প্রশাসন এখন আর দূরবর্তী কোনো দেয়াল নয়, বরং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের অতি আপন ঠিকানা'—এই বার্তাটিই যেন আবারও মূর্ত হয়ে উঠল কিশোরগঞ্জে। খোদ জেলা প্রশাসকের মুখোমুখি বসে নিজের সুখ-দুঃখ, অভাব-অভিযোগ আর আকুতির কথা সরাসরি জানাতে পারলেন সাধারণ মানুষ।
আজ ০৮ জুলাই (বুধবার) কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আবেগঘন ও আশাজাগানিয়া পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো জেলা প্রশাসনের নিয়মিত আয়োজন 'গণশুনানি'।
দুপুর গড়াতেই সম্মেলন কক্ষে ভিড় জমতে শুরু করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা নানামুখী সংকটে জর্জরিত সাধারণ মানুষের। সেখানে কোনো আনুষ্ঠানিকতার জাঁকজমক ছিল না, ছিল না কোনো আমলাতান্ত্রিক দূরত্বের দেয়াল। জনগণের সেবক হিসেবে তাঁদের একদম কাছাকাছি এসে বসেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।
এবারের গণশুনানিতে মোট ১২ জন সেবাপ্রার্থী তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন, সামাজিক নানা অসঙ্গতি ও প্রশাসনিক বিভিন্ন জটিলতার বিষয়গুলো সরাসরি জেলা প্রশাসকের দরবারে উপস্থাপন করেন। জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়া কিংবা আইনি জটিলতা—এমন হরেক রকমের সমস্যার ঝুলি নিয়ে এসেছিলেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষগুলো।
উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন প্রতিটি মানুষের কথা কোনো তাড়াহুড়ো ছাড়া, অত্যন্ত মনোযোগ, গভীর আন্তরিকতা এবং পরম সহমর্মিতার সঙ্গে শ্রবণ করেন। বিপন্ন মানুষের চোখের ভাষা আর তাঁদের দীর্ঘশ্বাসের পেছনের গল্পটা তিনি পরম মমতায় অনুধাবন করার চেষ্টা করেন। শুধু শুনলেনই না, তিনি প্রতিটি আবেদন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তাৎক্ষণিক পর্যালোচনা করেন। সমস্যার ধরন বুঝে জেলা প্রশাসক কালক্ষেপণ না করে সেখানেই উপস্থিত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। একই সাথে দূর-দূরান্ত থেকে আসা এই মানুষগুলো যাতে কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন এবং দ্রুততম সময়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা পান, সেজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহকে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কড়া নির্দেশ দেন।
গণশুনানি শেষে ঘরমুখী এক সেবাপ্রার্থী অশ্রুসজল চোখে বলেন, "ভেবেছিলাম বড় স্যারের কাছে পৌঁছাতেই পারব না। কিন্তু আজ ডিসি স্যার যেভাবে আমাদের পাশে বসিয়ে কথা শুনলেন এবং সাথে সাথেই সমাধানের ব্যবস্থা করলেন, তাতে সরকারের প্রতি আমাদের আস্থা আরও বেড়ে গেল।"
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই নিয়মিত গণশুনানির আয়োজন। কোনো মানুষ যেন তাঁর ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন এবং প্রশাসনকে যেন নিজের ভরসার জায়গা মনে করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আজকের এই সফল গণশুনানি তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬
প্রশাসন এখন আর দূরবর্তী কোনো দেয়াল নয়, বরং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের অতি আপন ঠিকানা'—এই বার্তাটিই যেন আবারও মূর্ত হয়ে উঠল কিশোরগঞ্জে। খোদ জেলা প্রশাসকের মুখোমুখি বসে নিজের সুখ-দুঃখ, অভাব-অভিযোগ আর আকুতির কথা সরাসরি জানাতে পারলেন সাধারণ মানুষ।
আজ ০৮ জুলাই (বুধবার) কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আবেগঘন ও আশাজাগানিয়া পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো জেলা প্রশাসনের নিয়মিত আয়োজন 'গণশুনানি'।
দুপুর গড়াতেই সম্মেলন কক্ষে ভিড় জমতে শুরু করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা নানামুখী সংকটে জর্জরিত সাধারণ মানুষের। সেখানে কোনো আনুষ্ঠানিকতার জাঁকজমক ছিল না, ছিল না কোনো আমলাতান্ত্রিক দূরত্বের দেয়াল। জনগণের সেবক হিসেবে তাঁদের একদম কাছাকাছি এসে বসেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।
এবারের গণশুনানিতে মোট ১২ জন সেবাপ্রার্থী তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন, সামাজিক নানা অসঙ্গতি ও প্রশাসনিক বিভিন্ন জটিলতার বিষয়গুলো সরাসরি জেলা প্রশাসকের দরবারে উপস্থাপন করেন। জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়া কিংবা আইনি জটিলতা—এমন হরেক রকমের সমস্যার ঝুলি নিয়ে এসেছিলেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষগুলো।
উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন প্রতিটি মানুষের কথা কোনো তাড়াহুড়ো ছাড়া, অত্যন্ত মনোযোগ, গভীর আন্তরিকতা এবং পরম সহমর্মিতার সঙ্গে শ্রবণ করেন। বিপন্ন মানুষের চোখের ভাষা আর তাঁদের দীর্ঘশ্বাসের পেছনের গল্পটা তিনি পরম মমতায় অনুধাবন করার চেষ্টা করেন। শুধু শুনলেনই না, তিনি প্রতিটি আবেদন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তাৎক্ষণিক পর্যালোচনা করেন। সমস্যার ধরন বুঝে জেলা প্রশাসক কালক্ষেপণ না করে সেখানেই উপস্থিত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। একই সাথে দূর-দূরান্ত থেকে আসা এই মানুষগুলো যাতে কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন এবং দ্রুততম সময়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা পান, সেজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহকে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কড়া নির্দেশ দেন।
গণশুনানি শেষে ঘরমুখী এক সেবাপ্রার্থী অশ্রুসজল চোখে বলেন, "ভেবেছিলাম বড় স্যারের কাছে পৌঁছাতেই পারব না। কিন্তু আজ ডিসি স্যার যেভাবে আমাদের পাশে বসিয়ে কথা শুনলেন এবং সাথে সাথেই সমাধানের ব্যবস্থা করলেন, তাতে সরকারের প্রতি আমাদের আস্থা আরও বেড়ে গেল।"
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই নিয়মিত গণশুনানির আয়োজন। কোনো মানুষ যেন তাঁর ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন এবং প্রশাসনকে যেন নিজের ভরসার জায়গা মনে করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আজকের এই সফল গণশুনানি তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

আপনার মতামত লিখুন