ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানার দোষ স্বীকার


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬

শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানার দোষ স্বীকার
ছবিঃ সংগ্রহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার নির্মম ঘটনায় গ্রেপ্তার মূল আসামি সোহেল রানা (৩০) আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

আজ বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে আসামি সোহেল রানা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আসামিকে আদালতে হাজির করে এই আবেদন জানান।

এদিকে, এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঢাকার অপর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালতে হাজির করা হলে, আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতে দাখিল করা পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত রামিসা আক্তার স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে নিজ ঘর থেকে বের হলে প্রতিবেশী আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে ফুঁসলিয়ে নিজের ফ্ল্যাটের ভেতর নিয়ে যায়।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার স্কুলে যাওয়ার সময় হলে তার পরিবার তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। কোথাও না পেয়ে একপর্যায়ে ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটের (আসামিদের ঘর) সামনে রামিসার জুতা পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা।

 জুতা দেখে সন্দেহ হওয়ায় রামিসার বাবা-মা ও প্রতিবেশীরা ওই ঘরের দরজায় ধাক্কাধাক্কি ও ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ঘরে ঢুকেই স্তব্ধ হয়ে যান সবাই। শয়নকক্ষের মেঝেতে পড়ে ছিল রামিসার মস্তকবিহীন রক্তাপ্লুত দেহ, আর ঘরের কোণে একটি বড় বালতির ভেতর রাখা ছিল তার বিচ্ছিন্ন মাথা।

ঘটনাস্থলেই দাঁড়িয়ে থাকা সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে রোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেয়। স্বপ্না জানায়, তার স্বামী সোহেল রানা নিজের হীন কামনা চরিতার্থ করার জন্য রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং পরে গলা কেটে হত্যা করে।

 তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, শিশুটিকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি পাষণ্ড সোহেল রানা। মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা কেটে ধড় থেকে আলাদা করা হয়। এছাড়া তার যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। পরে রক্তমাখা দেহ বাথরুম থেকে এনে শয়নকক্ষের খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয় এবং মাথাটি রাখা হয় বালতিতে।

এই বীভৎস কর্মকাণ্ডের পর ঘরের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় ঘাতক সোহেল রানা। পরে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার আদ্যোপান্ত স্বীকার করার পর আজ আদালতে হাজির করা হলে সে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।



এস.আর 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানার দোষ স্বীকার

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার নির্মম ঘটনায় গ্রেপ্তার মূল আসামি সোহেল রানা (৩০) আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

আজ বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে আসামি সোহেল রানা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আসামিকে আদালতে হাজির করে এই আবেদন জানান।

এদিকে, এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঢাকার অপর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালতে হাজির করা হলে, আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতে দাখিল করা পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত রামিসা আক্তার স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে নিজ ঘর থেকে বের হলে প্রতিবেশী আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে ফুঁসলিয়ে নিজের ফ্ল্যাটের ভেতর নিয়ে যায়।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার স্কুলে যাওয়ার সময় হলে তার পরিবার তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। কোথাও না পেয়ে একপর্যায়ে ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটের (আসামিদের ঘর) সামনে রামিসার জুতা পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা।

 জুতা দেখে সন্দেহ হওয়ায় রামিসার বাবা-মা ও প্রতিবেশীরা ওই ঘরের দরজায় ধাক্কাধাক্কি ও ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ঘরে ঢুকেই স্তব্ধ হয়ে যান সবাই। শয়নকক্ষের মেঝেতে পড়ে ছিল রামিসার মস্তকবিহীন রক্তাপ্লুত দেহ, আর ঘরের কোণে একটি বড় বালতির ভেতর রাখা ছিল তার বিচ্ছিন্ন মাথা।

ঘটনাস্থলেই দাঁড়িয়ে থাকা সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে রোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেয়। স্বপ্না জানায়, তার স্বামী সোহেল রানা নিজের হীন কামনা চরিতার্থ করার জন্য রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং পরে গলা কেটে হত্যা করে।

 তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, শিশুটিকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি পাষণ্ড সোহেল রানা। মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা কেটে ধড় থেকে আলাদা করা হয়। এছাড়া তার যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। পরে রক্তমাখা দেহ বাথরুম থেকে এনে শয়নকক্ষের খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয় এবং মাথাটি রাখা হয় বালতিতে।

এই বীভৎস কর্মকাণ্ডের পর ঘরের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় ঘাতক সোহেল রানা। পরে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার আদ্যোপান্ত স্বীকার করার পর আজ আদালতে হাজির করা হলে সে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।



এস.আর 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ