গলাচিপায় মাদ্রাসা সুপারের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন, অর্থ নেওয়ার অভিযোগ
মানববন্ধন ও চাকরির প্রলোভনে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার মধ্য পানপট্টি ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মুহা. মাকসুদুর রহমানের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা। মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত মানববন্ধনে সুপারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও চাকরির প্রলোভনে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ তুলে ধরে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, মাদ্রাসায় চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, কম্পিউটার পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে মোঃ মাসুম কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা এবং লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে আরেকজনের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চাকরি পাননি এবং অর্থও ফেরত পাননি বলে অভিযোগ করা হয়।বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা অনিয়ম রয়েছে। তাদের দাবি, রেজুলেশন বই, মুভমেন্ট রেজিস্টার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক নথি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। এছাড়া নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি, হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর এবং ছুটি গ্রহণের ক্ষেত্রেও বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তোলা হয়।মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি দল মাদ্রাসায় গেলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সদুত্তর দিতে পারিনি। এক পর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।মানববন্ধনের ব্যানার ও বক্তব্যে সুপারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে চাকরির প্রলোভনে অর্থ গ্রহণের মতো অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের আওতায় এনে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।এ সময় মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা। তাদের দাবি, নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদন থাকলেও এখন পর্যন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।মানববন্ধন থেকে মাদ্রাসার প্রশাসনিক কার্যক্রম, নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগ এবং কমিটি গঠন প্রক্রিয়া তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।








