কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে হট্টগোল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) বিকেলে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে দেওয়া তার বক্তব্যের একাধিক অংশ নিয়ে বিরোধী সদস্যদের তীব্র আপত্তির মুখে সংসদ অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিতর্কিত মন্তব্যের একটি অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং সংসদ সদস্যদের শালীনতা ও সংসদের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানান।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে মনিরুল হক চৌধুরী একটি মামলার নথি ও বইয়ের উদ্ধৃতি টেনে অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিএনপি সরকার এবং তারেক রহমানকে খাটো করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতির কারণে তারেক রহমানের নামে মামলা হয়েছে, কিন্তু জাইমা রহমানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকলেও তাকে নিয়ে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে তদন্তের দাবি জানান এবং সরকারের কাছে বিচার চান।
তার বক্তব্যের পরপরই বিরোধী দলীয় সদস্যদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং সংসদে বাদানুবাদ শুরু হয়। পরবর্তী বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গ তুলে মনিরুল হক চৌধুরী দাবি করেন, ১৯৬৮ সালে গোলাম আযমের নেতৃত্বে ঢাকার আন্দোলনে তিনি অংশ নিয়েছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হরতাল কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
পরে তিনি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের একটি অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে মন্তব্য করেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে বোরকা পরিধান এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের বিষয় উল্লেখ করে করা তার মন্তব্যে বিরোধী সদস্যরা তীব্র আপত্তি জানান। একাধিক সংসদ সদস্য দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানালে অধিবেশন কক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হস্তক্ষেপ করেন। তিনি মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা-সংশ্লিষ্ট অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে সবার দায়িত্ব নিজেদের আচরণে মর্যাদা ও শালীনতা বজায় রাখা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যদি নিজেদের সম্মান ও সংসদের মর্যাদা রক্ষা করতে ব্যর্থ হন, তবে তা জাতির কাছেও বিব্রতকর হবে।
ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, জাতীয় সংসদ গণতান্ত্রিক চর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তাই ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে এমন মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। তার এই রুলিংয়ের পরও কিছু সময় সংসদে হট্টগোল অব্যাহত থাকলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ঘটনাটি সংসদীয় বিতর্কের সীমা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বক্তব্যের দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
#আর ইউ এস

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে হট্টগোল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) বিকেলে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে দেওয়া তার বক্তব্যের একাধিক অংশ নিয়ে বিরোধী সদস্যদের তীব্র আপত্তির মুখে সংসদ অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিতর্কিত মন্তব্যের একটি অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং সংসদ সদস্যদের শালীনতা ও সংসদের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানান।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে মনিরুল হক চৌধুরী একটি মামলার নথি ও বইয়ের উদ্ধৃতি টেনে অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিএনপি সরকার এবং তারেক রহমানকে খাটো করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতির কারণে তারেক রহমানের নামে মামলা হয়েছে, কিন্তু জাইমা রহমানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকলেও তাকে নিয়ে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে তদন্তের দাবি জানান এবং সরকারের কাছে বিচার চান।
তার বক্তব্যের পরপরই বিরোধী দলীয় সদস্যদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং সংসদে বাদানুবাদ শুরু হয়। পরবর্তী বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গ তুলে মনিরুল হক চৌধুরী দাবি করেন, ১৯৬৮ সালে গোলাম আযমের নেতৃত্বে ঢাকার আন্দোলনে তিনি অংশ নিয়েছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হরতাল কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
পরে তিনি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের একটি অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে মন্তব্য করেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে বোরকা পরিধান এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের বিষয় উল্লেখ করে করা তার মন্তব্যে বিরোধী সদস্যরা তীব্র আপত্তি জানান। একাধিক সংসদ সদস্য দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানালে অধিবেশন কক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হস্তক্ষেপ করেন। তিনি মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা-সংশ্লিষ্ট অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে সবার দায়িত্ব নিজেদের আচরণে মর্যাদা ও শালীনতা বজায় রাখা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যদি নিজেদের সম্মান ও সংসদের মর্যাদা রক্ষা করতে ব্যর্থ হন, তবে তা জাতির কাছেও বিব্রতকর হবে।
ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, জাতীয় সংসদ গণতান্ত্রিক চর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তাই ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে এমন মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। তার এই রুলিংয়ের পরও কিছু সময় সংসদে হট্টগোল অব্যাহত থাকলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ঘটনাটি সংসদীয় বিতর্কের সীমা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বক্তব্যের দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
#আর ইউ এস

আপনার মতামত লিখুন