ধর্ম

গোপালগঞ্জের ৫টি উপজেলায় ১ হাজার ২৮৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে,

প্রতিমা তৈরী পরিশ্রম বেশি টাকা কম, এ টাকায় এখোন আর সংসার চলে না,

⎙ প্রিন্ট
গোপালগঞ্জের ৫টি উপজেলায় ১ হাজার ২৮৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে,
গোপালগঞ্জের ৫টি উপজেলায় ১ হাজার ২৮৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে,


সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে গোপালগঞ্জ জেলার মন্দির ও পূজা মণ্ডপগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মণ্ডপের সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও নজরকাড়া প্রবেশপথ নির্মাণের কাজছাড়াও  দেবীর প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। স্থানীয় জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, এ বছর (২০২৬) গোপালগঞ্জ জেলার পাঁচটি উপজেলায় মোট ১ হাজার ২৮৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরমধ্যে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩৫০টি, কাশিয়ানীতে ২২৬টি, কোটালীপাড়ায় ৩১৫টি, মুকসুদপুরে ৩০৭টি এবং টুঙ্গিপাড়ায় ৯০টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পুরোদমে কাজ করছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবী পক্ষের সূচনা হয়। এ বছর ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে মর্তে আসবেন মহিষী-মর্দিনী। এরপর ১৫ অক্টোবর দেবীকে বোধনের মধ্য দিয়ে আহবান করা হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী, ১৭ ও ১৮ অক্টোবর সপ্তমী, ১৯ অক্টোবর অষ্টমী, ২০ অক্টোবর নবমী ও ২১ অক্টোবর দশমী বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয়া দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। নৌকায় চেপে কৈলাশে ফিরবেন দেবী ।গোপালগঞ্জ শহরের সিকদারপাড়ার বাজার যুব সংঘের দুর্গা মন্দিরের প্রতিমা তৈরি করছিলেন প্রকাশ দাসসহ তার সহকর্মীরা।প্রহল্লাদ বিশ্বাস নামে একজন শিল্পী বলেন, সাতক্ষীরা, খুলনা,বাগেরহাট, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার ৫টি পূজা মণ্ডপে ৫টি প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছি। একটি প্রতিমা তৈরিতে ১০ থেকে ১১ দিন সময় লাগে। আমিসহ ৬ জন কারিগর কাজ করছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিমা তৈরি শেষ করতে রাত জেগে হলেও কাজ করতে হচ্ছে। তিনি জানান, প্রতিমা তৈরির পর এক একটি প্রতিমায় রংতুলির আঁচড় দিতে দুই দিন করে সময় লাগে। প্রতিমা না শুকিয়ে রং তুলির কাজ করলে তা সুন্দর হয় না। এ কারণে পূজা শুরু হওয়ার ৮-১০ দিন আগেই প্রতিমার গায়ে মাটি লাগানোর কাজ শেষ করতে হয়। যে প্রতিমা যত বেশি শুকানো হবে, সেটি তত বেশি সুন্দর দেখা যাবে।আরেকজন শিল্পী উত্তম পাল বলেন, রং তুলি সহ অন্যান্য সামগ্রীর দাম বেড়েছে। কাজ করে, যা পাই তা দিয়ে সংসার চালানো কষ্টকর। তারপরও বাপ-দাদার পেশা ধরে রেখেছি। ১৬ বছর ধরে মায়ের মূর্তি তৈরি করে আসছি। এ পেশা আঁকড়েই বাঁচতে চাই।বাজার যুব সংঘের পূজা মণ্ডপের পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য দিলীপ কুমার সাহা দীপু বলেন, প্রতিমা তৈরি হয়েছে। এখন সাজসজ্জা- আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন গেটের ফ্রেমের কাজ চলছে। আমরা ১২ অক্টোবরের মধ্যে পূজার যাবতীয় কাজ শেষ করবো। আমরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ৫দিন দেবীর আরাধনা করবো।গোপালগঞ্জ শহরের খাটরা কালিবাড়ি কমিটির সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, মায়ের পূজা করে আমরা দুর্গতি নাশ চাই। অসূরের বিনাশ চাই। শুভ বুদ্ধির উদয় চাই। আমাদের প্রস্তুতি ভাল । সবার সহযোগিতায় আমরা উৎসব মুখর পরিবেশে পূজা আয়োজন ও উদযাপন করতে পারব।পূজা উদযাপন ফ্রন্টের গোপালগঞ্জ জেলা শাখার আহবায়ক অশোক বিশ্বাস বলেন, আমরা পূজা মণ্ডপ গুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছি। তাদের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরামর্শ দিচ্ছি। প্রশাসন ও আইন শৃংখলারক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করবো।গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, গোপালগঞ্জে এ বছর ১ হাজার ২৮৮ মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে মণ্ডপ প্রতি ৬শ কেজি চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। গোপালগঞ্জের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি সমুন্নত রয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনী কাজ করছে। আশা করছি উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উৎযাপিত হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ