শনিবার (১০ অক্টোবর) তারিখে ভোরবেলায় সদর উপজেলার অন্তর্গত ফকিরের তকেয়া এলাকায়, যা বালাপাড়া ৩নং ওয়ার্ড নামে পরিচিত, সেখানকার কালভার্টের উপরিভাগে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয়। নিহত দুজন হলেন ওই অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দা ফজিলা বেগম এবং জহিলা বেগম।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায় যে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করে শনিবার ফজরের নামাজ শেষ করার পর ওই দুই নারী তাদের প্রতিদিনের অভ্যাস অনুযায়ী মহাসড়কের পাশ দিয়ে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। এই সময়ে রংপুর থেকে আসা বেপরোয়া গতিসম্পন্ন একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক তার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং তাঁদের উপর দিয়ে চলে যায়, যার ফলে তাঁরা চাপা পড়ে যান। এই ঘটনার ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁদের দুজনের মৃত্যু হয়।
এরপর স্থানীয় এলাকার লোকজন ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করে রেখে পুলিশকে বিষয়টি জানায়। নিহতদের সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দা কাউসার মাহমুদ জানান যে, ওই দুই নারী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। এদের মধ্যে একজন কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন এবং অপরজনের ডায়াবেটিস ছিল, আর এই কারণেই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে তাঁরা নিয়মিত সকালে হাঁটাহাঁটি করতেন। সড়কের এই করুণ দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি আরও জানান যে, রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কের এই নির্দিষ্ট অংশটি অত্যন্ত সরু।
এই সরু রাস্তার উপর দিয়েই ভারী যানবাহন চলাচল করে থাকে। রাস্তার সংকীর্ণতা এবং চালকদের বেপরোয়া গতির কারণেই এই স্থানে প্রতিনিয়ত এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই মহাসড়কটিতে গত দুই বছরের মধ্যে আজকের নিহত এই দুজনসহ মোট ৪৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, খবর পাওয়ার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল।
নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করার পর পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন জানানোর প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘাতক ট্রাকটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রক্ষিত আছে এবং এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।








