অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগ কোনোভাবেই মনগড়া নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান সংস্থাটির সচিব সাইদুর রহমান খান। তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে পারস্পরিক আইনি সহায়তার (এমএলআর) মাধ্যমে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিদেশে তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে চিঠি পাঠানো হবে।
অনুসন্ধানের পরিধি ও নথিপত্র তলব গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ এনে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এর ধারাবাহিকতায় গত ৩ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত সব গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংগ্রহ করেছে দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বাধীন বিশেষ টিম।
এরপর গত রোববার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ঘুস, পদায়ন বাণিজ্য এবং বিদেশে অর্থ পাচারসহ নতুন একাধিক গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ যুক্ত করে পৃথকভাবে তা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।
পাঁচ দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ দুদকের নতুন অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, অবৈধ উপায়ে বিশ্বের পাঁচটি দেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এর মধ্যে দুবাইতে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাঠিয়ে বিলাসবহুল ভিলা ক্রয় ও ব্যবসায় বিনিয়োগ, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি টাকা, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি টাকা এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এছাড়া পর্তুগালে জমি ক্রয়ের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে দুদক। এই পুরো প্রক্রিয়ায় নিজ দুই বোনজামাই ও ভাগনিকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পদায়ন ও টেন্ডার বাণিজ্যের বিস্তর অভিযোগ দুদক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় সরকার খাতের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প (৩য় ধাপ) এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে শত শত কোটি টাকা অস্বাভাবিক ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে অনুসন্ধান টিম।
অভিযোগ অস্বীকার ও আসিফ মাহমুদের প্রতিক্রিয়া এদিকে দুদক সচিবের বক্তব্যের বিপরীতে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। গত রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, পাচারকৃত অর্থের অঙ্কে অমিল রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের আগে নিজেদের মধ্যে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। আওয়ামী আমলের দুর্নীতির বিচার বাদ দিয়ে দুদককে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
দুদকের অনুসন্ধান জালে আসিফ মাহমুদ ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন ও উপ-সচিব মো. মাসুম আহমেদসহ ডজনখানেক কর্মকর্তার নাম রয়েছে। দুদক জানিয়েছে, অনুসন্ধান ও তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর কমিশন পরবর্তী আইনি পদক্ষেপে যাবে।








