মতামত

সরকারি হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রয়োজন সামান্য জনসচেতনতা

⎙ প্রিন্ট
সরকারি হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রয়োজন সামান্য জনসচেতনতা
⌖ সোনারগাঁ

বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সকরকারি হাসপাতালগুলো একটু বেশিই নোংরা থাকে। প্রাতিষ্ঠানিক অব্যবস্থাপনা, লোকবলের ঘাটতি এবং জবাবদিহিতার অভাবে সেবা প্রত্যাশীরা বেশিরভাগ সময়ই কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। যার ফলে প্রায়ই তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

তবে সরকারি হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলেও হাসপাতালের পরিবেশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে রোগী ও তাঁদের স্বজনদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হয়। শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ কিংবা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করলেই হবে না; পাশাপাশি হাসপাতাল ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করাও জরুরি।

এ ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাইলে কিছু কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। হাসপাতালের বিভিন্ন দেয়ালে সহজে দৃশ্যমান স্থানে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের করণীয় বিষয়গুলো পয়েন্ট আকারে কম্পিউটারে প্রিন্ট করে টাঙিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এতে হাসপাতালে আসা মানুষ সহজেই পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নিয়মগুলো জানতে পারবেন।

এ ছাড়া বহির্বিভাগে টিকিট সংগ্রহের জন্য অপেক্ষমাণ রোগীদের উদ্দেশে নির্ধারিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে হ্যান্ডমাইকে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা যেতে পারে। জনবল সংকট থাকলে রেকর্ডেড প্রচারণাও প্রচার করা যেতে পারে। হাসপাতালের প্রাঙ্গণ ও অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট বিরতিতে এমন বার্তা প্রচার করা হলে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতনতা কিছু হলেও বাড়বে।

বাজেট ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বিবেচনায় মাসে অন্তত একবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমেও জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো যেতে পারে। এর ফলে শুধু হাসপাতাল ব্যবহারকারী নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হবে।

রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সচেতন করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিচের নির্দেশনাগুলো প্রচার করতে পারে—

১. যেখানে-সেখানে খাবারের উচ্ছিষ্ট, কাগজ, প্লাস্টিক কিংবা অন্য কোনো আবর্জনা ফেলবেন না।

২. নির্ধারিত ডাস্টবিন ব্যবহার করুন। হাসপাতালের মেঝে, বিছানা ও শৌচাগার অযথা নোংরা করবেন না।

৩. শৌচাগার ব্যবহারের পর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন এবং সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৪. হাসপাতালের দেয়াল, বিছানা ও অন্যান্য সরঞ্জাম নোংরা বা ক্ষতিগ্রস্ত করবেন না।

৫. ব্যবহৃত ব্যান্ডেজ, চিকিৎসাসামগ্রী ও সংক্রামক বর্জ্য যত্রতত্র ফেলবেন না। নির্ধারিত নিয়মে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাছে বা নির্দিষ্ট স্থানে জমা দিন।

৬. কোথাও ময়লা জমে থাকতে দেখলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান।

মনে রাখতে হবে, সরকারি হাসপাতাল জনগণের সেবাপ্রতিষ্ঠান। এর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা যেমন কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব, তেমনি হাসপাতালের পরিবেশ পরিস্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখতে সহযোগিতা করা প্রত্যেক সেবাগ্রহীতার সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব।

মনে রাখবেন, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিকল্পিত জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হলে সরকারি হাসপাতালের পরিবেশ আরও পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও রোগীবান্ধব করে তোলা সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ, কর্মীদের দায়িত্বশীলতা এবং রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সচেতন অংশগ্রহণ।

সম্পর্কিত সংবাদ