ধর্ম

পূজার আগে প্রতিমা ভাঙচুর ও মন্দিরে হামলার ৩৪ ঘটনা, দাবি পূজা পরিষদের

⎙ প্রিন্ট
পূজার আগে প্রতিমা ভাঙচুর ও মন্দিরে হামলার ৩৪ ঘটনা, দাবি পূজা পরিষদের

শারদীয় দুর্গাপূজার আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা ও সংশ্লিষ্ট সহিংসতার ৩৪টি ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা এ তথ্য জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার মধ্যে ১১টিতে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। সিলেট, রাজবাড়ী, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। সুনামগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, দোকান ও মন্দিরে হামলা এবং লুটপাটের অভিযোগও তুলে ধরা হয়।


পূজা পরিষদের হিসাবে, চলতি বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজার আয়োজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ২৫৮টি পূজামণ্ডপ রয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় তিনটি কম। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংগঠনটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটিগুলোকে ২২ দফা নির্দেশনা দিয়েছে। এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, প্রয়োজন অনুযায়ী সিসিটিভি স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দ্রুত প্রশাসনকে জানানো। পূজা পরিষদ বলেছে, উৎসবের কয়েক দিনের জন্য নয়, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে সারা বছর।

সংগঠনটি সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন এবং দুর্গাপূজায় তিন দিনের সরকারি ছুটিসহ আট দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দ এক কোটি টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে পূজা পরিষদের উপস্থাপিত ৩৪টি ঘটনার সব কটির পৃথক পুলিশি তদন্তের ফল সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের ধরন, দায়ী ব্যক্তিদের পরিচয় এবং বিচারিক অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রয়োজন। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা কমিটির সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সম্পর্কিত সংবাদ