জাতীয়

রবীন্দ্রনাথের ‘বৃক্ষ বন্দনা’ অবলম্বনে আইজিসিসির আয়োজনে ‘ধরা তরু কাব্য’ পরিবেশন

প্রিন্ট
রবীন্দ্রনাথের ‘বৃক্ষ বন্দনা’ অবলম্বনে আইজিসিসির আয়োজনে ‘ধরা তরু কাব্য’ পরিবেশন
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকৃতিপ্রেম ও পরিবেশভাবনা অবলম্বনে ঢাকায় মঞ্চস্থ হলো বিশেষ নৃত্যনাট্য ‘ধরা তরু কাব্য নেচার’স টেল’। রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত কবিতা ‘বৃক্ষ বন্দনা’ থেকে অনুপ্রাণিত এই নৃত্যনাট্য প্রকৃতি, মানুষ ও পরিবেশের মধ্যকার চিরন্তন সম্পর্ককে নৃত্য ও নাট্যভাষায় তুলে ধরে।ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইজিসিসি) শুক্রবার রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে এ বিশেষ নৃত্যনাট্যের আয়োজন করে।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বাংলাদেশের বিস্তৃত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ও বিকাশে বাংলাদেশ সরকার বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ ও সহযোগিতা করে যাচ্ছে।অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং তা দুই দেশের অভিন্ন ঐতিহ্য, সাহিত্য ও প্রকৃতিপ্রেমের ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও তাকে সংরক্ষণের দায়িত্ব যে দুই দেশের মানুষের অভিন্ন—এই পরিবেশনা তা আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়।‘ধরা তরু কাব্য—নেচার’স টেল’ পরিবেশনায় রবীন্দ্রনাথের প্রকৃতির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ও তাঁর প্রকৃতিবিষয়ক দর্শনকে নৃত্য, সংগীত ও নাট্যাভিব্যক্তির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। বাংলার ছয় ঋতুর বৈচিত্র্যও পরিবেশনায় বিশেষভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। বসন্তের ফুলের সৌন্দর্য, গ্রীষ্মের তাপ, বর্ষার সজীবতা, শরতের প্রাচুর্য থেকে শুরু করে হেমন্তের আবহ ও শীতের স্থিরতা—প্রকৃতির এই বহুরূপী সৌন্দর্যকে নৃত্যভঙ্গিমায় উপস্থাপন করা হয়।পরিবেশনায় প্রকৃতির সৌন্দর্য ও প্রাণশক্তির পাশাপাশি তার সহনশীলতা এবং মানুষের জীবনের সঙ্গে প্রকৃতির গভীর বন্ধনও তুলে ধরা হয়। নৃত্য, সংগীত ও নাট্যাভিব্যক্তির সৃজনশীল সমন্বয়ে রবীন্দ্রনাথের প্রকৃতিপ্রেম এবং মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে সম্প্রীতির বার্তা দর্শকদের সামনে নতুন মাত্রায় উপস্থাপিত হয়।অনুষ্ঠানে পরিবেশনা করে তুরঙ্গমী রেপার্টরি ড্যান্স থিয়েটার। দলটির শিল্পনির্দেশক পূজা সেনগুপ্ত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে এমএস এবং কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃত্যে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৩ সালে ভারত সরকারের আইসিসিআর বৃত্তিতে তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃত্য বিষয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন।ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্য ভরতনাট্যমে প্রশিক্ষিত পূজা সেনগুপ্ত তাঁর স্বতন্ত্র শিল্পীসত্তা, সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং নৃত্যশিক্ষা নিয়ে গবেষণার জন্য পরিচিত। বাংলাদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক মঞ্চের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উৎসব ও সাংস্কৃতিক আয়োজনেও তিনি তাঁর নৃত্যকর্ম উপস্থাপন করেছেন।‘ধরা তরু কাব্য’ দর্শকদের সামনে রবীন্দ্রনাথের প্রকৃতিচিন্তার এক নান্দনিক ও সমকালীন ব্যাখ্যা তুলে ধরে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সমকালীন নৃত্যচর্চার বৈচিত্র্য, সৃজনশীলতা ও সম্ভাবনাকেও পরিবেশনাটি তুলে ধরে।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা, রবীন্দ্রসংগীতের বিশিষ্ট শিল্পী ও ব্যক্তিত্ব, খ্যাতিমান নৃত্যশিল্পী, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজন, ঢাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সংস্কৃতিপ্রেমী, শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত সংবাদ