দীর্ঘ দুই মাস মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা এক নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। আদালতের নির্দেশে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত ইউনিয়ন কৃষকদল নেতা সাদ্দাম হোসেনের (৩২) মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার নারান্দী ইউনিয়নের ছোট আজলদী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে অশ্রুসিক্ত চোখে তার মরদেহটি তোলা হয়।
নিহত সাদ্দাম হোসেন নারান্দী ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ওই গ্রামের আলী আকবরের ছেলে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে সোচ্চার থাকা এই উদীয়মান ও পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক কর্মীর অকাল বিদায় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা।
ভয়াবহ সেই ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে। নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সাদ্দামের ওপর ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম করে। দীর্ঘদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে চলতি বছরের ২ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সে সময় ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাড়াহুড়ো করে তার মরদেহ দাফন করা হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং মৃত্যুর অকাট্য আইনি প্রমাণ ও প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের স্বার্থে পরবর্তীতে আদালত মরদেহ উত্তোলনের আদেশ দেন। সেই প্রেক্ষিতেই আজ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
মরদেহ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত জাহান, পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল।
সাদ্দামের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই এলাকায় চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি শামছুল হক মিঠু গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “সাদ্দাম ছিলেন আমাদের আন্দোলনের এক নির্ভীক সৈনিক। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।”
পাকুন্দিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত জাহান জানান, আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ ও মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থেই মরদেহটি উত্তোলন করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং আইনের চাকা আরও দ্রুত ঘুরবে বলে আশা করছে পুলিশ।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬
দীর্ঘ দুই মাস মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা এক নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। আদালতের নির্দেশে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত ইউনিয়ন কৃষকদল নেতা সাদ্দাম হোসেনের (৩২) মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার নারান্দী ইউনিয়নের ছোট আজলদী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে অশ্রুসিক্ত চোখে তার মরদেহটি তোলা হয়।
নিহত সাদ্দাম হোসেন নারান্দী ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ওই গ্রামের আলী আকবরের ছেলে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে সোচ্চার থাকা এই উদীয়মান ও পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক কর্মীর অকাল বিদায় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা।
ভয়াবহ সেই ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে। নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সাদ্দামের ওপর ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম করে। দীর্ঘদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে চলতি বছরের ২ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সে সময় ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাড়াহুড়ো করে তার মরদেহ দাফন করা হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং মৃত্যুর অকাট্য আইনি প্রমাণ ও প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের স্বার্থে পরবর্তীতে আদালত মরদেহ উত্তোলনের আদেশ দেন। সেই প্রেক্ষিতেই আজ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
মরদেহ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত জাহান, পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল।
সাদ্দামের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই এলাকায় চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি শামছুল হক মিঠু গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “সাদ্দাম ছিলেন আমাদের আন্দোলনের এক নির্ভীক সৈনিক। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।”
পাকুন্দিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত জাহান জানান, আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ ও মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থেই মরদেহটি উত্তোলন করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং আইনের চাকা আরও দ্রুত ঘুরবে বলে আশা করছে পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন