জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার বিস্তার, নদীভাঙন এবং খরার প্রবণতা ইতোমধ্যেই উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর মধ্যেই আবার সক্রিয় হয়েছে এল নিনো, যা দেশের আবহাওয়ার ওপর নতুন করে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেলে এল নিনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সাধারণত দুই থেকে সাত বছর অন্তর এ ঘটনা দেখা দেয় এবং এর প্রভাব এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
পরিবেশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান আহমেদের মতে, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির তুলনায় বাংলাদেশে তাপমাত্রা পরিবর্তনের মাত্রা আরও বেশি। বর্তমানে দেশে চার থেকে ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাব চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কৃষি, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান মল্লিক বলেন, দেশের তাপমাত্রা ইতোমধ্যে স্বাভাবিকের তুলনায় এক থেকে ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি রয়েছে। রাতের তাপমাত্রাও এক থেকে দুই ডিগ্রি বেশি। ফলে চলতি বর্ষা মৌসুমে উষ্ণ আবহাওয়া এবং তাপের তীব্র অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে।
তিনি আরও জানান, এল নিনোর প্রভাব দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল উভয় এলাকাতেই পড়বে। বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে বৃষ্টিপাত কম হলে খরার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি উপকূলীয় ও মূল ভূখণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে।
পরিবেশবিদরা মনে করছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। পুকুর সংরক্ষণ, খাল পুনরুদ্ধার এবং নদীদখল ও দূষণ রোধের মাধ্যমে জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে তারা ব্যক্তিপর্যায়েও সচেতনতা ও প্রস্তুতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বিষয় : এল নিনো

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার বিস্তার, নদীভাঙন এবং খরার প্রবণতা ইতোমধ্যেই উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর মধ্যেই আবার সক্রিয় হয়েছে এল নিনো, যা দেশের আবহাওয়ার ওপর নতুন করে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেলে এল নিনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সাধারণত দুই থেকে সাত বছর অন্তর এ ঘটনা দেখা দেয় এবং এর প্রভাব এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
পরিবেশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান আহমেদের মতে, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির তুলনায় বাংলাদেশে তাপমাত্রা পরিবর্তনের মাত্রা আরও বেশি। বর্তমানে দেশে চার থেকে ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাব চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কৃষি, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান মল্লিক বলেন, দেশের তাপমাত্রা ইতোমধ্যে স্বাভাবিকের তুলনায় এক থেকে ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি রয়েছে। রাতের তাপমাত্রাও এক থেকে দুই ডিগ্রি বেশি। ফলে চলতি বর্ষা মৌসুমে উষ্ণ আবহাওয়া এবং তাপের তীব্র অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে।
তিনি আরও জানান, এল নিনোর প্রভাব দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল উভয় এলাকাতেই পড়বে। বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে বৃষ্টিপাত কম হলে খরার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি উপকূলীয় ও মূল ভূখণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে।
পরিবেশবিদরা মনে করছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। পুকুর সংরক্ষণ, খাল পুনরুদ্ধার এবং নদীদখল ও দূষণ রোধের মাধ্যমে জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে তারা ব্যক্তিপর্যায়েও সচেতনতা ও প্রস্তুতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন