মার্কিন প্রযুক্তি জগতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি ও মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস স্বীকার করেছেন, জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয়ের সময় তিনি তার যৌন অপরাধ সংক্রান্ত অতীত সম্পর্কে জানতেন। তবে এপস্টেইন পরবর্তী সময়েও একই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিলেন, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির চলমান এপস্টেইন তদন্তের অংশ হিসেবে চলতি মাসের শুরুতে গেটসের একটি রুদ্ধদ্বার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সম্প্রতি সেই সাক্ষাৎকারের ট্রান্সক্রিপ্ট প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সাক্ষাৎকারে বিল গেটস জানান, ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এপস্টেইন দাতব্য কার্যক্রমের জন্য সম্ভাব্য বড় দাতাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করতে পারবেন বলে তিনি মনে করেছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে তিনি বুঝতে পারেন, এপস্টেইন তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করবেন না। এরপর ২০১৪ সালে তাদের সম্পর্কের ইতি টানেন তিনি।
২০০৮ সালে এপস্টেইনের সাজা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে গেটস বলেন, তিনি জানতেন এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অপরাধের রেকর্ড রয়েছে এবং সেটি যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত। তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি গভীরভাবে অনুসন্ধান করেননি। পরে তিনি স্বীকার করেন, তার আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।
গেটস আরও বলেন, এপস্টেইনের অপরাধমূলক অতীত সম্পর্কে জানলেও তিনি যে একজন তালিকাভুক্ত যৌন অপরাধী ছিলেন, সে তথ্য তার জানা ছিল না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এপস্টেইন কখনোই তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন না এবং তিনি কখনো এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে যাননি।
মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথাকথিত ‘এপস্টেইন ফাইলস’-এ বিল গেটসকে ঘিরে নতুন কিছু বিতর্কিত তথ্য সামনে এসেছে। প্রকাশিত একটি খসড়া ইমেইলে দেখা যায়, এপস্টেইন নিজের কাছেই এমন একটি বার্তা লিখেছিলেন, যেখানে গেটসের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কিছু দাবি করা হয়। সেখানে আরও উল্লেখ ছিল, গেটস নাকি কিছু ইমেইল মুছে ফেলার অনুরোধ করেছিলেন।
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন বিল গেটস। তিনি বলেন, নথিগুলো দেখে তার মনে হয়েছে, এপস্টেইন হয়তো তাকে ব্ল্যাকমেইল করার কিংবা অন্য কাউকে দিয়ে চাপ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে এসব বার্তা কখনো তার কাছে পাঠানো হয়নি এবং তিনি এপস্টেইনকে কোনো অর্থও দেননি।
ওভারসাইট কমিটি এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের সহযোগী লেসলি গ্রফের সাক্ষাৎকারের অনুলিপিও প্রকাশ করেছে। ২০০৭ সালের একটি অ-প্রসিকিউশন চুক্তিতে তাকে সম্ভাব্য সহ-ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তার বিরুদ্ধে কখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি।
গ্রফ দাবি করেন, তিনি এপস্টেইনের মূল অপরাধ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালের সাজা পাওয়ার পর এপস্টেইন তাকে বলেছিলেন যে তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন, আর সে সময় তিনি সেটিই বিশ্বাস করেছিলেন।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গ্রফ বলেন, সাজা হওয়ার পরও বহু পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিকে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে দেখেছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, বছরে কয়েকবার তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও এপস্টেইনের মধ্যে টেলিফোনে যোগাযোগ করিয়ে দিতেন।
যদিও এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট কোনো মামলায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি, তবুও তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা তৈরি হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
অন্যদিকে ট্রাম্প বরাবরই দাবি করে আসছেন, এপস্টেইনের মৃত্যুর বহু বছর আগেই তিনি তার সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন।
সূত্র: পলিটিকো

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
মার্কিন প্রযুক্তি জগতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি ও মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস স্বীকার করেছেন, জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয়ের সময় তিনি তার যৌন অপরাধ সংক্রান্ত অতীত সম্পর্কে জানতেন। তবে এপস্টেইন পরবর্তী সময়েও একই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিলেন, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির চলমান এপস্টেইন তদন্তের অংশ হিসেবে চলতি মাসের শুরুতে গেটসের একটি রুদ্ধদ্বার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সম্প্রতি সেই সাক্ষাৎকারের ট্রান্সক্রিপ্ট প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সাক্ষাৎকারে বিল গেটস জানান, ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এপস্টেইন দাতব্য কার্যক্রমের জন্য সম্ভাব্য বড় দাতাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করতে পারবেন বলে তিনি মনে করেছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে তিনি বুঝতে পারেন, এপস্টেইন তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করবেন না। এরপর ২০১৪ সালে তাদের সম্পর্কের ইতি টানেন তিনি।
২০০৮ সালে এপস্টেইনের সাজা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে গেটস বলেন, তিনি জানতেন এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অপরাধের রেকর্ড রয়েছে এবং সেটি যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত। তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি গভীরভাবে অনুসন্ধান করেননি। পরে তিনি স্বীকার করেন, তার আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।
গেটস আরও বলেন, এপস্টেইনের অপরাধমূলক অতীত সম্পর্কে জানলেও তিনি যে একজন তালিকাভুক্ত যৌন অপরাধী ছিলেন, সে তথ্য তার জানা ছিল না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এপস্টেইন কখনোই তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন না এবং তিনি কখনো এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে যাননি।
মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথাকথিত ‘এপস্টেইন ফাইলস’-এ বিল গেটসকে ঘিরে নতুন কিছু বিতর্কিত তথ্য সামনে এসেছে। প্রকাশিত একটি খসড়া ইমেইলে দেখা যায়, এপস্টেইন নিজের কাছেই এমন একটি বার্তা লিখেছিলেন, যেখানে গেটসের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কিছু দাবি করা হয়। সেখানে আরও উল্লেখ ছিল, গেটস নাকি কিছু ইমেইল মুছে ফেলার অনুরোধ করেছিলেন।
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন বিল গেটস। তিনি বলেন, নথিগুলো দেখে তার মনে হয়েছে, এপস্টেইন হয়তো তাকে ব্ল্যাকমেইল করার কিংবা অন্য কাউকে দিয়ে চাপ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে এসব বার্তা কখনো তার কাছে পাঠানো হয়নি এবং তিনি এপস্টেইনকে কোনো অর্থও দেননি।
ওভারসাইট কমিটি এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের সহযোগী লেসলি গ্রফের সাক্ষাৎকারের অনুলিপিও প্রকাশ করেছে। ২০০৭ সালের একটি অ-প্রসিকিউশন চুক্তিতে তাকে সম্ভাব্য সহ-ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তার বিরুদ্ধে কখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি।
গ্রফ দাবি করেন, তিনি এপস্টেইনের মূল অপরাধ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালের সাজা পাওয়ার পর এপস্টেইন তাকে বলেছিলেন যে তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন, আর সে সময় তিনি সেটিই বিশ্বাস করেছিলেন।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গ্রফ বলেন, সাজা হওয়ার পরও বহু পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিকে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে দেখেছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, বছরে কয়েকবার তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও এপস্টেইনের মধ্যে টেলিফোনে যোগাযোগ করিয়ে দিতেন।
যদিও এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট কোনো মামলায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি, তবুও তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা তৈরি হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
অন্যদিকে ট্রাম্প বরাবরই দাবি করে আসছেন, এপস্টেইনের মৃত্যুর বহু বছর আগেই তিনি তার সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন।
সূত্র: পলিটিকো

আপনার মতামত লিখুন