নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) পাবলিক টয়লেটগুলোতে ইজারার শর্ত উপেক্ষা করে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির দ্বিগুণ পর্যন্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত ফি-তালিকা ঝুলিয়ে রাখার নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। সেই সঙ্গে অনেক টয়লেটে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও তীব্র পানির সংকট নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী নগরবাসী।
সিটি করপোরেশনের ইজারা চুক্তি অনুযায়ী, পাবলিক টয়লেটগুলোতে প্রস্রাবের জন্য ২ টাকা, পায়খানার জন্য ৫ টাকা এবং গোসলের জন্য ১০ টাকা ফি নির্ধারণ করা রয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে নগরীর চাষাড়া, দুই নম্বর রেলগেট ও ধর্মতলা এলাকার পাবলিক টয়লেটগুলো ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। এসব স্থানে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
নাসিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে এই তিনটি পাবলিক টয়লেট ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চাষাড়া শহীদ মিনার সংলগ্ন টয়লেটটি ৬ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন শাহেব উল্লাহ রোমান। দুই নম্বর রেলগেটের টয়লেটটি প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন মাহবুব আলম সুমন এবং ধর্মতলা পাবলিক টয়লেটটি ৫ লাখ ৩১ হাজার টাকায় ইজারা পেয়েছেন ফয়সাল আবেদ।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিটি পাবলিক টয়লেটের সামনে ইজারাদারের নিজ খরচে ব্যবহার ফি স্পষ্টভাবে লিখে টানিয়ে রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও কোনোটিতেই সঠিক ফি-তালিকা দেখা যায়নি।
সরকারি তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থী আনোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
"চাষাড়ার টয়লেটে গেলে কখনো ১০ টাকা, আবার কখনো ২০ টাকা দিতে হয়। টাকা নিয়ে প্রায়ই আমাদের (শিক্ষার্থীদের) সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। সিটি করপোরেশন যদি জনগণের সুবিধার জন্য টয়লেট করে, তাহলে নির্ধারিত ফির বাইরে এত টাকা কেন নেওয়া হবে?"
একই চিত্র দেখা গেছে দুই নম্বর রেলগেট এলাকায়। সেখানকার এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, এই এলাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসে। বেশির ভাগ মানুষ না জেনেই টয়লেটে ঢোকে, আর বের হওয়ার পর তাদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো টাকা দাবি করা হয়। অনেক সময় টয়লেটে পানিও থাকে না। সিটি করপোরেশন শুধু ইজারা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে, পরে আর কোনো তদারকি করে না।
দুই নম্বর রেলগেট পাবলিক টয়লেটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরের পরিবেশ অত্যন্ত স্যাঁতসেঁতে, অপরিচ্ছন্ন এবং দুর্গন্ধে ভরা। অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্টারে বসা এক কর্মচারী বলেন, "আমরা বেতনে চাকরি করি। কত টাকা নেওয়া হবে, সেটা আমরা ঠিক করি না। যারা ঠিক করে, তাদের সঙ্গে কথা বলেন।" তবে ইজারাদারের ফোন নম্বর বা যোগাযোগ করার কোনো মাধ্যম দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। ধর্মতলা পাবলিক টয়লেটেও একই ধরনের নৈরাজ্যের চিত্র দেখা গেছে।
চুক্তি অনুযায়ী, কোনো ইজারাদার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে তার ইজারা বাতিলের বিধান রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নাসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের 'ম্যানেজ' করে বছরের পর বছর ধরে এই সিন্ডিকেট পাবলিক টয়লেট নিয়ে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাজার কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, "কোনো ইজারাদার চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে প্রয়োজন হলে ইজারাও বাতিল করা হবে।"
এদিকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাঁর পিএস ফোন রিসিভ করে জানান, স্যার এখন বিশ্রামে আছেন, তাই কথা বলতে পারবেন না।
নগরবাসীর জোর দাবি, শুধু ইজারা দিয়েই যেন সিটি করপোরেশন তাদের দায়িত্ব শেষ না করে। জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে পাবলিক টয়লেটগুলোতে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা, দৃশ্যমান স্থানে ফি-তালিকা টানানো এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়কারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) পাবলিক টয়লেটগুলোতে ইজারার শর্ত উপেক্ষা করে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির দ্বিগুণ পর্যন্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত ফি-তালিকা ঝুলিয়ে রাখার নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। সেই সঙ্গে অনেক টয়লেটে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও তীব্র পানির সংকট নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী নগরবাসী।
সিটি করপোরেশনের ইজারা চুক্তি অনুযায়ী, পাবলিক টয়লেটগুলোতে প্রস্রাবের জন্য ২ টাকা, পায়খানার জন্য ৫ টাকা এবং গোসলের জন্য ১০ টাকা ফি নির্ধারণ করা রয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে নগরীর চাষাড়া, দুই নম্বর রেলগেট ও ধর্মতলা এলাকার পাবলিক টয়লেটগুলো ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। এসব স্থানে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
নাসিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে এই তিনটি পাবলিক টয়লেট ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চাষাড়া শহীদ মিনার সংলগ্ন টয়লেটটি ৬ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন শাহেব উল্লাহ রোমান। দুই নম্বর রেলগেটের টয়লেটটি প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন মাহবুব আলম সুমন এবং ধর্মতলা পাবলিক টয়লেটটি ৫ লাখ ৩১ হাজার টাকায় ইজারা পেয়েছেন ফয়সাল আবেদ।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিটি পাবলিক টয়লেটের সামনে ইজারাদারের নিজ খরচে ব্যবহার ফি স্পষ্টভাবে লিখে টানিয়ে রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও কোনোটিতেই সঠিক ফি-তালিকা দেখা যায়নি।
সরকারি তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থী আনোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
"চাষাড়ার টয়লেটে গেলে কখনো ১০ টাকা, আবার কখনো ২০ টাকা দিতে হয়। টাকা নিয়ে প্রায়ই আমাদের (শিক্ষার্থীদের) সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। সিটি করপোরেশন যদি জনগণের সুবিধার জন্য টয়লেট করে, তাহলে নির্ধারিত ফির বাইরে এত টাকা কেন নেওয়া হবে?"
একই চিত্র দেখা গেছে দুই নম্বর রেলগেট এলাকায়। সেখানকার এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, এই এলাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসে। বেশির ভাগ মানুষ না জেনেই টয়লেটে ঢোকে, আর বের হওয়ার পর তাদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো টাকা দাবি করা হয়। অনেক সময় টয়লেটে পানিও থাকে না। সিটি করপোরেশন শুধু ইজারা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে, পরে আর কোনো তদারকি করে না।
দুই নম্বর রেলগেট পাবলিক টয়লেটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরের পরিবেশ অত্যন্ত স্যাঁতসেঁতে, অপরিচ্ছন্ন এবং দুর্গন্ধে ভরা। অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্টারে বসা এক কর্মচারী বলেন, "আমরা বেতনে চাকরি করি। কত টাকা নেওয়া হবে, সেটা আমরা ঠিক করি না। যারা ঠিক করে, তাদের সঙ্গে কথা বলেন।" তবে ইজারাদারের ফোন নম্বর বা যোগাযোগ করার কোনো মাধ্যম দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। ধর্মতলা পাবলিক টয়লেটেও একই ধরনের নৈরাজ্যের চিত্র দেখা গেছে।
চুক্তি অনুযায়ী, কোনো ইজারাদার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে তার ইজারা বাতিলের বিধান রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নাসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের 'ম্যানেজ' করে বছরের পর বছর ধরে এই সিন্ডিকেট পাবলিক টয়লেট নিয়ে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাজার কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, "কোনো ইজারাদার চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে প্রয়োজন হলে ইজারাও বাতিল করা হবে।"
এদিকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাঁর পিএস ফোন রিসিভ করে জানান, স্যার এখন বিশ্রামে আছেন, তাই কথা বলতে পারবেন না।
নগরবাসীর জোর দাবি, শুধু ইজারা দিয়েই যেন সিটি করপোরেশন তাদের দায়িত্ব শেষ না করে। জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে পাবলিক টয়লেটগুলোতে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা, দৃশ্যমান স্থানে ফি-তালিকা টানানো এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়কারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন