দেশের উত্তরাঞ্চলের সমতলভূমির চা শিল্পে আবারও ফিরতে শুরু করেছে আশার আলো। কয়েক বছর ধরে দাম পতন, বাজার সংকট ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপে হতাশায় থাকা চা-চাষিরা এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়া, পঞ্চগড়ে তৃতীয় চা নিলাম কেন্দ্র চালু, প্রশাসন ও বাংলাদেশ চা বোর্ডের তদারকি এবং উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে বদলে যেতে শুরু করেছে উত্তরাঞ্চলের চা শিল্পের চিত্র।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে দেশের মোট চা উৎপাদনের ২১ দশমিক ৩৩ শতাংশ এসেছে উত্তরাঞ্চলের সমতলভূমি থেকে। পাঁচ জেলায় উৎপাদিত হয়েছে ২ কোটি ২ লাখ ৪২ হাজার ৫২ কেজি চা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫৮ লাখ কেজি বেশি।
পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী ও লালমনিরহাট নিয়ে গড়ে ওঠা এই অঞ্চল এখন দেশের তৃতীয় বৃহত্তম চা অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। তবে উৎপাদনের হিসেবে উত্তরাঞ্চল বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
চা বোর্ড সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে দেশে মোট চা উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৯ কোটি ৪৯ লাখ কেজি। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চল একাই দিয়েছে ২ কোটির বেশি কেজি চা। ২০২১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে জাতীয় উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে এ অঞ্চল।
বর্তমানে উত্তরাঞ্চলে রয়েছে ১২টি নিবন্ধিত ও ১৮টি অনিবন্ধিত বড় চা-বাগান। পাশাপাশি ২ হাজার ২২৫টি নিবন্ধিত এবং ৬ হাজার ১৪৬টি অনিবন্ধিত ক্ষুদ্র চা-বাগান রয়েছে। চলতি বছরে চা চাষের আওতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৬০০ একরে।
২০২৩ সালে পঞ্চগড়ে দেশের তৃতীয় চা নিলাম কেন্দ্র চালুর পর বাজার ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসে। এখন সেখানে নিয়মিত সরাসরি নিলাম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলে ৫২টি চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব শিল্পকে ঘিরে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতি কেজি তৈরি চায়ের গড় মূল্য ছিল ২১৭ টাকা। আর ২০২৬ সালের প্রথম চারটি নিলামে সেই মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৮ টাকায়। চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিল সময়ে উৎপাদনও বেড়ে ৩৩ লাখ কেজিতে পৌঁছেছে।
চা-চাষিদের ভাষ্য, ২০২৩ সালে কাঁচা চা পাতার দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১২ টাকায় নেমে যাওয়ায় অনেকে চা চাষ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় নতুন করে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের মধ্যে।
পঞ্চগড় চা-বাগান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মানিক উদ্দিন বলেন, “কয়েক বছর খুব খারাপ সময় গেছে। এখন প্রশাসন ও চা বোর্ডের সহযোগিতায় আবারও চায়ের সুদিন ফিরছে।”
এস.আর

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
দেশের উত্তরাঞ্চলের সমতলভূমির চা শিল্পে আবারও ফিরতে শুরু করেছে আশার আলো। কয়েক বছর ধরে দাম পতন, বাজার সংকট ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপে হতাশায় থাকা চা-চাষিরা এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়া, পঞ্চগড়ে তৃতীয় চা নিলাম কেন্দ্র চালু, প্রশাসন ও বাংলাদেশ চা বোর্ডের তদারকি এবং উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে বদলে যেতে শুরু করেছে উত্তরাঞ্চলের চা শিল্পের চিত্র।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে দেশের মোট চা উৎপাদনের ২১ দশমিক ৩৩ শতাংশ এসেছে উত্তরাঞ্চলের সমতলভূমি থেকে। পাঁচ জেলায় উৎপাদিত হয়েছে ২ কোটি ২ লাখ ৪২ হাজার ৫২ কেজি চা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫৮ লাখ কেজি বেশি।
পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী ও লালমনিরহাট নিয়ে গড়ে ওঠা এই অঞ্চল এখন দেশের তৃতীয় বৃহত্তম চা অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। তবে উৎপাদনের হিসেবে উত্তরাঞ্চল বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
চা বোর্ড সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে দেশে মোট চা উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৯ কোটি ৪৯ লাখ কেজি। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চল একাই দিয়েছে ২ কোটির বেশি কেজি চা। ২০২১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে জাতীয় উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে এ অঞ্চল।
বর্তমানে উত্তরাঞ্চলে রয়েছে ১২টি নিবন্ধিত ও ১৮টি অনিবন্ধিত বড় চা-বাগান। পাশাপাশি ২ হাজার ২২৫টি নিবন্ধিত এবং ৬ হাজার ১৪৬টি অনিবন্ধিত ক্ষুদ্র চা-বাগান রয়েছে। চলতি বছরে চা চাষের আওতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৬০০ একরে।
২০২৩ সালে পঞ্চগড়ে দেশের তৃতীয় চা নিলাম কেন্দ্র চালুর পর বাজার ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসে। এখন সেখানে নিয়মিত সরাসরি নিলাম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলে ৫২টি চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব শিল্পকে ঘিরে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতি কেজি তৈরি চায়ের গড় মূল্য ছিল ২১৭ টাকা। আর ২০২৬ সালের প্রথম চারটি নিলামে সেই মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৮ টাকায়। চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিল সময়ে উৎপাদনও বেড়ে ৩৩ লাখ কেজিতে পৌঁছেছে।
চা-চাষিদের ভাষ্য, ২০২৩ সালে কাঁচা চা পাতার দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১২ টাকায় নেমে যাওয়ায় অনেকে চা চাষ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় নতুন করে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের মধ্যে।
পঞ্চগড় চা-বাগান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মানিক উদ্দিন বলেন, “কয়েক বছর খুব খারাপ সময় গেছে। এখন প্রশাসন ও চা বোর্ডের সহযোগিতায় আবারও চায়ের সুদিন ফিরছে।”
এস.আর

আপনার মতামত লিখুন