শ্রীপুরে মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নে নাম পরিবর্তনের অভিযোগ
শ্রীপুরে মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নে নাম পরিবর্তনের অভিযোগ
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার লতিফপুর আশরাফুল উলুম আলিম মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নের জন্য বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো প্রস্তাবিত নাম পরিবর্তন করে নতুন একজনের নাম পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ রফি উদ্দিন স্বাক্ষরিত ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখের একটি চিঠিতে এডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নের জন্য আবদুল্লাহ হেল বাকী, পিতা—মোঃ আকতারুজ্জামান, মাতা—জাহানারা আকতার-এর নাম প্রস্তাব করে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী এডহক কমিটি গঠনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।তবে পরবর্তীতে ওই প্রস্তাবিত নাম বাদ দিয়ে অন্য একজনকে সভাপতি হিসেবে মনোনয়নের জন্য শিক্ষা বোর্ডে নতুন করে কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রথমে একজনের নাম প্রস্তাব করার পর পরবর্তীতে কী কারণে এবং কার নির্দেশে তা পরিবর্তন করা হলো—এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।এ বিষয়ে লতিফপুর আশরাফুল উলুম আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ রফি উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম তাকে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করে কাগজপত্র পাঠাতে বাধ্য করেছেন। তাঁর দাবি, প্রথমে নিয়ম অনুযায়ী আবদুল্লাহ হেল বাকীর নাম সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করে বোর্ডে চিঠি পাঠানো হলেও পরবর্তীতে চাপের কারণে নতুন কমিটি করে তা বোর্ডে পাঠানো হয়েছে।তবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের এ অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলামের বক্তব্য ভিন্ন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি এ ধরনের কোনো কমিটি করেননি কিংবা কাউকে নির্দেশও দেননি। তাঁর ভাষ্য, “আমি এরকমটি করি নাই। যেটা করেছে, এটা অধ্যক্ষ সাহেব নিজেই করেছেন। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।”অন্যদিকে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নাহিদ ভূঁঞা বলেন, শিক্ষা অফিসারের এ ধরনের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আইনগত বৈধতা নেই।এদিকে, প্রথমে আবদুল্লাহ হেল বাকীর নাম প্রস্তাব করে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে চিঠি পাঠানোর পর কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় নতুন ব্যক্তির নাম পাঠানো হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অভিযোগ, শিক্ষা অফিসারের বক্তব্য এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মন্তব্য—তিন পক্ষের বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নের প্রক্রিয়াটি নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে কি না এবং প্রস্তাবিত নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কার ভূমিকা ছিল—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।








