ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

দেশের ইতিহাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬

দেশের ইতিহাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। বুধবার রাত ৯টায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)। এর মধ্য দিয়ে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিমাণ।

এর আগে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড ছিল ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট। ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই সেই রেকর্ড গড়া হয়েছিল। প্রায় এক বছরের ব্যবধানে নতুন এ মাইলফলক অর্জন করল দেশের বিদ্যুৎ খাত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলমান তাপপ্রবাহ ও গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর আবাসিক খাতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র, ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে পিক লোড তৈরি হয়। সেই বাড়তি চাহিদা মেটাতেই বিদ্যুৎ উৎপাদন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের সবচেয়ে বড় অংশ আসে আবাসিক খাত থেকে। মোট ব্যবহারের প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ বিদ্যুৎ বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে ফ্যান, লাইট, ফ্রিজ, এসি ও দৈনন্দিন গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য।

অন্যদিকে শিল্প খাতেও বিদ্যুতের ব্যবহার ক্রমাগত বাড়ছে। দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ব্যয় হয় শিল্প কারখানায়। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, টেক্সটাইল, ভারী শিল্প ও উৎপাদনমুখী কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

বাণিজ্যিক খাতেও বিদ্যুতের বড় ব্যবহার রয়েছে। মার্কেট, শপিংমল, অফিস, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে মোট ব্যবহারের প্রায় ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ খরচ হয়। এছাড়া কৃষি, সেচ, রাস্তাঘাটের আলোকসজ্জা এবং অন্যান্য জনসেবামূলক কার্যক্রমেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। তবে বাস্তব উৎপাদন নির্ভর করে জ্বালানি সরবরাহ, কেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং চাহিদার ওঠানামার ওপর।

বিশ্লেষকরা বলছেন, উৎপাদনের নতুন রেকর্ড দেশের বিদ্যুৎ সক্ষমতার ইতিবাচক দিক তুলে ধরলেও চ্যালেঞ্জ এখন নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা। কারণ অনেক এলাকায় এখনো লোডশেডিং ও ভোল্টেজ ওঠানামার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ব্যয় বাড়াচ্ছে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র সংযোজন এবং সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আগের তুলনায় স্থিতিশীল হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় বিদ্যুৎ বিভাগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিষয় : বিদ্যুৎ

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


দেশের ইতিহাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। বুধবার রাত ৯টায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)। এর মধ্য দিয়ে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিমাণ।

এর আগে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড ছিল ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট। ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই সেই রেকর্ড গড়া হয়েছিল। প্রায় এক বছরের ব্যবধানে নতুন এ মাইলফলক অর্জন করল দেশের বিদ্যুৎ খাত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলমান তাপপ্রবাহ ও গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর আবাসিক খাতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র, ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে পিক লোড তৈরি হয়। সেই বাড়তি চাহিদা মেটাতেই বিদ্যুৎ উৎপাদন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের সবচেয়ে বড় অংশ আসে আবাসিক খাত থেকে। মোট ব্যবহারের প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ বিদ্যুৎ বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে ফ্যান, লাইট, ফ্রিজ, এসি ও দৈনন্দিন গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য।

অন্যদিকে শিল্প খাতেও বিদ্যুতের ব্যবহার ক্রমাগত বাড়ছে। দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ব্যয় হয় শিল্প কারখানায়। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, টেক্সটাইল, ভারী শিল্প ও উৎপাদনমুখী কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

বাণিজ্যিক খাতেও বিদ্যুতের বড় ব্যবহার রয়েছে। মার্কেট, শপিংমল, অফিস, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে মোট ব্যবহারের প্রায় ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ খরচ হয়। এছাড়া কৃষি, সেচ, রাস্তাঘাটের আলোকসজ্জা এবং অন্যান্য জনসেবামূলক কার্যক্রমেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। তবে বাস্তব উৎপাদন নির্ভর করে জ্বালানি সরবরাহ, কেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং চাহিদার ওঠানামার ওপর।

বিশ্লেষকরা বলছেন, উৎপাদনের নতুন রেকর্ড দেশের বিদ্যুৎ সক্ষমতার ইতিবাচক দিক তুলে ধরলেও চ্যালেঞ্জ এখন নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা। কারণ অনেক এলাকায় এখনো লোডশেডিং ও ভোল্টেজ ওঠানামার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ব্যয় বাড়াচ্ছে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র সংযোজন এবং সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আগের তুলনায় স্থিতিশীল হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় বিদ্যুৎ বিভাগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ