শুক্রবার দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ জলিরপাড় গ্রামের লিয়াকত আলী খান ও শাহাদত শেখের বাড়িতে পৃথকভাবে এ চুরির ঘটনা ঘটে। দুই পরিবারের সদস্যরাই ওই সময় একটি দোয়া ও মিলাদের অনুষ্ঠানে বাড়ির বাইরে ছিলেন বলে জানা গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত লিয়াকত আলী খান জানান, ননীক্ষীর এলাকায় তাদের পুরোনো গ্রামের বাড়িতে দোয়া ও মিলাদের অনুষ্ঠান ছিল। পরিবারের সবাই সেখানে যাওয়ায় বাড়িটি ফাঁকা ছিল। এই সুযোগে চোরের দল দরজার তালা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে।
তিনি জানান, চোরেরা ঘরের আলমারির তালা ভেঙে স্বর্ণালংকার, বিদেশি হাতঘড়ি ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। তার দাবি, চুরি হওয়া জিনিসপত্রের মধ্যে প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ৩ লাখ টাকা রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে একই সময় শাহাদত শেখের বাড়িতেও চুরির ঘটনা ঘটে। সেখান থেকেও স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং দোকানে বিক্রির জন্য রাখা সিগারেট নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শাহাদত শেখ জানান, তিনিও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি মিলাদের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরে দেখেন ঘরের দরজা ভাঙা এবং ভেতরের ওয়ারড্রব তছনছ করা হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, চোরেরা প্রায় ১০ আনা ওজনের স্বর্ণের কানের দুল, দোকানের প্রায় ৩০ হাজার টাকার সিগারেট এবং নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে।
দুটি বাড়িতে একই সময়ে চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর ধারণা, বাড়িগুলো ফাঁকা থাকার তথ্য জানার পর পরিকল্পিতভাবে চোরেরা এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
ঘটনার খবর পেয়ে মুকসুদপুর উপজেলার সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে চুরির বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বসতবাড়িতে এ ধরনের চুরির ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।








