকে একা পেয়ে জোরপূর্বক হাত ধরে টেনে ঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় শশুর। এরপর সোহেল বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলে পুত্রবধূ ঘটনাটি তার স্বামী রাকিবুলকে জানায়। রাকিব তার বাবাকে মোবাইলে গালিগালাজ করে। এবং বাড়িতে এলে গ্রাম্য সালিস বসানোর কথা বলেন। এই খবর পেয়ে লোকলজ্জা ও বিচারের ভয়ে প্রায় ২০দিন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে থাকে অভিযুক্ত সোহেল।
পরবর্তীতে সোহেল এলাকায় ফিরে এসে স্থানীয় মাতব্বর ও প্রভাবশালী মহলের শরণাপন্ন হোন। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং আইনি ঝামেলা এড়াতে তড়িঘড়ি করে গ্রাম্য সালিসের আয়োজন করা হয়। সালিসে ভুক্তভোগী মেয়েটিকে প্রথমে ১০ শতক এবং পরবর্তীতে ৮ শতক জায়গা ও বাড়ি পৃথক করে দেওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি রফাদফা করার সিদ্ধান্ত হয়। তবে বর্তমানে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত মীমাংসা হয়নি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সোহেলের সাথে যোগাযোগ করা হলে সে দাবি করে, "গ্রামের লোকজন আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।" তবে পুত্রবধূর হাত ধরে টানাটানির বিষয়টি তিনি নিজমুখে স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী গৃহবধূর মা সাংবাদিকদের বলেন,
"বিয়ের পর থেকেই মেয়ের শ্বশুর তার ওপর কুনজর দেয়। মেয়ে আমাকে বহুবার কেঁদে কেঁদে বলেছে। শ্বশুর তো বাবার মতো, সে কীভাবে নিজের মেয়ের বয়সী পুত্রবধূর সাথে এমন আচরণ করতে পারে? এই ঘটনার পর সমাজ ও লোকলজ্জার ভয়ে মেয়েকে বাড়ি থেকে সরিয়ে তার খালার বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছি। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।"
সালিসি বৈঠকের অন্যতম মধ্যস্থতাকারী সমাজসেবক আব্দুর রাজ্জাক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "ঘটনাটি সত্য, এজন্য জরিমানা হিসেবে সোহেলের ৮ শতক জমি তার পুত্রবধূকে লিখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জমির নামজারি (খারিজ) সম্পন্ন হলেই তা লিখে দেওয়া হবে।"
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল এই সালিস প্রক্রিয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেন, সমাজের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির কারণে এই ধরনের জঘন্য অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। বিচারের নামে অর্থ বা জমি লিখে দিয়ে আপস করা, অপরাধকে আরও উৎসাহিত করার শামিল হবে। এই লম্পট শ্বশুরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুজ্জামান বলেন,এই ঘটনা সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো থানায় আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে অভিযুক্ত লম্পট শ্বশুরের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার ইউনিয়নে আপন শ্বশুর কর্তৃক পুত্রবধূকে কু-প্রস্তাব ও জোরপূর্বক ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার ইউনিয়নের চাঁদপাড়া (স্কুল পাড়া) গ্রামে। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করছেন এলাকার প্রভাবশালী মহল।
লম্পট শ্বশুরের এহীন কর্মকাণ্ডে এলাকা জুড়ে চলছে চাঁপাক্ষোভ ও ‘ছি ছি’ রব। গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে পুত্র বধুর নামে জমি লিখে দিয়ে আপোষ মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
সরেজমিনে ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বিহার ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ভাসুবিহার চাঁদপাড়া গ্রামের মৃত আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে আমিনুর ইসলাম সোহেল। তার ছেলে রাকিবুল ইসলাম প্রায় এক বছর আগে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেন একই উপজেলার রায়নগর মধ্যপাড়া গ্রামের আব্দুল বারী মিয়ার কন্যাকে।
অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই পুত্রবধূর উপর কু-নজর পড়ে শ্বশুর সোহেলের। ইতিপূর্বে বাড়িতে একা পেয়ে বেশ কয়েকবার হাত ধরে টানাটানিসহ কু-প্রস্তাব দেয় সে। অসহায় পুত্রবধূ তার স্বামী ও শাশুড়িকে জানালেও কোনো প্রতিকার পায়নি। উল্টো শাশুড়ি তাকে চুপ থাকার পরামর্শ দেন।
সর্বশেষ গত প্রায় ২২দিন আগে, ছেলে রাকিবুল ও তার স্ত্রী বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পরিকল্পিতভাবে লম্পট সোহেল তার স্ত্রীকে বাবার বাড়ি ও ছেলেকে মাঠ থেকে গরুর ঘাস কেটে আনার জন্য পাঠায়। স্বামী বাড়ির বাইরে যাওয়ার সুযোগে পুত্রবধূকে একা পেয়ে জোরপূর্বক হাত ধরে টেনে ঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় শশুর। এরপর সোহেল বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলে পুত্রবধূ ঘটনাটি তার স্বামী রাকিবুলকে জানায়। রাকিব তার বাবাকে মোবাইলে গালিগালাজ করে। এবং বাড়িতে এলে গ্রাম্য সালিস বসানোর কথা বলেন। এই খবর পেয়ে লোকলজ্জা ও বিচারের ভয়ে প্রায় ২০দিন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে থাকে অভিযুক্ত সোহেল।
পরবর্তীতে সোহেল এলাকায় ফিরে এসে স্থানীয় মাতব্বর ও প্রভাবশালী মহলের শরণাপন্ন হোন। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং আইনি ঝামেলা এড়াতে তড়িঘড়ি করে গ্রাম্য সালিসের আয়োজন করা হয়। সালিসে ভুক্তভোগী মেয়েটিকে প্রথমে ১০ শতক এবং পরবর্তীতে ৮ শতক জায়গা ও বাড়ি পৃথক করে দেওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি রফাদফা করার সিদ্ধান্ত হয়। তবে বর্তমানে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত মীমাংসা হয়নি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সোহেলের সাথে যোগাযোগ করা হলে সে দাবি করে, "গ্রামের লোকজন আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।" তবে পুত্রবধূর হাত ধরে টানাটানির বিষয়টি তিনি নিজমুখে স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী গৃহবধূর মা সাংবাদিকদের বলেন,
"বিয়ের পর থেকেই মেয়ের শ্বশুর তার ওপর কুনজর দেয়। মেয়ে আমাকে বহুবার কেঁদে কেঁদে বলেছে। শ্বশুর তো বাবার মতো, সে কীভাবে নিজের মেয়ের বয়সী পুত্রবধূর সাথে এমন আচরণ করতে পারে? এই ঘটনার পর সমাজ ও লোকলজ্জার ভয়ে মেয়েকে বাড়ি থেকে সরিয়ে তার খালার বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছি। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।"
সালিসি বৈঠকের অন্যতম মধ্যস্থতাকারী সমাজসেবক আব্দুর রাজ্জাক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "ঘটনাটি সত্য, এজন্য জরিমানা হিসেবে সোহেলের ৮ শতক জমি তার পুত্রবধূকে লিখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জমির নামজারি (খারিজ) সম্পন্ন হলেই তা লিখে দেওয়া হবে।"
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল এই সালিস প্রক্রিয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেন, সমাজের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির কারণে এই ধরনের জঘন্য অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। বিচারের নামে অর্থ বা জমি লিখে দিয়ে আপস করা, অপরাধকে আরও উৎসাহিত করার শামিল হবে। এই লম্পট শ্বশুরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুজ্জামান বলেন,এই ঘটনা সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো থানায় আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে অভিযুক্ত লম্পট শ্বশুরের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন