সারাদেশ

বান্দরবানে অসহায় মাকে খাদ্য ও ব্যবসার মালামাল তুলে দিলেন আসিফ ইকবাল

⎙ প্রিন্ট
বান্দরবানে অসহায় মাকে খাদ্য ও ব্যবসার মালামাল তুলে দিলেন আসিফ ইকবাল
⌖ বান্দরবান সদর
ঘরে এক মুঠো চাল নেই, স্বামী বিছানায় ধুঁকছেন, আর প্রতিবন্ধী ছেলেটার মুখের দিকে তাকালে বুক ফেটে কান্না আসে—মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও আজ আমাদের পর। বান্দরবানের এক অসহায় পরিবারের নীরব কান্নার এমন মর্মান্তিক চিত্র সম্প্রতি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। চরম ক্ষুধা, দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তায় জর্জরিত এই দুর্গত পরিবারের স্থায়ী উপার্জনের ব্যবস্থা করতে দেবদূতের মতো পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি আসিফ ইকবাল।​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান সদরের এই পরিবারটির দিন কাটছিল অত্যন্ত মানবেতরভাবে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বাবা দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। অন্যদিকে, শারীরিক প্রতিবন্ধী একটি সন্তানকে দেখভাল করতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন তার মা। ঘরে খাবার তো দূরের কথা, মাথা গোঁজার মতো নিরাপদ একটি ছাদও তাদের নেই। অনাহার, অর্ধাহার আর রোদ-বৃষ্টির সঙ্গে লড়াই করতে করতে পরিবারটির বুকফাটা আর্তনাদ চার দেওয়ালের মাঝেই বন্দি ছিল।​অসহায় এই পরিবারের মানবেতর জীবনের খবর পেয়ে কালক্ষেপণ না করে ছুটে যান পিসিসিপি বান্দরবান জেলা সভাপতি আসিফ ইকবাল। তিনি কেবল তাৎক্ষণিক খাদ্যসামগ্রী দিয়েই ক্ষান্ত হননি; পরিবারটি যেন ভবিষ্যতে কারো করুণার পাত্র না হয়ে নিজে দাঁড়িয়ে চলতে পারে, সেজন্য তাদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল ও পুঁজি কিনে দেন।​এই মহৎ উদ্যোগ সম্পর্কে পিসিসিপি সভাপতি আসিফ ইকবাল বলেন, "শুধু কিছুদিনের চাল-ডাল দিয়ে সাময়িক সাহায্য করা যায়, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয় না। তাই ওই পরিবারটি যেন স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে এবং নিজেদের মেহনতে সংসার চালাতে পারে, সেজন্য আমরা তাদের ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল তুলে দিয়েছি। সমাজের বিত্তবানরা যদি এভাবে এগিয়ে আসেন, তবে কোনো মাকেই আর এমন অসহায়ত্বে দিন কাটাতে হবে না।"​ছাত্রনেতার এই সময়োপযোগী ও দূরদর্শী মানবিক উদ্যোগকে এলাকার সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল অত্যন্ত সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, আসিফ ইকবালের এই পদক্ষেপ সমাজে তরুণ সমাজ ও যুবকদের জন্য এক উজ্জ্বল মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সম্পর্কিত সংবাদ