সারাদেশ

৪২ প্রাণহানি, ঝুঁকিপূর্ণ লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে চার লেনের দাবি

সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটের অন্যতম প্রধান যোগাযোগপথ লালমনিরহাট–বুড়িমারী মহাসড়ক। বুড়িমারী স্থলবন্দরের মাধ্যমে ভারত, ভুটান ও নেপালের সঙ্গে পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও মাত্র ১৮ ফুট চওড়া এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

⎙ প্রিন্ট
৪২ প্রাণহানি, ঝুঁকিপূর্ণ লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে চার লেনের দাবি


সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটের অন্যতম প্রধান যোগাযোগপথ লালমনিরহাট–বুড়িমারী মহাসড়ক। বুড়িমারী স্থলবন্দরের মাধ্যমে ভারত, ভুটান ও নেপালের সঙ্গে পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও মাত্র ১৮ ফুট চওড়া এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

প্রতিদিন শত শত ভারী পণ্যবাহী ট্রাকসহ হাজারো যানবাহন চলাচল করছে এ মহাসড়কে। সরু সড়ক, বিপজ্জনক বাঁক, বেপরোয়া গতি এবং অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। ফলে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

প্রায় ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কের ওপর নির্ভরশীল লালমনিরহাট সদরসহ জেলার চারটি উপজেলা। বুড়িমারী স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন এ পথে অন্তত ৮০০ থেকে ১ হাজার ভারী পণ্যবাহী ট্রাক, শতাধিক বাস এবং প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করে।

মাত্র ১৮ ফুট চওড়া এই মহাসড়কে রয়েছে ৮৪টি বিপজ্জনক বাঁক। বিপুল যানবাহনের চাপ এবং সরু সড়কের কারণে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর বুড়িমারী দিয়ে প্রতিদিন ভারত ও ভুটান থেকে কোটি কোটি টাকার পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়। এসব পণ্য পরিবহনে ১০ থেকে ১৮ চাকার ভারী ট্রাকগুলোকে ব্যবহার করতে হয় এই মহাসড়ক।

ফলে বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। একই সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং যাতায়াতে সময়। এতে পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

লালমনিরহাট চেম্বার অব কমার্সের সহসভাপতি মজমুল হক প্রামানিক জানান, গত বছর ও চলতি বছরে এই সরু মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ৪২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন আরও অনেকে।

তিনি বলেন, প্রাণহানি কমানো, নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বাড়াতে লালমনিরহাট–বুড়িমারী মহাসড়ক দ্রুত চার লেনে উন্নীত করা জরুরি।

লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানও মহাসড়কটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “মহাসড়কটি অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।”

স্থানীয়দের দাবি, বুড়িমারী স্থলবন্দরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে মহাসড়কটির প্রশস্তকরণ ও চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক।

সম্পর্কিত সংবাদ